ঢাকা, মঙ্গলবার,১৭ অক্টোবর ২০১৭

ক্রিকেট

মুশফিক-মুমিনুলের জোড়া হাফসেঞ্চুরি, ভালো অবস্থায় বাংলাদেশ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:৪২ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:০৫


প্রিন্ট
মুশফিক-মুমিনুলের জোড়া হাফসেঞ্চুরি, ভালো অবস্থায় বাংলাদেশ

মুশফিক-মুমিনুলের জোড়া হাফসেঞ্চুরি, ভালো অবস্থায় বাংলাদেশ

মুশফিকুর রহীম এবং মুমিনুল হকের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ৫৬ এবং মুশফিকুর রহীম ৫০ রানে ক্রিজে রয়েছে। বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৯১ রান।

দারুণ সূচনা করেছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার এবং বাংলাদেশের। পঞ্চম ওভারে তিনি আহত হয়ে ফিরে গেছেন। তিনি ১৩ বল খেলে ১টি চারসহ ৫ রান করেছিলেন। এরপর ইমরুল কায়েস ৩৪ এবং সৌম্য সরকার ৪৩ রান করে বিদায় নেন।

বেনোনিতে সিএসএ একাদশের বিরুদ্ধে তিন দিনের ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। আগামী বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট ম্যাচে খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

প্রস্তুতি ম্যাচের আগে যা বললেন মুশফিক
পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছে বাংলাদেশ। আসল লড়াইয়ের আগে আজ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে মুশফিকবাহিনী। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় বেনোনির উইলোমুর পার্ক স্টেডিয়ামে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে লড়াই করবে টাইগাররা। ম্যাচের আগে মুশফিক জানিয়েছেন নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে চান। টেস্ট অধিনায়ক বলেন, “আমি মনে করি, এটা আমাদের একটা সেরা সিরিজ হবে। আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে চাই।”

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশকে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করছেন মুশফিক। দেশের মাটিতে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে আসছে বাংলাদেশ। মুশফিক চান দেশের বাইরেও এ ধারাবাহিকতা আনতে। জানিয়েছেন ভালো পারফরম্যান্স করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সবাই।

আশাবাদী মুশফিক বলেন, “গত দু-তিন বছর ধরে আমরা সব ফরম্যাটেই আমরা ভালো খেলছি। দেশের মাটিতে এখন আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী দল। কিছুদিন আগে টেস্টে আমরা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছি। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে কাজটা আমাদের জন্য সহজ হবে না। তারপরও আমি মনে করি, আমরা নিজেদেরকে তুলে ধরতে পারবো। দলের সবার মধ্যে আত্মবিশ্বাস রয়েছে।”
দেশের বাইরে সর্বশেষ টেস্টের স্মৃতি বাংলাদেশের জন্য সুখকর। মার্চ মাসে শ্রীলঙ্কার মাটিতে নিজেদের শততম টেস্টে জয় পেয়েছি বাংলাদেশ। মুশফিক চান দক্ষিণ আফ্রিকাতেও ভালো করতে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে খেলাটা একটা দারুণ অভিজ্ঞতা হবে বলে মনে করেন তিনি। নিজেদের ঘরের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন মুশফিক।
কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে প্রস্তুতি ম্যাচটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে দুই দলের মধ্যকার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।

তিন দিনের এ ম্যাচটি বাংলাদেশের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শ্রীলঙ্কা ও হোমের কন্ডিশন অনেকটা এক রকম। এখানে খেলে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেয়া একটু কষ্টসাধ্য ব্যাপারই। তবে বাংলাদেশ বরং হোমের চেয়ে অ্যাওয়েতেই খেলে ভালো। নিউজিল্যান্ড সফর যার বড় উদাহরণ। ওয়েলিংটনে প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রান করে ইনিংস ডিকেয়ার করেছিলেন মুশফিক। সে দলটাই তো। ফাস্ট ও বাউন্সি উইকেটেও মানিয়ে নিতে সক্ষম বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

আসলে প্রফেশনাল ক্রিকেটারদের ধরনই এমন। তবে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা হোমের স্পিনিং উইকেটের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ফাস্ট উইকেটে। যেখানে বল উইকেট থেকে ব্যাটে আসে দ্রুত এবং যা একটু দেখে শুনে খেললে ভালো করা সম্ভব। নিউজিল্যান্ডে সাকিব ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। মুশফিকুর রহীমও বড় এক ইনিংস খেলেছিলেন। সাকিব নেই স্কোয়াডে। কিন্তু যারা রয়েছেন তাদের সবার পক্ষেই বড় ইনিংস খেলা সম্ভব। সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল, মাহমুদুল্লাহর সাথে তামিম তো এমন কন্ডিশনে পরীক্ষিত। ফলে ভালো কিছু পারফরম্যান্সের অপেক্ষাতে মুশফিকরা।

মূলত আজকের প্র্যাকটিস ম্যাচের মাধ্যমে নিজেদের ভুলগুলো বা টেকনিকগুলো আয়ত্তে আনার পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো সেরে নেবেন। দলের সাথে অভিজ্ঞ কোচিং স্টাফ রয়েছেন। বিশেষ করে হাতুরাসিংহে, কোর্টনি ওয়ালশ প্রমুখ। প্রতিটা ডিপার্টমেন্টেই তারা ক্রিকেটারদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন সব। তা ছাড়া বাংলাদেশের যে দল রয়েছে এখন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে- এদের মধ্যেও রয়েছে প্রচণ্ড প্রতিযোগিতা। পারফরম্যান্স না করলে দল থেকে বাদ পড়ার একটা খড়গ অনেক ক্রিকেটারেরই মাথার ওপর ঝুলছে। ফলে পরিশ্রম করে ভালো খেলার জন্য সেটাও একটা বড় কারণ থাকবে দলের।
প্রস্তুতি ম্যাচ তো প্রস্তুতি ম্যাচ। দলের সবাই ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাবেন পর্যায়ক্রমে। বোলাররাও ধারাবাহিকভাবে সুযোগ পাবেন বোলিংয়ে। এটা এ সিরিজ শুরুর আগে অনেক উপকার দেবে বৈকি যা প্রচণ্ডরকম মিস করবেন পেসার রুবেল হোসেন। এখনো যিনি লড়াই করছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছার জন্য। বিসিবি প্রোটিয়া ক্রিকেট বোর্ডের মাধ্যমে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে তাকে ইন করানো যায় সেখানে। কারণ রুবেল যদি শেষ পর্যন্ত ঢুকতেই না পারেন, এটা হবে তার ক্যারিয়ার ও বাংলাদেশের জন্য প্রেস্টিজিয়াস একটা বিষয়।

একটা টিমকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সেখানকার একজন সম্মানিত সদস্যকে উপেক্ষা করা এটা স্বাভাবিক ভদ্রতার মধ্যে পড়ে না। অবশ্যই সে দেশের আইনকে শ্রদ্ধা করছে বাংলাদেশ। তাদের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কারণ দেশের নিরাপত্তার বিষয়। কিন্তু সেটা বজায় রাখতে গিয়ে এমন কিছু করা যাবে না যাতে নিরীহ মানুষ বা অতিথি ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। যদিও এটা নিয়ে দুই বোর্ড লড়ছে। তবে যত দ্রুত এর মীমাংসা হবে ততই মঙ্গল। কারণ দ্রুত দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছানো প্রয়োজন রুবেলের। ইতোমধ্যে তো মিস হয়ে গেল তার সে কন্ডিশনের অনুশীলন ও আজ থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের ম্যাচ। এ গ্যাপ তো ব্যক্তি রুবেলের পক্ষে কাভার করা মুশকিল হয়ে যাবে তার।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫