ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

ঢাকা

প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া : শাস্তি জুতার মালা

শরীয়তপুর সংবাদদাতা

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:৪৫


প্রিন্ট
প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া : শাস্তি জুতার মালা

প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া : শাস্তি জুতার মালা

 

শরীয়তপুরের সখিপুরে পরকীয়ার শাস্তি হিসেবে উভয়কে জুতার মালা পরিধানের হুকুম দিয়েছেন শরীফ সরদার নামের স্থানীয় এক সমাজপতি। ওই সমাজপতির দাবি, স্থানীয় লোকজনের চাপের কারণে তিনি এ হুকুম দিতে বাধ্য হয়েছেন। এ ধরনের আইন-বর্হিভূত এটা তার জানা ছিল না। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি এ রকম নয়। বিচারের কথা শুনেছি।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের আজগর হাওলাদার কান্দি গ্রামে মোহাম্মদ আলী মোল্যা ও প্রবাসী আক্তার সরদারের স্ত্রী মাজেদা পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করতেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৬ মাস ধরে তাদের মধ্যে পরকীয়া শুরু হয়। এরপর থেকে মোহাম্মদ আলী তার স্ত্রী সালেহাকে অকারণে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্ত্রী সন্তানদের ভরণ-পোষন দিতেন না বলেও বলা হচ্ছে।

ঘটনার এক সপ্তাহ আগে মোহাম্মদ আলী তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে সন্তানসহ শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়ে দেন। গত মঙ্গলবার রাতে পরকীয়ার টানে ৫ সন্তানের জনক মোহাম্মদ আলী মোল্যা (৪০) একই গ্রামের প্রবাসী আক্তার সরদারের স্ত্রী ২ সন্তানের জননী মাজেদার (২৩) ঘরে যান।

এলাকাবাসী টের পেয়ে মাজেদার ঘরে মোহাম্মদ আলীকে আটকে রাখে। এলাকাবাসী মোহাম্মদ আলীকে মাজেদার ঘরে আটকে রেখে স্থানীয় সমাজপতি (মাতুব্বর) শরীফ সরদারকে খবর দেয়। নিজের সমাজে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচারের দায়িত্ব নেন শরীফ সরদার। বুধবার সন্ধ্যায় তার নিজ বাড়িতে শালিস বসিয়ে মাজেদা ও মোহাম্মদ আলীকে জুতার মালা পরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন শরীফ সরদার। একই সাথে উভয়কে সমাজচ্যুত করার হুকুম দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


এলাকাবাসী জানায়, মাজেদার সাথে এলাকার অনেক ছেলের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। বিগত দিনে একাধিকবার সামাজিক বিচারও হয়েছে। মাজেদার কোনো পরিবর্তন হয়নি। মাজেদার শ্বশুর আমির সরদারকে এ বিষয়ে জানালে এলাকাবাসীর সাথে খারাপ আচরণ করতেন তিনি। এ ঘটনার পরও আমির সরদার এলাকাবাসীকে গালমন্দ করেছেন। মাজেদা খারাপ হওয়ার পিছলে আমির সরদারের হাত আছে বলেও অনেকে মনে করছেন। তাদের মতে, আমির সরদারের বিচার হওয়া উচিত ছিল। আমির সরদারের কোনো বিচার না হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এলাকাবাসী আরো জানায়, ইতোপূর্বেও মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী সালেহা সমাজপতির কাছে তার স্বামী ও মাজেদার অবৈধ সম্পর্কের কথা জানায়। সমাজপতি শরীফ সরদার এক শালিস দরবার বসানো হয়েছিল। সালেহা সেই শালিসী দরবারে গ্রহণযোগ্য কোনো সাক্ষী উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় উল্টো স্বামী মোহাম্মদ আলীর দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর আলম (মেম্বার) বলেন, হাজার লোকের উপস্থিতিতে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ বিচারে এলাকাবাসী খুশি হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে মাজেদার স্বামী আক্তার দেশে না ফেরা পর্যন্ত মাজেদা তার পিতার বাড়ি থাকবে, আর মোহাম্মদ আলীকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে।

শরীফ সরদার বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার বিচার হয়েছে। তার পরেও ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটেছে। এবার এলাকাবাসীর দাবীর কারনে উভয়কে জুতার মালা পরানোর হুকুম দেয়া হয়েছিল। মালা পরানোর আগেই স্থানীয় লোকজন শোর চিৎকার দেয়। এ ধরনের বিচার করা আইনবর্হিভূত এটা আমার জানা ছিল না। জানলে আমার দ্বারা এ বিচার করা হতো না। ইতিপূর্বের শালিসীতে মোহাম্মদ আলী তার স্ত্রীকে নির্যাতন করেনি তবে শুনেছি তার স্ত্রীকে শাসন করেছে। তা আমাদের দৃষ্টির আড়ালে ঘটেছে।

চরভাগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সিকদার বলেন, পরকীয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি, এ ধরনের বিচার করা ঠিক হয়নি। আমি এ ধরনের বিচার সমর্থন করি না।
সখিপুর খানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মঞ্জুরুল হক বলেন, বিষয়টি এরকম নয়। শালিস দরবারে কথা শুনেছি। খোঁজখবর নিয়ে বলা যাবে কী ঘটনা ঘটেছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫