ঢাকা, শনিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

মতামত

রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান কোন পথে?

আনিসুর রহমান এরশাদ

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৫:৩৫ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৫:৫৮


প্রিন্ট
রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান কোন পথে?

রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান কোন পথে?

শুধু মুসলমান নয়, সারা বিশ্বের মানবতাবাদী মানুষই রোহিঙ্গা সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। বাংলাদেশ এমনিতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বেকারত্ব, দারিদ্রতা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসসহ নানা সমস্যা মোকাবেলা করে চলেছে। এ অবস্থায় নতুন করে শরণার্থীর চাপ নেওয়া বাংলাদেশের পক্ষে কঠিন। তারপরও মিয়ানমারে প্রাণহানির অনভিপ্রেত ঘটনায় সীমান্তসংলগ্ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। নেপথ্যে থাকা আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনীতির জটিল খেলায় শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশ কোনোভাবেই অংশ নিতে চায় না। সাম্প্রদায়িক আবেগের কথা বলে স্থায়ী সমস্যার মুখে পড়ে গেলে সেখান থেকে উত্তরণ কঠিন হবে। কাজেই রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইতোমধ্যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) নেতারা। রোহিঙ্গাদের ওপর চলা সহিংসতা বন্ধেও পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করেন তারা।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ভারত সরকারও বলেছে, ‘সংযতভাবে ও সতর্কতার সাথে রাখাইন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে, নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে। সহিংসতা বন্ধ করে ওই রাজ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা অত্যাবশ্যক।’ তবে এত বড় মানবিক বিপর্যয়েও মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে আসছে চীন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নেগিনপাও কিপজেন লিখেছেন, জাতিসংঘ, ওআইসি, আসিয়ান, বাংলাদেশ সরকারসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সহায়তা করতে পারে বলে অনেকের ধারণা। তবে চূড়ান্ত দায়িত্ব মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণের ওপর নিহিত। রোহিঙ্গা-সংকট সমাধানে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সুশীল সমাজের কণ্ঠস্বর। রোহিঙ্গা বিষয়ে গণমাধ্যমেরও ভূমিকা পালনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান কী উপায়ে করা উচিত, তা নিয়ে মিয়ানমারে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করে, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। অথবা রোহিঙ্গা গ্রহণে ইচ্ছুক দেশগুলোতেও তাদের পাঠানো যায়। অবশ্য অন্যদের এই প্রশ্নের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়ে সত্যিকারের ভাবনা-চিন্তা আছে।

থাইল্যান্ডের খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক থিতিনান পংসুধিরাক মনে করেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে মিয়ানমারের প্রতিবেশি বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াকেই এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই একমাত্র রাখাইন রাজ্যের জাতিগত ও ধর্মীয় সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া সম্ভব। এই জাতিগত সহিংসতা নিরসনে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সহাবস্থান খুবই জরুরি’।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফোর্বস ম্যাগানিজের সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে মুসলিম এই সংখ্যলঘু জাতিগোষ্ঠিকে নিপীড়ন থেকে বাঁচাতে ‘আলাদা রাষ্ট্র’ সমাধানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে। এতে বলা হয়, বৌদ্ধ সংখ্যাগুরু সরকারের নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে ‘আলাদা রাষ্ট্র’ রোহিঙ্গাদের অধিকারে পরিণত হয়েছে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলকে সোচ্চার হতে আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের সেদেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে মিয়ানমারের ভেতরে নিরাপদ অঞ্চল গঠন করে তাদের সুরক্ষা দিতে হবে, কারণ রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার। তাদেরই এর সমাধান করতে হবে।  সমস্ত বিশ্বে যেন মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করার মানসিকতা দেখতে পাচ্ছি। সমস্ত মুসলিম উম্মাহ যদি অনুভব করতে পারত, ঐক্যবদ্ধ থাকত, কেউ মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করতে পারত না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারে কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন। ২৪ আগস্ট আনান কমিশনের প্রতিবেদনে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা ও চলাফেরার ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেয়াসহ ৮৮টি সুপারিশ করা হয়। কফি আনান কমিশন যে সুপারিশ করেছে তা’ বাস্তবায়ন করতে হবে৷ কারণ এটা তাদের সরকারই গঠন করেছে৷ এতে কোনো সমস্যা থাকলে আলোচনা করতে পারে৷ আনান কমিশনের প্রতিবেদনেই রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের পথ বলে দেয়া আছে। তাই এই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্রুত আসিয়ান ও বিমসটেকের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের নাম নিবন্ধন করতে হবে এবং তাদেরকে গ্রহণ করতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে। 

কফি আনানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়াসহ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে তাদের অবাধ চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ, যৌথ কমিশন গঠন করে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে পরিপূর্ণভাবে পুনর্বাসন করতে হবে। 

জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংস্থার প্রতিনিধি শিনজি কুবো বলেছেন, ‘এদেশে আসা রোহিঙ্গাদের জন্যে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বিদেশি সাহায্য এখনই প্রয়োজন। তাদের বসবাসের জন্যে স্থান দিতে হবে।’ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া আলাপ-আলোচনা ও ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন কিংবা যুদ্ধ নয়, কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন দেবে। এ সঙ্কটের রাজনৈতিক ও মানবিক উভয় দিকের সমাধানের লক্ষ্যে গোটা বিশ্ব বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে।  আন্তর্জাতিক সংস্থা, জাতিসংঘ, অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা আমাদের পক্ষে আছে। বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে না। যুদ্ধ করলে আমাদের উন্নতি ধ্বংস হয়ে যাবে। মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলিতভাবে এ সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চীনের সঙ্গেও এ বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করব।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী  শাহরিয়ার আলম বলেছেন, মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমার নিজেরাই এই সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। তাই তাদেরকেই রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশ চায় পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান। নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জায়গা জাতিসঙ্ঘের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সিঙ্গাপুরে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের নিরাপত্তা ফোরাম 'দি ফুলারটন ফোরাম' আয়োজিত এক নিরাপত্তা সভায় উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশার সুযোগ নিতে পারে। এমনটি হলে সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিশামুদ্দিন হোসেন বলেন, 'রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান প্রয়োজন, আমরা এ সমস্যাকে কার্পেটের নিচে ধামাচাপা দিয়ে রাখতে পারব না। এ সমস্যা বহু মুসলমানের আবেগকে স্পর্শ করছে। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের উপর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোটের সংহতি নির্ভর করছে। রাখাইনের পরিস্থিতি ঠিকমতো না সামলালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ঘাঁটি গাড়তে চাওয়া ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী এর সুযোগ নেবে। '

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান করে তাদের নিজ দেশে ফেরত নিতে আন্তর্জাতিক মহলের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে কূটনৈতিক উপায়ে চেষ্টা চালাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছিল। তখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাদের আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ করে ফেরত নিতে বাধ্য করেছিলেন। এরপর ১৯৯২ সালে আবারও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিলে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার কূটনৈতিকভাবে তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করেন।

এখনো পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে- রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখে ৪৭টি দেশের প্রতিনিধিরা মন্তব্য করেছেন,শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরানোই রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান। ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিও বলেন, ‘মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হবে যাতে মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত নিয়ে যায়।’ 

তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। সু চি ও তার সহযোগী নেতাদের শান্তি ও সংহতির চেতনায় দেশটির জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমাজের সব অংশের মানুষের কাছে যেতে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা যোবায়ের আহমদ আনসারী বলেছেন,  বিশ্বব্যাপী মানবতাবাদিরা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ধিক্কার ও প্রতিবাদ করছে। এ সঙ্কটের সমাধান আরাকানের রাখাইনকে স্বাধীন করে রোহিঙ্গাদের বুঝিয়ে দেয়া আর এজন্য আর্ন্তজাতিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কথা কর্ণপাত না করলে মিয়ানমারকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে তাদের সকল পণ্য রাষ্ট্রীয়ভাবে  নিষিদ্ধ ও সচেতনভাবে বর্জন করতে হবে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সকল ধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।

কসরে হাদী খানকার শায়খ সৈয়দ আব্দুল হান্নান আল হাদী বলেছেন, এদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গা মুসলমানদের ফেরত নিয়ে স্থায়ী আবাসভূমিতে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশে বসবাসরত ৬ লাখ বৌদ্ধের বাড়ি-ঘর রোহিঙ্গা মুসলমানদের বরাদ্দ দিয়ে এ দেশের বৌদ্ধদের মিয়ানমারে ফেরৎ পাঠাতে হবে। 

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ পরিবেশে ফেরত পাঠিয়ে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বাংলাদেশ। এ কাজ সফলভাবে করতে হলে সব বন্ধু রাষ্ট্রের সমর্থন জোগাড় করতে হবে। বিশেষ করে চীন ও ভারতকে এ কথা বোঝাতে হবে যে এ সমস্যা তাদের জন্যও মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। চীনের সমর্থন থাকায় মিয়ানমার অনেক ন্যায্য প্রস্তাব অগ্রাহ্য করছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে চীনের নিয়ামক ভূমিকা থাকা জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে চীনে বিশেষ কূটনৈতিক টিম পাঠানোর কথা বলছেন অনেকে। ভারতের সঙ্গেও দূতিয়ালি আবশ্যক। রাশিয়ার সঙ্গেও নিবিড় আলোচনা দরকার। ইরানসহ ওআইসি দেশগুলোর সমর্থনও জরুরি। ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ও ইইউভুক্ত দেশগুলোর আস্থাও অর্জন করতে হবে। এই সঙ্কটের আরো বড় অভিঘাত থেকে বাঁচার জন্য বাংলাদেশকে এখনই আরো গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫