ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

প্যারেন্টিং

হঠাৎ করে শিশু কেন মোটা হচ্ছে?

ডা: মিজানুর রহমান কল্লোল

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৪:৪৬


প্রিন্ট
হঠাৎ করে শিশু কেন মোটা হচ্ছে?

হঠাৎ করে শিশু কেন মোটা হচ্ছে?

শিশুর ওজন কমে যাওয়া যেমন খারাপ, তেমনই ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়াও খারাপ। অনেক বাবা-মা জানেন না তাদের মোটা শিশুর ভবিষ্যৎ কতটা দুর্বিষহ। শুধু শারীরিক দিক দিয়েই নয়, সামাজিকভাবেও শিশুটি হয়ে ওঠে অনেকের কৌতুকের খোরাক। ফলে সে সব সময় এক ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে থাকে। এক শ্রেণীর বাবা-মা আছেন যারা সন্তানকে মোটা করার জন্য ব্যস্ত। তাদের ধারণা মোটা শিশু মানেই সুস্থ শিশু। এ ধরনের বাবা-মা সত্যিকার অর্থে তাদের সন্তানকে অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। স্থূলতা কখনোই সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ নয় বরং সুস্বাস্থ্যের জন্য এটা মারাত্মক ক্ষতিকর। শিশুর স্থূলতার ক্ষেত্রে তার নিজের চেয়ে বাবা-মায়ের ভূমিকা বেশি।
স্থূলতার কারণ
বংশগত কারণে অনেক শিশু মোটা বা স্থূল হতে পারে। তবে মোটা হওয়ার প্রধান কারণ হলো শারীরিক পরিশ্রম কম করা এবং অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া করা। কিছু কিছু অসুখের জন্যও শিশু মোটা হতে পারে। যেমন- থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা লোপ, কুশিংস সিনড্রোম প্রভৃতি।
মোটা শিশুর কী কী সমস্যা হতে পারে?
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মতো স্থূল শিশুদেরও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। যেমন-
ষ উচ্চ রক্তচাপ
ষ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত অসুবিধা
ষ পিত্তথলিতে পাথর
ষ ডায়রিয়া
ষ রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য
ষ হৃদরোগ
ষ ডায়াবেটিস
ষ অস্থিসন্ধির প্রদাহ
ষ ক্লান্তি
স্থূলতা রোধের উপায় কী?
এ ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের ভূমিকাই প্রধান। তাদের খাদ্য ক্যালরি ও শারীরিক পরিশ্রম সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। এবং সেই মতো শিশুর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে যত্ন নিতে হবে।

১. খাবার দেবেন বুঝে শুনে
বাবা-মায়ের সব সময় সতর্ক থাকতে হবে যাতে শিশু অতিরিক্ত মাত্রায় চর্বিযুক্ত খাবার না খায়। তাকে অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার কম এবং কম ক্যালরিযুক্ত খাবার বেশি দিতে হবে। শিশুকে তেল কিংবা ঘিয়ে ভাজা খাবার কম করে দিতে হবে। শিশুকে খাওয়াবেন নিয়ম করে। পরিমাণও নির্ধারণ করে দেবেন। মজাদার খাবার হলেই তা বেশি দেবেন এটা ঠিক নয়। অনেক খাবারে শিশুর আসক্তি জন্মাতে পারে এবং তা ক্ষতির কারণ হতে পারে।

২. শিশুকে ব্যায়াম করান
শারীরিক পরিশ্রম না করলে সে মোটা হতে বাধ্য। শিশু যত বেশি মোটা হবে ততই সে অলস হবে এবং তার কর্মস্পৃহা কমে যাবে। তাই শিশুদের বিভিন্ন খেলাধুলা ও ব্যায়াম করতে উৎসাহ দিতে হবে। শুধু খেলাধুলা ও ব্যায়াম নয়, গৃহস্থালির টুকিটাকি কাজেও তাদের অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। শিশুর জন্য ভালো ব্যায়াম হলো- দৌঁড়ানো, ফুটবল খেলা, সাঁতার কাটা, টেনিস খেলা।

লেখক : স্বাস্থ্য নিবন্ধকার, কথা সাহিত্যিক ও সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ২, ইংলিশ রোড, ঢাকা। ফোন : ০১৭১৬২৮৮৮৫৫


ঝড়বৃষ্টিতে শিশুর অসুখ
ডা. ওয়ানাইজা রহমান
বর্ষাকালে বৃষ্টির অবিরল ধারা সব কিছু ধুয়ে-মুছে নিয়ে যায়- এ ধরনের কথা আমরা যতই বলি না কেন, একটা জিনিসকে বৃষ্টির পানি ধুয়ে নিতে পারে না; আর তা হলো রোগবালাই। বরং বর্ষাকাল শুরু হওয়ার সাথে সাথে কিছু রোগব্যাধিও যেন পাল্লা দিয়ে চলে আসে। তাই এ সময় বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সতর্ক থাকলেই কেবল এড়ানো সম্ভব বর্ষার অবাঞ্ছিত এই রোগগুলোকে।
সর্দি-কাশি : বর্ষাকালে সাধারণ সর্দি-কাশির জন্য দায়ী হলো ভাইরাস। কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়াও সর্দি-কাশি ঘটিয়ে থাকে। নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি আসা, নাকের মধ্যে সুরসুরি পাওয়া, মাথাব্যথা, গলাব্যথা কিংবা জ্বর হওয়া- এ সবই সাধারণ সর্দি-কাশির বেলায় ঘটতে পারে। এ থেকে রেহাই পেতে করণীয় হলো, বৃষ্টির পানিতে ভেজা যাবে না। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে মাথা ও শরীর ভালো করে মুছে ফেলতে হবে।

জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। সর্দির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। এ সময় শরীরে ভিটামিন সি’র প্রয়োজন হয়। লেবুজাতীয় ফল থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি পাওয়া যেতে পারে।

পেটের অসুখ : বর্ষাকালে পেটের অসুখ হওয়ার প্রধান কারণ হলো দূষিত পানি। ডায়রিয়া, আমাশয়, জিয়ারডিয়াসিস প্রভৃতি অসুখে এ সময় ছোট-বড় যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে। দিনে তিনবারের বেশি তরল কিংবা নরম পায়খানা হলে বুঝতে হবে এটি ডায়রিয়ার লক্ষণ। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া যেকোনো জীবাণুই এ সময় ডায়রিয়া ঘটাতে পারে। ডায়রিয়া হলে তা মোটেও উপেক্ষা করা যাবে না। ফুটানো পানি ঠা-া করে পান করতে হবে। প্রচুর তরল খেতে হবে। যতবার পায়খানা হবে ততবার খাবার স্যালাইন খেতে হবে। আমাশয় হলে তলপেট মোচড় দিয়ে বারবার পায়খানা হয়। পায়খানা দুর্গন্ধময় হয় এবং সেই সাথে মিউকাস যাবে। এ সময় বিছানায় বিশ্রাম নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খেতে হবে। মনে রাখতে হবে, এ সময় বিশুদ্ধ পানি পান করা একান্ত জরুরি। পানি ফিল্টার করলেই কিন্তু তা জীবাণুমুক্ত হবে না। পানিকে টগবগ করে ফোটাতে হবে। এ সময় রক্ত আমাশয়ে আক্রান্ত হওয়াও বিচিত্র কিছু নয়। রক্ত আমাশয়ে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খেতে হবে।

হেপাটাইটিস : বর্ষাকালে হেপাটাইটিসে বিশেষ করে হেপাটাইটিস ‘এ’-তে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এর কারণ হলো এই রোগের জীবাণু পানির মাধ্যমে বাহিত হয়। বর্ষাকালে হেপাটাইটিস থেকে রক্ষা পেতে হলে পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে। কোনো রেস্তোরাঁর পানি খাওয়া যাবে না। কারণ দেখা গেছে রেস্তোরাঁগুলোতে সাধারণত ফুটানো পানি সরবরাহ করা হয় না।

টাইফয়েড : বর্ষাকালে এ রোগ বেশ জোরেশোরেই দেখা দেয়। পচা-বাসি খাবার কিংবা পানি জীবাণু দূষণ হয়ে টাইফয়েড ঘটায়। বর্ষাকালে তাই বাইরের খাবার না খাওয়াই ভালো। পানির ক্ষেত্রেও তেমনি অবলম্বন করতে হবে সতর্কতা। টাইফয়েড হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গতি নেই। কারণ এ সময় টাইফয়েডের চিকিৎসায় যে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হবে তার মাত্রা ও মেয়াদ সাধারণের চেয়ে কিছুটা বেশি হবে। অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স সম্পন্ন না করলে পরবর্তী সময় জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কৃমির সংক্রমণ : বর্ষাকালে কৃমির উৎপাত যেন স্বাভাবিক ঘটনা। তাই যেখানে-সেখানে মলত্যাগ করা যাবে না। হাঁটা যাবে না খালি পায়ে। এক ধরনের কৃমি আছে যাকে আমরা বক্রকৃমি বলি, তা সাধারণত পায়ের তালু ছিদ্র করে পেটে চলে আসে। খালি পায়ে মাটিতে কিংবা বাথরুমে গেলে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সাবধান হতে হবে।

চর্মরোগ : বর্ষাকালে সাধারণত নানা ধরনের জীবাণুর কারণে চর্মরোগের সৃষ্টি হয়। তবে এ সময় ছত্রাকজনিত চর্মরোগ সবচেয়ে বেশি ঘটে। শরীরে যাতে ময়লা না জমে সেদিকে কড়া দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিদিন নরম সাবান দিয়ে গোসল করতে হবে।

লেখিকা : সহযোগী অধ্যাপিকা, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ।
ফোন : ০১৬৮২২০১৪২৭

 

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫