ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

এশিয়া

বর্মি নেতাদের মিথ্যার বহর

এএফপি

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০৭:০২


প্রিন্ট
বাংলাদেশের তীরে এসে ডুবে গেছে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা। এতে প্রাণ হারায় নাছির উদ্দিনের ৪০ দিন বয়সী শিশু। বাবার কোলে মৃত সন্তানের লাশ দেখে মায়ের আর্তনাদ

বাংলাদেশের তীরে এসে ডুবে গেছে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা। এতে প্রাণ হারায় নাছির উদ্দিনের ৪০ দিন বয়সী শিশু। বাবার কোলে মৃত সন্তানের লাশ দেখে মায়ের আর্তনাদ

বাংলাদেশের তীরে এসে ডুবে গেছে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা। এতে প্রাণ হারায় নাছির উদ্দিনের ৪০ দিন বয়সী শিশু। বাবার কোলে মৃত সন্তানের লাশ দেখে মায়ের আর্তনাদ : এএফপি
এবার জাতিসঙ্ঘে অং সান সু চির বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করলেন মিয়ানমারের প্রতিনিধি। জাতিসঙ্ঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির ভাষাতেই কথা বলেছেন দেশটির প্রতিনিধি ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিও। তিনি দাবি করেন পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে কোনো সহিংসতা হয়নি। 


জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া বক্তব্যে হেনরি ভ্যান থিও বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যের মুসলিমরা এখনো বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন, এ খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। কেন তারা বাংলাদেশে যাচ্ছেন, সেটা খুঁজে দেখা প্রয়োজন।’


ভাইস প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন, মিয়ানমার চেষ্টা করছে রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমানদের পরিস্থিতির উন্নতি করার। তিনি আরো বলেন, ‘সেখানে কয়েক দশক ধরে চলা অবিশ্বাস ধীরে ধীরে দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তার দাবি, গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা রাখাইন রাজ্যে দুই ডজনের বেশি পুলিশ ও সেনাক্যাম্পে হামলা চালায়। এ সময় ১২ নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। এর পরই বিদ্রোহীদের ধরার নামে মিয়ানমার সরকার ‘জাতিগত নিধন’ শুরু করে, যার পরিপ্রেেিত উদ্বাস্তু সঙ্কটের শুরু হয়। রোহিঙ্গারা রাখাইনে উগ্র বৌদ্ধদের নির্যাতনের শিকার, তাদের কোনো নাগরিকত্ব নেই, সরকার তাদের বাইরে থেকে আসা জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশহীন জনগোষ্ঠী এই রোহিঙ্গারা। 


রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নির্বিচারে পুরুষদের হত্যা করছে, নারীদের ধর্ষণ করছে। গ্রামের পর গ্রাম আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এ নিয়ে সারা বিশ্বে সমালোচনার মুখে পড়ে মিয়ানমার সরকার। দেশটির নেত্রী অং সান সু চি নির্ধারিত জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু জাতিসঙ্ঘের অধিবেশন যে দিন শুরু হয়, সেদিন তিনি রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন।


বক্তব্যে সু চি বলেন, ‘আমরা রাজ্যে (রাখাইন) শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।’ সু চির ভাষ্য, বহু মুসলিম (রোহিঙ্গা বলেননি এবং হিন্দুও উচ্চারণ করেননি) পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছেন এবং তারা চান এর কারণ অনুসন্ধান করতে। যারা পালিয়েছেন, তাদের সাথে কথা বলতে চান এবং যারা থেকেছেন, তাদের সাথেও কথা বলতে চান। একই কথা জাতিসঙ্ঘে বলেন সু চির প্রতিনিধি দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিও। তিনিও ভাষণের সময় ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। মিয়ানমার জাতিসঙ্ঘকে জোর দিয়ে বোঝাতে চেয়েছে যে, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তীব্র আন্তর্জাতিক সমালোচনার পর এখন মিয়ানমারের প থেকে বলা হচ্ছে, রাখাইনে সঙ্কট কমছে। বুধবার দেশটির দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিও জাতিসঙ্ঘে এ কথা জোর দিয়ে বলেন। 


আরো ৩ কোটি ডলার সহায়তা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাতিসঙ্ঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর গঠিত তহবিলে আরো তিন কোটি ২০ লাখ ডলার সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ ২৬২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। রোহিঙ্গাদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন যথাযথ পদপে নেয়নি এমন সমালোচনার পর এ বাড়তি সহায়তার ঘোষণা এলো। এ নিয়ে মোট ৯৫ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তার ঘোষণা এলো যুক্তরাষ্ট্রের প থেকে। যার পরিমাণ ৭৭৮ কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ টাকা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, ইউনিসেফ ও জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের তহবিলে যুক্ত হবে।


এর আগে বুধবার এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে দৃঢ় ও দ্রুত পদপে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে জনসংখ্যা, উদ্বাস্তু ও অভিবাসনবিষয়ক দফতরের ভারপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী সাইমন হেনশ বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের পাশে আছে এবং এ অবস্থান পরিবর্তন হয়নি।


এ দিকে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের সমালোচনা করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স বলেছিলেন, সংস্থাটি এ নামে উপযুক্ত নয়। কারণ এতে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী অনেক দেশকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এর আগে রাখাইন রাজ্যের মানবিক সঙ্কট নিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। গত মঙ্গলবার তিনি এ আহ্বান জানান। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, টিলারসন তিগ্রস্ত এলাকায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় সহযোগিতার জন্যও মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫