ঢাকা, শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭

রাজনীতি

মিয়ানমারে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠাতে হবে : বদরুদ্দোজা চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ২০:৪০


প্রিন্ট

বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার ভয়াবহ নির্যাতন করে বন্ধুহীন রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। অং সান সু চির বিবেক থাকলে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে জবাবদিহি করতো। তার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অধিবেশনে শুধু নিন্দা প্রস্তাব নয়, শান্তি রক্ষার জন্য প্রয়োজনে মিয়ানমারে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠাতে হবে। সেইসাথে মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের জন্য বিএনপির ২২টি ত্রাণবাহী ট্রাক কেনো সরকারের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী আটকিয়ে রেখেছে তার জবাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আজ এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের রক্ষার্থে দেরিতে হলেও প্রধানমন্ত্রীর শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে। যেভাবে তিনি রোহিঙ্গাদের পাশে গিয়ে কেঁদেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এসেছে সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু বিএনপি একটি বিরাট রাজনৈতিক দল তাদের ত্রাণবাহী ট্রাক কেনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটকিয়ে দিল তা আমার বোধগম্য নয়। এর ব্যাখ্যা ও জবাব প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেয়া উচিৎ। কারণ তিনি সবসময় নিজেকে নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার দাবি করেন।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলন আয়োজিত ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন ও গণহত্যা : মানবাধিকারের চরম অবনতি এবং সমস্যা সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায় নীরব কেনো?’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব বলেন।

সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহিল মাসুদ, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যালবার্ট পি কস্টা প্রমুখ।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বিএনপির ত্রাণবাহী ট্রাক কেনো আটকিয়ে রেখেছে এ বিষয়ে আপাতত আর কোনো কথা বলব না। আজ তথাকথিত বিরোধী দল জাতীয় পার্টি রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্য নিয়ে যাবে দেখবো সরকার তাদের সাথে কেমন আচরণ করে তারপর আমি মন্তব্য করবো। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের তথাকথিত বিরোধী দল সরকারকে কোনো প্রশ্ন করবে না। জনগণের পক্ষ থেকে এ প্রশ্ন আমাদেরকেই করতে হবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা এখন স্টেটলেস কমিউনিটিতে পরিণত হয়েছে। তিন হাজার রোহিঙ্গাদের হত্যা করা হয়েছে, নির্যাতন করা হচ্ছে তাদের। এটা অং সান সু চির মতো গণতান্ত্রিক নেত্রীর কাছে কেউ আশা করেনি। সারা বিশ্বের কাছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সাহায্য চাওয়া উচিত ছিল। দেরিতে হলেও সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে হবে, বিশ্বের কাছ থেকে সাহায্য আনতে হবে। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বিশ্বে কাছে তুলে ধরতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলতে বলতে বেশি বলেন। তিনি কীভাবে বলেন, যদি ১৭ কোটিকে খাওয়াতে পারি, রোহিঙ্গাদেরও খাওয়াতে পারব? এটা তিনি বলতে পারেন না। আন্তর্জাতিক সাহায্য-সহযোগিতা নিয়েই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে মনে করি।

তিনি বলেন, নির্যাতিত মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে যে কারো ঘরে এলে তাকে ফিরে দেয়া যাবে না। কিন্তু সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিয়েছে, পরে অবশ্য শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে, যা অপরাধ। কিন্তু সরকার এরও কোনো প্রতিবাদ করেনি।

অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কতটা লজ্জিত তা প্রকাশ করার ভাষা নেই। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনে বৌদ্ধ ধর্মের বাণী আজ প্রশ্নবিদ্ধ, ক্ষতবিক্ষত, রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। এটা শুধু বৌদ্ধ ধর্মই নয় বিশ্বের কোনো মানুষ এটা সমর্থন করতে পারে না। মিয়ানমারে মানবতার যে চরম বিপর্যয় হয়েছে, তাতে বৌদ্ধদের পক্ষ থেকে আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত, মার্জনা ছাড়া আর কিছুই বহন করতে পারে না। সেখানে মানবতা লঙ্ঘিত হচ্ছে, তারা বৈশ্বিক রাজনীতির শিকার হচ্ছে। এ পলিটিক্স মানবতাকে মারাত্মক বীভৎস অবস্থায় নিয়ে যায়।

আব্দুল্লাহিল মাসুদ বলেন, রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা ও নির্যাতন চরম মানবাধিকার লংঘন। এ অপরাধে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি ও মিয়ানমারের সেনা অফিসারদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবি করছি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫