ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৯ অক্টোবর ২০১৭

প্রকৃতি ও পরিবেশ

জোছনা ছুঁয়ে যায় শরতের ফুল

কাজী সুলতানুল আরেফিন

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৪:৪২


প্রিন্ট

আকশে থালার মতো চাঁদ। ভরা পূর্ণিমা রাত চলছে। সেই সাথে শরতের কাশবনে দুলছে কাশফুল। কাশবনে গাছেদের ফাঁকফোকর গলে জোছনারা ঝরে পড়ে। যেন কোনো মায়াবী আলোর এক অফুরন্ত ভাণ্ডার! যে ভাণ্ডারে অভাব নেই। আকাশ থেকে এভাবে ঝরে পড়া জোছনাদের নিয়ে কাব্যের শেষ নেই। তবুও নতুন কাব্য রচিত হয়। সাদা আর নীল আবেশের জোছনায় সবাই ভিজতে ভালোবাসে কিন্তু আমি খুঁজি অন্য কিছু। আমি ভাবি অন্য কিছু।
জোছনাগুলোর ছোঁয়ায় কাশফুলগুলোও যেন দুলে উঠে ছন্দে ছন্দে। জোছনাগুলোর সাথে কাশফুলের যেন গভীর মিতালী। এ রকম এক সন্ধ্যে বেলায় পথের ধারে বসে জোছনা আর কাশফুলের মিতালী দেখতে দেখতে মনের দৃশ্য পটে ভেসে উঠল সে দিনের প্রতিচ্ছবি। তখনো শরৎকাল ছিল। সে শরতের সন্ধ্যায় এমনি খেলা করছিল কাশফুল আর জোছনারা। নানুর বাড়িতে বেড়াতে আসা নাহিদাকে চুপিসারে ডেকে এনেছিলাম রাস্তায়।
-এই নির্জন রাস্তায় কেন ডেকে আনলেন? প্রশ্ন তার।
-আমি এখনো আমার জবাব পাইনি!
-আমার কাছে কোনো জবাব নেই। বলেই নাহিদা আবার চলে গেলো। এমনি কোনো এক শরতে আমাদের ভালোবাসা হয়েছিল। এরপর আচমকা নাহিদা বদলে গেল। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম এই বদলে যাওয়ার কারণ কিন্তু আমার প্রশ্নের জবাব সে দেয় না।
আজো শরৎ আসে। আজো কাশফুল ফুটে। আর কাশফুল ছুঁয়ে জোছনারা খেলা করে। আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখি। কিন্তু এই শরৎ আমার প্রশ্নের জবাব নিয়ে আসে না। আর বিভীষিকাময় শরতের রাতে রাস্তার একপাশে বসে থাকি। আকাশপানে তাকাই। আকাশের তারাগুলো আমার দিকে যেন করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে মুচকি হাসি দেয়। নির্জনতা ভেদ করে ভেসে আসা ঝিঁঝি পোকাদের কোলাহল যেন আমার কাছে দুঃখের সুর মনে হয়। জোনাকিরা এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে তাদের বন্ধুদের নিয়ে। তারা আমাকে যেন বলতে চায়, ‘নাহিদারা এভাবেই বদলে যায়’! তবে আমরা বদলাই না বন্ধু! এসো আমাদের কাছে আমাদের নিভু নিভু আলোতে খেলা করো। চোখগুলো নিমিষে ঝাপসা হয়ে আসে। ঘোর আঁধারেরা তখন চারদিকে রাজত্ব করে অনায়াসে। চোখের সামনে শুধু কালো আর কালো। এমনি করে যেতে যেতে আচমকা ক্ষীণ থেকে দীর্ঘ হয়ে আবারো ফিরে আসে জোছনারা। এ যেন সুখ-দুঃখের বিরামহীন খেলা! এ যেন জোছনার বেদনার কাশফুল ছোঁয়া। জোছনারা এসে চলে গেলেও আবার ফিরে আসে। কিন্তু জীবনের তটে ছুঁয়ে যাওয়া রঙিন জোছনারা একবার এসে চলে যায় আর কখনো ফেরত আসে না। ঠিক একইভাবে ছুঁয়ে দিয়ে নাহিদা তুমিও চলে গেলে। তুমিও যেন কোনো রঙিন জোছনা ছিলে আর সে রঙিন জোছনা অতীতের স্মৃতি হয়েই থেকে রইলো। আজো আকাশে নিরিবিলি রঙিন জোছনা। সুমসাম রাতে শান্ত জলরাশিতে ঢেউ খেলে যায় জোছনার হাসি। আমি আছি নির্ঘুম অশান্ত মন নিয়ে কোনো এক রাস্তার পাশে। কিংবা নির্জন পুকুরের ধারে। আঁধার, আমি আর জোছনারা মিলেমিশে একাকার। কাশফুলগুলো নড়ে উঠে ঝিরি ঝিরি হাওয়ায়। এদের নড়া আবছা আলো-আঁধারিতেও দেখা যায়। শুধু দেখা যায় না আমার বুকের জ্বলে থাকা বেদনার জোছনাগুলো।
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া
ফেনী

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫