ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

বিচার বিভাগ ও বাংলাদেশের বাস্তবতা

হারুন-আর-রশিদ

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ২১:২৫


হারুন-আর-রশিদ

হারুন-আর-রশিদ

প্রিন্ট

আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দলীয় নেতা বানিয়ে ফেলেছে। পুরো আগস্ট মাসজুড়ে এর প্রতিফলনও তারা ঘটিয়েছেন। সার্বজনীন একজন নেতাকে দলীয় খাঁচায় আবদ্ধ করে যেসব কর্মসূচি তারা পালন করেন প্রতি বছর, এর ফলে আওয়ামী লীগই তাকে বিতর্কিত নেতায় পরিণত করেছে। ‘বৃক্ষ তোমার নাম কী- ফলে পরিচয়’ এই প্রবাদবাক্যকে তারা মনে হয় ভুলে গেছেন। ইতিহাসে শেখ মুজিবের অবস্থান যা, সেটা এক চুল পরিমাণ পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। অহেতুক বাড়াবাড়ি করে কোনো নেতাকে দেবতার আসনে বসানো বা তিনি যা নন তা বলে বা প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মাকে কষ্ট দেয়া হয়। তার বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য গিবত নয়, পরের দোষ অন্বেষণ নয়, অপচয় নয়, বরং দুই হাত প্রসারিত করে পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে খাস নিয়তে দোয়া বা মাগফিরাত কামনা করা উচিত। মনে রাখতে হবে, দোষ-গুণে মানুষ। মানুষের সাফল্য যেমন আছে, তেমনি ব্যর্থতাও আছে। মুজিবও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তবে এ কথাও অনস্বীকার্যÑ যা কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, মানুষ হত্যা মহাপাপ। বিনাবিচারে কাউকে হত্যা করার অর্থ হলো বিশ্বের গোটা মানবজাতিকে হত্যা করার সমতুল্য মহাপাপ। এটা চরম অমানবিক কাজ।

আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে আল্লাহর এ অপছন্দনীয় কাজকে অন্তর থেকে ঘৃণা ও প্রতিরোধ করি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মতো অনেক নেতা পৈশাচিকভাবে খুন হয়েছেন। পাশের রাষ্ট্র ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী এবং ভারতের দুইজন প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও তার পুত্র রাজীব গান্ধী অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনায় ও মর্মান্তিকভাবে খুন হয়েছেন ক্ষমতায় থাকাকালেই। পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও ‘কায়েদে মিল্লাত’ হিসেবে অভিহিত লিয়াকত আলী খানও আততায়ীর হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন প্রকাশ্য জনসভায়। প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোকে সে দেশের সামরিক শাসক জেনারেল জিয়ার শাসনামলে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আফগান প্রেসিডেন্ট নুর মোহাম্মদ তারাকি ও হাফিজুল্লাহ আমিন বিদ্রোহীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। মিয়ানমারের জাতির স্থপতি জেনারেল অং সান গুলিতে খুন হয়েছেন বৈঠক চলাকালে। আফ্রিকায় প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হয়েছেন কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস লুমুম্বা, তাকাওয়া নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবু বকর বালেওয়া।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিসহ কয়েকজন প্রেসিডেন্ট খুন হয়েছেন, যাদের মধ্যে আছেন বিখ্যাত আব্রাহাম লিঙ্কনও। কিন্তু এ নিয়ে ওইসব দেশের নেতাকর্মী বা লোকজন সারা বছর অতিকথন ও বাড়াবাড়ি বা রাজনীতি করে না (সূত্র : জাতীয় দৈনিক, ১৬-০৮-০৩)। ২০১৬ সালে এপ্রিল মাসে ভারতে ২৪ দিন কাটিয়েছি। সে দেশের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর ছবি যত্রতত্র দেখলাম না। প্রধানমন্ত্রী জওয়াহেরলাল নেহরুর কোনো ছবি দেয়ালে বা বিলবোর্ড আকারে দেখিনি। জিজ্ঞেস করায় একজন প্রবীণ ব্যক্তি বললেন, প্রয়াত নেতাদের ছবি টানিয়ে কী হবে- এটা এক ধরনের রাষ্ট্রীয় অপচয়। তাদের কথা তো ইতিহাসের পাতায় আছে, সেটা ফুটপাথে, সড়কপথে ও যানবাহনে থাকবে কেন! শুনে হতবাক হলাম। ভারতে উন্নয়নের কোনো ছবি বিলবোর্ড আকারে ঝুলিয়ে রেখেছে এমন দৃশ্যও চোখে পড়েনি। ২০১৪ সালে সিঙ্গাপুরে নির্বাচনের সময় গিয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী লি হাসন লং (খবব Hsien Loong)-এর কোনো ছবি পোস্টার বা বিলবোর্ড আকারে সড়কপথে দেখিনি। বাংলাদেশে দুই মরহুম নেতাকে নিয়ে মিডিয়ায় যে বাকযুদ্ধ এবং রঙ-বেরঙের ছবি ছাপিয়ে বিপুল অর্থ খরচ করা হয়Ñ তা উন্নয়নের কাজে ব্যয় হলে বাংলাদেশের চেহারাই পাল্টে যেত এবং তাদের আত্মা শান্তি পেত। দিবস উদযাপনের নামে প্রতি বছর বাংলাদেশে নেতাদের রঙ-বেরঙের যে ছবি টানানো হয়, এর পেছনে আর্থিক যে খরচ হয়, টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ কত? এ হিসাব আমরা ক’জনে করছি। পৃথিবীতে জাতির জনক বিভিন্ন দেশে আছেন। তাদের কয়েকজন মর্মান্তিকভাবে নিহতও হয়েছেন। সেসব দেশে বিপুল ব্যয়ে ও আড়ম্বরে জন্ম বা মৃত্যুদিবস পালন হয় কি না। আমার জানা মতে, এ রকম প্রবণতা অন্য কোনো দেশে দেখা যায় না। নির্বাচনকালীন সময়েও একই কাজ করে জনগণের ট্যাক্সের টাকা আমরা নষ্ট করছি। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামগঞ্জে দলীয় প্রচারে যে অর্থ খরচ হয়, সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা- অর্থাৎ অপচয়ের ব্যাপকতা ঘটে।

আমাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা আসেন নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে, অবশেষে দেখা যায়, প্রতিশ্রুতির ২৫ শতাংশ পূরণ করতে ব্যর্থ হনÑ কারণ অপচয়ের দিকে তাদের দৃষ্টি থাকে বেশি। এরপর দৃষ্টি থাকে দুর্নীতির তালিকা কিভাবে দীর্ঘ করা যায়। তৃতীয় দৃষ্টি হলো- আত্মসমালোচনার পরিবর্তে কেবল অন্যের সমালোচনা ও নিন্দায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করা। এসব অপকর্মে রাষ্ট্রের আর্থিক ও মানবিক ক্ষতি হয় মাত্র। যে রাষ্ট্রযন্ত্র মানুষকে ঠকায় সে রাষ্ট্রের মানুষেরা কাঁদে, যে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ঠকায় সেও কাঁদে, যদিও দুই দিন আগে-পরে। স্বাধীনতার পর গত ৪৭ বছর মানুষকে যারা ঠকিয়েছে এবং কাঁদিয়েছে, অবশেষে দেখা গেছেÑ তাদের পরিণতি করুণ। দেশের রাজনৈতিক পালাবদলে যে খেসারত তারা দিয়েছে, অনেকটাই তাদের পাপের ফল। জগতে সবার ওপরে একজন আছে তাকে দেখা যায় না, কিন্তু অদৃশ্য এই মহান শক্তিটি ঠিক সময়েই চূড়ান্ত বিচার করে ফেলেন। আমাদের হৃদয়ে পচন ধরেছে বলেই আমরা তা বুঝি না। কিন্তু স্বচ্ছ বিবেকবান মানুষেরা ঠিকই উপলব্ধি করতে পারে।

এবার আসুন, সাম্প্রতিক ঘটনার দিকে দৃষ্টি ফেরাই। সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিচার বিভাগকে যেভাবে কনডেম সেলে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছেÑ সেটা ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে মনে হয় বেশি সময় লাগবে না। আমরা জানি, সারা বিশ্বের মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগ। খুন, জালিয়াতি, ধর্ষণ, নির্যাতন ও দখল- সব ব্যাপারে মানুষ যখন হতাশায় ভোগে, তখন আইনের আশ্রয়ের জন্য আসে আদালতে। মানুষ এ জন্য সংসদে যায় না। সংবিধান তো কথা বলতে পারে না। শরণাপন্ন হওয়ার একমাত্র জায়গা বিচার বিভাগ। সেটাকে (যখন যে ক্ষমতায় যায়) রাজনৈতিক দূষণে দূষিত করে ফায়দা লুটতে চায় শাসক দল। স্বাধীন বিচার বিভাগ এ জাতি চর্মচোখে দেখেনি ৪৭ বছরে। প্রধান বিচারপতিকে যেন দলীয় সরকারের আনুগত্য করতে হবে কাজে-কর্মে ও কথায় শতভাগ; অন্যথায় দুর্ভাগ্য ঘটবে। সে কাজটি করতে অনেকে সক্রিয়।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগ পুরোপুরি স্বাধীন। বিচার বিভাগের ভুলত্রুটি বিচার বিভাগের নিয়োগকৃত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলই দেখবে। এর অর্থ হলোÑ আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টও নন। এ রকম একটি আইনি কাঠামো বা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি তাত্ত্বিকভাবে আছে; তাত্ত্বিকভাবে বাস্তবে অনুপস্থিত বাংলাদেশে। আমরা ১৬ কোটি মানুষ কষ্ট পাচ্ছি প্রধানত একটি কারণে। যার নাম ‘বিচারহীনতা’।

বলা যায়- সুবিচার, ন্যায়বিচার, দলীয় দৃষ্টিকোণমুক্ত বিচার। এ ধরনের বিচারিক কৃষ্টি বাংলাদেশে এখনো গড়ে ওঠেনি পুরোপুরি। সুষ্ঠু রায় দিতে ভয় পেলে চলে না। এ ছাড়া বড় আরেকটি সমস্যা; সেটি হলো- আইনজীবীরাও বিভক্ত রাজনীতির কারণে। আইনজীবীরা বড় দুটো দলের সমর্থক। সাংবাদিকদের বলা হয়- সমাজের দর্পণ বা বিবেক। তারাও বিভক্ত রাজনীতির কারণে। এ কারণে দীর্ঘ দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার আজো আলোর মুখ দেখেনি। এ ধরনের দৃষ্টান্ত অনেক। নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে একটি উদাহরণ এখানে তুলে ধরছি।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ জাবেদ আলী বলেছেন, বাংলাদেশে তিনটি কারণে নির্বাচন সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। প্রথম কারণ- নির্বাচন কমিশনের প্রতি সব রাজনৈতিক দলের আস্থা নেই; কমিশনের ভাবমর্যাদা নষ্ট করে এমন কাজ মিডিয়া থেকে শুরু করে সব রাজনৈতিক দল কম-বেশি করছে, সরকারি দলও এর বাইরে নয়। সর্বশেষ কারণ- নির্বাচন কমিশনের অভিভাবক হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি কাজ করতে পারছে না (সূত্র : প্রথম আলো, ১২-৮-১৪)।

বিচারকেরাও দলীয়বৃত্তে আবদ্ধ বা দলীয় মতাদর্শে বিশ্বাসী হলে জাজমেন্টও হবে বিতর্কিত। দেশের মানুষ জানে, সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক আওয়ামীপন্থী। আওয়ামী লীগ সরকার আপিল বিভাগের দুইজন সিনিয়র বিচারপতি, যথাক্রমে বিচারপতি আবদুল মতিন ও বিচারপতি শাহ আবু নঈমকে ডিঙিয়ে তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।
খায়রুল হক দেশের চলমান রাজনৈতিক জটিলতার নেপথ্য নায়ক। সাবেক এই প্রধান বিচারপতি সংবিধানের পঞ্চম, অষ্টম ও ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করেছেন। আওয়ামী লীগ সব সময় যে কথাটি বেশি বলে তা হলোÑ কাটাছেঁড়া করে সংবিধানের বারোটা বাজিয়ে দিয়ে গেছে বিএনপি। বর্তমান এ তিনটি সংশোধনী বাতিল যিনি করলেন- তিনি তো তাদের নিয়োগকৃত বিচারপতি। বিচারপতি খায়রুল হক তিনজন প্রেসিডেন্ট এবং তিনটি শাসনকালকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তারা হলেনÑ খন্দকার মোশতাক, জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সংবিধানের কাটাছেঁড়া আওয়ামী লীগের প্রথম শাসনকালে (১৯৭২-১৯৭৫) দুইবার হয়েছে। চারটি পত্রিকা ছাড়া সব পত্রিকা নিষিদ্ধ এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা ‘বাকশাল’ কায়েম করে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিলুপ্ত করা হয়েছিল হঠাৎ সংবিধানে সংশোধনী এনে।

আমরা আশ্চর্যান্বিত হয়ে যাই যখন দেখি একজন বিচারপতি বলেন- ‘দেশ এখন আর গণপ্রজাতান্ত্রিক নয়, এটা হয়ে গেছে বিচারিক প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্র।’ এবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির রায়ের ১০ মিনিট পরই প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ পদত্যাগ করেন। সেখানে সরকার সমর্থিত কোনো আইনজীবী বা বিচারপতি তার পক্ষে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি। এটা বিচারব্যবস্থার জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে অবশ্যই। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে সাতজন বিচারক একই কথা সমস্বরে উচ্চারণ করেছেন। তাহলে কিভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল, আইনমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্য যথার্থ আর সাত বিচারপতির সর্বসম্মত রায় ভুল হতে পারে? সংবিধানের মৌলিক কাঠামো যেখানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে সরকারই বেকায়দায় পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে দিয়েছেন। কিভাবে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় তা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ এগিয়ে আসাই সুচিন্তিত পদক্ষেপ হিসেবে সর্বমহলে বিবেচিত হবে। কেউ কেউ বলছেন, প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে ড্রামা সাজানো হচ্ছে। আরো কিছু দিন অপেক্ষা করলে ড্রামার আসল ঘটনা জানা যাবে।'
লেখক : গ্রন্থকার, কলামিস্ট

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫