ঢাকা, মঙ্গলবার,১৭ অক্টোবর ২০১৭

ইসলামী দিগন্ত

পর্দা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে

হাবীবুল্লাহ সিরাজ

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

পর্দা ইসলামের অন্যতম একটি বিধান। পর্দা পালনে নারী-পুরুষ উভয়েরই রয়েছে বিরাট সফলতা। পর্দা পালনে অনীহায় রয়েছে অসংখ্য ক্ষতি। আজকের সমাজে তা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর প্রয়োজনে আছে বলে মনে করি না। বর্তমান সমাজে দেখা যায়, অনেকে পর্দাকে প্রথা বলে। প্রথা হিসেবে চালিয়ে দেয়। কথায় কথায় বলে পর্দাপ্রথা নানী-দাদীদের যুগের বিষয়। বর্তমানে পর্দা নি®প্রয়োজন। তাদের জ্ঞাতার্থে বলি, পর্দাপ্রথা নয়; সুস্পষ্ট বিধান। শরিয়তের বিধান। অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত ফরজ বিধান। নামাজ-রোজার মতো ফরজ বিধান। নামাজ-রোজাকে যেমন প্রথা বলা যাবে না, তেমনি পর্দাকেও প্রথা বলা যাবে না। প্রথা আর বিধানের মধ্যে বিস্তর ফারাক। প্রথা বলা হয় কোনো মানুষ বা কোনো সম্প্রদায় যা চালু করে, প্রচার করে, নীতি হিসেবে নির্ধারণ করে; যুগ-সমাজ যেটার প্রচলন ঘটায়। আর বিধান হলো ধর্মীয় আদেশ-নিষেধ, যা আল্লাহর তরফ থেকে এসেছে। কোনো বিধানকে প্রথা বললে সেটি হালকা ও গুরুত্বহীন মনে হয়। সুতরাং কোনোভাবে কোনো অবস্থাতেই বিধানকে প্রথা বলা যাবে না। পর্দা পালন আর না পালন নিজস্ব বিষয়। তবে অবজ্ঞা করে পর্দাকে প্রথা বলা মানানসই নয়, এটা নেহায়েত ভুল; মারাত্মক অন্যায়।
বিধান রচনা বা তৈরির ক্ষমতা বান্দার নেই। করলেও তা কোনো না কোনো সময় প্রশ্নের সম্মুখীন বা অকেজো হয়ে পড়বে। বিধান রচনায় অনাগত ভবিষ্যতের বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হয়। আর বান্দার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইলম নেই। পক্ষান্তরে আল্লাহর ভবিষ্যতের ইলম আছে তিনি আলিমুল গায়েব। সুতরাং বিধান রচনার একচ্ছত্র অধিকার একমাত্র আল্লাহর। এ রকম আরো বহু দিক রয়েছে।
আমরা এখানে কুরআন ও হাদিস থেকে পর্দার গুরুত্ব ও বিধান হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরছি। আশা করি, সবাই পর্দা বিধান হওয়া ও তার গুরুত্ব অনুধাবনে সক্ষম হবো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তৌফিক দান করুন। আমীন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, আপনি ঈমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন দৃষ্টি অবনত রাখে, তাদের লজ্জাস্থানের সঠিক হেফাজত করে। সাধারণ প্রকাশমান ছাড়া তাদের রূপ-লাবণ্য আকর্ষণ প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের রূপ-লাবণ্য স্বীয় স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতৃúুত্র, ভগ্নিপুত্র, আপন নারীগণ, নিজের দাসী, যৌনলুপ্ত পুরুষ এবং নারীদের গোপনাঙ্গ সম্পর্কে অনবগত বালক ছাড়া প্রকাশ না করে। (সূরা নূর-৩১)।
আল্লাহ বলেন, বৃদ্ধ নারী যারা বিয়ের আশা রাখে না, তাদের জন্য এটা অপরাধ নয় যে, তারা তাদের রূপ-লাবণ্য প্রকাশ না করে কাপড় খোলা রাখে। তবে এর থেকে বিরত থাকাই উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাত। (সূরা নূর : ৬০)।
আল্লাহ বলেন, হে নবী তোমার স্ত্রী, কন্যাদের ও মুসলিম রমণীদের বলো, তারা যেন তাদের জলবাব (চাদর বা ওড়না) কিয়দংশ নিজের ওপর টেনে দেয়। এতে করে এদের চেনা সহজতর হবে (এরা ভদ্র)। ফলে তাদের কেউ জ্বালাতন করবে না, ইভটিজিংয়ের শিকার হবে না। (সূরা আহজাব-৫৯)।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান করো। জাহেলি যুগের মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না। (সূরা আহজাব : ৩৩)।
হাদিসে রাসূল থেকে পর্দাÑ হজরত উমর রা: রাসূল সা:কে বললেন, আপনি আপনার স্ত্রীদের পর্দার কথা বলুন। হজরত আয়েশা রা: বলেন, তখন আল্লাহ পাক পর্দার আয়াত নাজিল করেন। (বুখারি, মুসলিম)।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেন, নারী হলো পর্দানশীল। (সুনানু তিরমিজি)।
রাসূল সা: ইরশাদ করেন, কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করে। আর কোনো নারী যেন কোনো মাহরাম ছাড়া একাকী ভ্রমণ না করে। এ কথা শুনে এক সাহাবি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সা:, আমি অমুক অমুক যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি। এ দিক দিয়ে আমার স্ত্রী হজের সফরে বের হয়েছে। রাসূল সা: এ কথা শুনে বললেন, যাও হজে তোমার স্ত্রীর সাথে থাকো। (বুখারি)।
উল্লিখিত কুরআন-হাদিসের আলোকে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, পর্দা ইসলামের শাশ্বত বিধান, অকাট্য ও ফরজ বিধান, তাই কোনো ভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। সহজ করে দেখারও কোনো বিষয় নয়। ‘প্রথা’ বলে খাটো করার সুযোগ নেই। তাই সবার উচিত পর্দাকে পর্দা হিসেবেই দেখা এবং বিধানরূপে রাখা।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫