ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাবে উত্তর কোরিয়া : ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বুধবার, ০৬:৩৮


প্রিন্ট
মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাবে উত্তর কোরিয়া : ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাবে উত্তর কোরিয়া : ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

উত্তর কোরিয়ার সর্বাধিনায়ক কিম জং-উনকে ‘রকেট ম্যান’ হিসেবে কটাক্ষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিলেন, আমেরিকা চাইলে উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারে।

সম্প্রতি, জাপানের ওপর দিয়ে মিসাইল পরীক্ষা করেছে উত্তর কোরিয়া। তার কয়েক দিন আগে হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার এই আগ্রাসী মনোভাবকে তীব্র সমালোচনা করেছে বহু দেশ। এদিন ট্রাম্প হাবভাবে বুঝিয়ে দেন, সব বিকল্প খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথমবার জাতিসঙ্ঘ সাধারণ সভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে কোরিয়া ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণ করে তিনি জানান, বিশ্বের কোনো দেশ অপরাধীদের এই গোষ্ঠীর হাতে পরমাণু অস্ত্র দেখতে চায় না।

ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শক্তি ও সহ্যক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু, যদি নিজেকে বা মিত্র-রাষ্ট্রকে বাঁচাতে হয়, তাহলে উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। নিজের ও দেশের জন্য আত্মঘাতী প্রমাণিত হচ্ছেন ‘রকেট ম্যান’।

তিনি যোগ করেন, (উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করতে) আমেরিকা তৈরি, সক্ষম এবং ইচ্ছুক। কিন্তু, জাতিসঙ্ঘ রয়েছে। এখন দেখার তারা এই নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে দুটি নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে (১৫-০ ব্যবধানে) পাশ করে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ।

এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার জন্য চীন ও রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়া যদি নিজেদর প্রতিকূল গতিবিধি না পাল্টায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

গোপনে নতুন পরমাণু অস্ত্র বানাচ্ছে উ. কোরিয়া!

উত্তর কোরিয়া গোপনে পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ তৈরি করছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এটি নির্মাণের কাজ শেষ হবে বলে দেশটি প্রত্যাশা করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি তথ্যাভিজ্ঞ মহলের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে জাপানি দৈনিক সেকাই নিপ্পো। সূত্রটি উত্তর কোরিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিচিত বলেও দাবি করেছে দৈনিকটি।
খবরে আরো দাবি করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার নাম্পো ন্যাভাল শিপইয়ার্ডে এটি নির্মাণে একযোগে সহায়তা করছে চীন ও রাশিয়ার প্রকৌশলীরা।

ডিজেল-বিদ্যুতের চেয়ে পরমাণু ডুবোজাহাজ নির্মাণের কাজ তুলনামূলকভাবে জটিল ও ব্যয় বহুল। অবশ্য পরমাণু ডুবোজাহাজের গতি অনেক বেশি হয়। সাগর তলে প্রায় অনির্দিষ্টকাল ওঁত পেতে বসে থাকতে পারে। জ্বালানির জন্য পানির ওপর ওঠার কোনো প্রয়োজন না থাকায় এমনটি সম্ভব হয়। এ ছাড়া, এ ধরণের ডুবোজাহাজ দিয়ে চালানো যায় বহুমুখী ও বিস্তৃত তৎপরতা।

পরমাণু ডুবোজাহাজ সাধারণভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত হয়ে থাকে। ভূমিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে তুলনামূলক সংগোপনে ও নিঃশব্দে এ অস্ত্র পানির তল থেকে ছোঁড়া যায়। পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দিনের পর দিন জোরদার হয়ে উঠছে। এ ছাড়া, দেশটি ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ছয় দফা ডুবোজাহাজ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।
উত্তর কোরিয়া বহরে ৫০ থেকে ৬০টি ডিজেল-বিদ্যুৎ চালিত ডুবোজাহাজ রয়েছে। পরমাণু ডুবোজাহাজ যোগ হলে তাতে নৌবহরের সক্ষমতা নিঃসন্দেহে এক লাফে বহুদূর এগিয়ে যাবে।

যত বেশি নিষেধাজ্ঞা পরমাণু কর্মসূচি তত জোরদার হবে : উ. কোরিয়া
উত্তর কোরিয়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, দেশটির বিরুদ্ধে যত বেশি নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ করা হবে পিয়ংইয়ং-এর পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি তত বেশি জোরদার করা হবে।
আজ মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া এক কঠোর বিবৃতিতে জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে সর্বশেষ আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ, অনৈতিক ও অমানবিক’ বলে উল্লেখ করেছে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিটি সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়েছে, আমেরিকা ও তার মিত্ররা উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও চাপ প্রয়োগেরে যে নীতি গ্রহণ করেছে তার ফলে পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি আরো জোরদার হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তার উদ্দেশ্য উত্তর কোরিয়ার জনগণ ও সরকারকে ‘সত্যিকার অর্থে ধ্বংস’ করে ফেলা।

এর আগে শনিবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন বলেছিলেন, সামরিক শক্তিতে তার দেশ আমেরিকার সমঅবস্থায় পৌঁছাতে চায়।

গত শুক্রবার উত্তর কোরিয়া জাপানের উপর দিয়ে একটি মধ্যমপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩,৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রশান্ত সাগরে গিয়ে পড়ে। প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুয়াম যে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় সে বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে আমেরিকার আনা একটি প্রস্তাব পাস হয় যার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫