ঢাকা, মঙ্গলবার,১৭ অক্টোবর ২০১৭

নগর মহানগর

টিআইবির আন্তর্জাতিক সংলাপ

জলবায়ু অর্থায়নে চাহিদা ও সরবরাহে স্বচ্ছতা দরকার

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বুধবার, ০০:০০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বুধবার, ০০:৫৫


প্রিন্ট

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় তহবিল প্রদান ও তার ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নাগরিক অংশগ্রহণ ও শুদ্ধাচার নিশ্চিতে দক্ষিণ এশিয়ার সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে সামষ্টিক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় সমবেত দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রয়োজন পূরণে জলবায়ু অর্থায়নের অধীন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে এ অঞ্চলের সরকারগুলোর চলমান উন্নয়ন কর্মসূচির মূলধারায় অভিযোজনকে অবশ্যই সন্নিবেশ করতে হবে। জলবায়ু অর্থায়নে চাহিদা ও সরবরাহ উভয় প্রান্তেই স্বচ্ছতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৮-১৯ সেপ্টেম্বর ‘জলবায়ু পরিবর্তনে অভিযোজন তহবিল-২: জলবায়ু অর্থায়ন ও সুশাসন বিষয়ে ইন্টেগ্রিটি ডায়ালগ’ শিরোনামে দুই দিনব্যাপী এ সংলাপে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপ, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ থেকে বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিতকরণ ও জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের আলোকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ১৩ ও প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে আঞ্চলিক প্রচেষ্টার সম্ভাব্য ক্ষেত্র ও উপায় অনুসন্ধান করাই ছিল এ সংলাপ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় গতকাল সংলাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের উপমহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।
বক্তব্য রাখেন ডিএফআইডি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সুশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও সুশাসন বিষয়ক দলনেতা আইসলিন বেকার, টিআইবির উপদেষ্টা, নির্বাহী ব্যবস্থাপনা প্রফেসর ড. সুমাইয়া খায়ের। বিভিন্ন পর্বে বক্তব্য রাখেন ভারতের জলবায়ু অর্থায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান সন্দীপ রায় চৌধুরী, নর্থ-সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের ড. মিজান আর খান, কাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক দক্ষিণ এশিয়ার প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী সন্তোষ পাটনায়েক, বিসিএএসের নির্বাহী পরিচালক ড. এ আতিক রহমান, নেপালের সুনীল আচারী, সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্কের নেপালের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. মানি নেপাল, বিআইডিএসের ড. এম আসাদুজ্জামান, নেদারল্যান্ডসের ইয়ান টেলান, মালদ্বীপের সাজিয়া আলী প্রমুখ।
বিশেষজ্ঞ বক্তারা বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের প্রকল্প বাস্তবায়নে ও শুদ্ধাচার অনুশীলন চর্চা অর্থদাতা ও অর্থগ্রহীতা উভয়েরই জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বেসরকারি খাতকে এসব প্রকল্পে কিভাবে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে উপায় খুঁজে বের করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুবিধার্থে অভিযোজন অর্থায়নে স্বচ্ছতা জোরদারকরণে সমতা, অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা ও মালিকানাই মূলÑ এই নীতিতে সব বক্তা একমত পোষণ করেন।
তারা বলেন, অভিযোজন কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার যোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের উপায় বের করতে হবে। অভিযোজন প্রচেষ্টাকে সমগ্র বিশে^র জন্য কল্যাণকর বিবেচনা করার আহ্বান জানান তারা। জলবায়ু অর্থায়নের টেকসই মূল্যায়নের জন্য শুধু অনুদানের ওপর গুরুত্বারোপ না করে বিভিন্ন বিকল্প উপায় অনুসন্ধান করা দরকার। এসব দেশে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে জ্বালানিদক্ষ উৎপাদন ও ভোগ বৃদ্ধিতে প্রণোদনাভিত্তিক নীতিকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
আইসলিন বেকার বলেন, জলবায়ু বিবর্তনের সঙ্কট মোকাবেলায় বৈশ্বিক অঙ্গীকারের প্রতি যুক্তরাজ্য শ্রদ্ধাশীল হয়ে ২০১৬-২১ পর্যন্ত ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। বাংলাদেশের জলবায়ু তহবিলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাজ্য উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। জলবায়ু অর্থায়নের স্বচ্ছতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনে সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শুদ্বাচার নিশ্চিতে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকপর্যায়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও এ খাতে তহবিল প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ উন্নত দেশের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫