ঢাকা, শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭

গল্প

লেলিহান আরাকান

শামসুদ্দোহা চৌধুরী

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৪:২৬


প্রিন্ট

লতাপাতা জড়ানো বাঁশবন। শ্যামল প্রান্তর। ঠিক বনভূমি বলা যাবে না। লকলকা তৃণভূমির ফাঁকফোকরে সাঁই সাঁই করে অনাদরে বেড়ে ওঠা বৃক্ষ সারি। এ যেন পাহাড়ের ঢালে ক্যানভাসে আঁকা ছবি। গোটা কয়েক কিশোর ঘাসের ডগায় বসা লাল নীল ফড়িং ধরার মহানন্দে মেতে উঠছে। হি হি করে হাসছে। লকলকা ঘাসের ডগায় ফড়িং ধরে তিড়িং বিড়িং করে নেচে বলছে ‘রাজা ফড়িং ধরছি, ঘাড় মটকাইয়া মারছি।’ অসংখ্য হাড়করোটির মাঝে এ কিশোরগুলো ফড়িং ফড়িং খেলার মাঝে কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জানালার ধারে দাঁড়িয়ে এ কথার মানে ঠিকই বুঝতে পারে নুরবানু। মুণ্ডিত মস্তকধারীদের হাতে নিহত বাবা-মায়ের প্রতীকী প্রতিশোধ নিতে কী এ খেলা? তা নুরবানু স্পষ্টতই বুঝতে পারে। কিছুক্ষণ পরে কী হবে তা হয়তোবা এ কিশোররা জানে না। নুরবানুর অবস্থাইবা কী হবে? এ কিশোরদের বাবা-মায়েরা কী বেঁচে আছে নাকি মুণ্ডিত মস্তকি হায়েনাদের হাতে দ্বিখণ্ডিত হয়েছে, না আগুনে পোড়া কাবাব হয়েছে, তার কথা কে বলতে পারবে। জায় জঙ্গলঘেরা মঙডুর এই ছোট উপত্যকায় কোনোক্রমে এখনো জান নিয়ে বেঁচে আছে কোব্বাত শেখ আর তার মা মরা মেয়ে নুরবানু। একমাত্র চোখের মনি নুরবানুর জেদের সাথে কোব্বাত শেখ কিছুতেই পেরে ওঠে না। মেয়ের শত কথার এক কথা। মরলে সে নিজের ভিটেমাটিতেই মরবে। জন্মভূমির ভিটেমাটি ছেড়ে কখনো সীমান্তের ওপারে যাবে না। কোব্বাত শেখ কেঁদেকেটে মেয়েকে অনেক বুঝিয়েছে ‘চল মা দম রাখতে হেপার যাইগা’। নুরবানুর গোঁ কোনোক্রমেই ছোটে না। মেয়েকে রেখে কোথায় যাবে কোব্বাত শেখ। অবশেষে বাবা ঠিকই বুঝতে পারে, কোয়াপ্রিং গ্রামের সাদেক ডাক্তারের ছেলে মজনুই মেয়ের জেদের একমাত্র কারণ। কোয়াপ্রিং গ্রাম এখন ভস্মীভূত। ওখানে ছাই ছাড়া আর কিছুই নেই। হুহু বাতাস বুক চাপড়িয়ে কাঁদে। শুনেছে সাদেক ডাক্তারের ছেলে মজনু এখন মুণ্ডিত মস্তকধারী হায়েনাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে লড়ছে। ইয়াছিন মুন্সির কাছে এ খবরটি শোনার পর সাদেক ডাক্তারের ছেলের কাছে নিজ থেকেই মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল কোব্বাত শেখ। বিধ্বস্ত বিপর্যস্ত ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে লেলিহান মঙডু। এই আগুনে পোড়া মঙডুর জঙ্গলঘেরা ছোট বাড়িতে আজ বাসর সাজিয়েছে নুরবানু। বিয়ের পর সে মজনুর হাত ধরে সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেবে, এখানে ওখানে ঘুরে এতিম শিশুদের বুকে তুলে নেবে, বিশ্ববিবেকের কাছে তুলে ধরবে এ পৃথিবীতে নবজাতকের বাঁচার জন্য এক টুকরো জায়গার ফরিয়াদ।
আর কত শকুন উড়বে, পোড়া মাংসের দুর্গন্ধ বাতাসে কতকাল গুমরিয়ে গুমরিয়ে কাঁদবে মঙডু।
পোড়া মাটিতে কি ফের শোনা যাবে না নবজাতকের কান্না। জীবন থেমে থাকে না। এর মাঝেই শুরু হয় জীবনের চাষবাস। মাটির টানে কিছু লোক ফিরে আসে। বিয়েশাদি, ঘরসংসার নিয়ে জীবনের ঘেরাটোপে ফিরে যায় গুটিকয় মানুষ। এর মাঝেই গুটিকয় মানুষ জীবনকে টেনে হিঁচড়ে সোজা করে দাঁড়াতে চায়, ছেলেপুলেরা এক্কাদোক্কা খেলায় মেতে ওঠে। সুনসান পরিবেশকে খান খান করে ভেঙে কয়েকটি কাক কা কা শব্দে ডেকে ওঠে। বিয়েবাড়িতে কাক ডাকা, এত নির্ঘাৎ অমঙ্গল। এই কালীসন্ধ্যায় কাক ডাকার তো কথা নয়। মঙডুর উপত্যকা বেয়ে একটি আঁকাবাঁকা পথ উঠে গেছে নুরবানুদের বাড়ির উঠোন অবধি। যেন বিশাল এক অজগর পাক দেয়া শরীর নিয়ে শুয়ে আছে সর্পিল পথে। আশপাশ দলিত মথিত করে ওপরের দিকে উঠবে, যে কোন সময়ে। অজগরের আগুনঝরা নিঃশ্বাসে পুড়বে শত শত গ্রাম। এ সময়ে দুনিয়ার কাক পক্ষীর বেশুমার ডক মঙডুতে কী বয়ে আনছে, আল্লাহই জানেন। কড়ই গাছের মগডালে বসা কালো প্যাঁচা লাল মার্বেলের মতো চোখগুলো ঘুরিয়ে ক্যাচর ক্যাচর ভয়ঙ্কর শব্দে শুধু ডেকেই যায়। কালো প্যাঁচার ডানা ছড়িয়ে নিকষ কালো আঁধার দ্রুত ধেয়ে আসে। নিমিষেই সেই আঁধারে ছেয়ে যায় মঙডুর আকাশ-বাতাস গাছপালা, গ্রাম সবকিছু। কালো আঁধারের ভেতর থেকে সন্ধ্যার অন্ধকার ঝুপ করে নেমে আসে মঙডুতে। পাহাড়ের ওপরে কাঠের পাটাতনের ঘর। ছোট চিলতে কোঠার জানালাটি খুলে দেয় নুরবানু। বাইরে হুহু বাতাস। এলোমেলো চুল ওড়ে। উদাস, উদভ্রান্ত দৃষ্টি চলে যায় মাইল বিশেক দূরের সাদেক মাস্টারের বাড়িতে। কী করছে মজনু? তার সশস্ত্র বিপ্লবের কতদূর? কী অলক্ষণে সময়রে বাবা; পুরাকালের মাৎসন্যায় সময় কি আবার ঘনিয়ে এলো এই কলিকালে। মুণ্ডিত মস্তকের বৌদ্ধ সন্যাসীরা বুদ্ধের মহামন্ত্র ভুলে কি জঘন্য পাপাচারে লিপ্ত হলো। পাতকের দলেরা লাল চোখ মেলে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। শুধু কি মুসলমান হওয়ায়ই দোষ তাদের। নুরবানুর চোখ ভিজে ওঠে। কোয়াংপ্রি গ্রামের সাদেক মাস্টারের ছেলে মজনুর বাঁধভাঙা ভালোবাসায় বাবা কোব্বাত শেখকে রাজি হতেই হলো এ বিয়েতে। সময় খুব খারাপ। মানুষে জান বাঁচিয়ে পার পায় না। তো বিয়ের চিন্তা করবে কোত্থেকে। মানুষ মরা, পোড়া গন্ধের মাঝে নুরবানু কিভাবে সাজাবে বাসরঘর। দিনকয়েক ধরেই এ বিষয়ক ফিসফিসানি আলাপ আগুন পোড়া বাতাসে ভাসে। মানুষের কোনো কথাকে আমলই দিতে চায় না কোব্বাত শেখ। কোন সময়ে কী হয়ে যায় তার কথা কালে কস্মিনেও কেউ বলতে পারে না। কোব্বাত শেখের মঙডুর চায়ের দোকানের ঝাঁপ ফেলতেই চার দিক থেকে ফুসফাস আলাপ-আলোচনার ঝড় ওঠে। বিয়েটার আঞ্জাম করা মহাঝামেলার ব্যাপার। তারপরেও মেয়ে বলে কথা। হ্যারিকেন হাতে উপত্যকা বেয়ে হেঁটে চলে কোব্বাত শেখ। পেছনে কে যেন গুনগুনিয়ে গেয়ে ওঠে ‘চিন্তাভাবনা কইরা দেহ নুরবানু তোমার এ সংসার, মজনু মিয়া আইয়া দেখবো মঙডু ছারখার।’ কোব্বাত শেখের কলজেটা অজানা আশঙ্কায় লাফাতে থাকে। ঘরে ফিরে দেখে টুকটুকে লাল শাড়িতে নুরবানু বসে আছে চকিতে, মেয়ের চোখ জলে টলমল।
২.
হনহন করে হেঁটে চলছেন সাদেক ডাক্তার। গলায় স্টেথিসকোপ হাতে ঝোলানো চামড়ার ব্যাগের থাকে থাকে আছে ব্যান্ডেজের সরঞ্জাম, ব্যথানাশক ট্যাবলেট তুলোর বান্ডিলসহ অনেক কিছু। বসার একদণ্ডও ফুরসৎ নেই। অসহায় আহত মানুষের কাতরানি সারাতে তার চামড়ার ব্যাগের নগন্য ওষুধ কতটুকুইবা কাজে লাগতে পারে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দৌড়াচ্ছেন। মৃত্যুম্মুখ মানুষের কাছে সামান্য ট্যাবলেট কতটুকু কাজে লাগবে তা সাদেক ডাক্তার ভালভাবেই জানেন। চোখের সামনে গ্রামের পর গ্রাম ছাই হতে দেখেছেন ডাক্তার। শতশত মানুষকে বৌদ্ধ হায়েনাদের গোখরো সাপের লকলকা চোখের কাছে বলি হতে দেখেছেন, এগ্রামে এখন আগুন তার পরের মুহুর্তেই অন্য গ্রামে অসহায় বনি আদমের আর্তচিৎকার। কোথায় যাবেন ডাক্তার, বিবস্ত্র তরুণীর রক্তমাখা মুখ, নিষ্পাপ ফুলের মতো শিশুর থেতলে যাওয়া বীভৎস চোখ, কুকুরের মানুষের মাংস টেনেহিঁচড়ে খাবার মহোল্লাস এ যেন যুদ্ধ বিধস্ত পোড়ামাটির কোনো ভুতুরে জনপদ। ছোট হোক বড় হোক সাদেক ডাক্তার তো একজন ডাক্তার। আহত মানুষের চিৎকারে ছুটে গিয়ে কেউর মাথাটি বুকের কাছে টেনে নিয়ে কোরামিন গিলিয়ে দিচ্ছেন, কাউকে সান্ত্বনার বাণী শোনাচ্ছেন, তোমাকে হাসপাতালে পাঠাব এখুনি, কাউকে আবার পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে লেলিহান আগুনের মাঝে ছুটে চলেছেন নিরাপদ স্থানের আশায়, কোন বিবস্ত্র তরুনিকে নিজের গায়ের পাঞ্জাবি খুলে ছুড়ে মেরেছেন আব্রু ঢাকার জন্য। কখনোবা কোন পচে যাওয়া লাশকে মাটি চাপা দিতে গোর খোদার জন্য নিজ হাতে কোদাল ধরেছেন। দাউ দাউ আগুনে পুড়ছে পাখির ডানা, বনবাদার সবকিছু, আগুনের লেলিহান শিখায় অসহায় মানুষের আর্তনাদের মাঝে কয়েকজন সশস্ত্র তরুণ যুদ্ধের ডাক দিতে দিতে হাতে তীর, ধনুক, দা, বল্লম নিয়ে উল্কাবেগে ছুটে যাচ্ছে। বৃষ্টির মতো অবিরাম গুলিবর্ষণের মাঝে ছুটে চলা এই সশস্ত্র তরুণ এরা কারা? মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাওয়া ভাবনায় হা হা করে হাসতে থাকেন সাদেক ডাক্তার। গোর দিতে আসা সাদেক ডাক্তারের কোদাল যেন এ মুহূর্তে থেমে থেমে যেতে চায়। পর মুহূর্তে মনে হয় এই যে সশস্ত্র তরুণদের মধ্যে একজন তার সামনে উল্কার মতো নিমিষেই হারিয়ে গেল, এ কি মজনু? মজনু যদি হয়ে থাকে তবে অনেক ভালো। কিন্তু এওকি সম্ভব। নুরবানু যে বসে আছে নববধূর সাজে এ কথা কি মজনুর মনে আছে? সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, মজনুকে বরবেশে যেতে হবে মঙডুতে, আহা নুরবানু সে তো নববধূ সেজে মজনুর অপেক্ষায় বসে আছে। ঠিক এ মুহূর্তে বিদ্যুৎগতিতে খবর পৌঁছে গেল। মঙডুতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শত শত মানুষকে পশুর মতো জবাই করা হচ্ছে। সাদেক ডাক্তারের আর তর সয় না। পাহাড়ি রাস্তায় একজন পরিশ্রান্ত বিধ্বস্ত মানুষের দ্রুত হেঁটে মঙডুতে পৌঁছা কি সম্ভব?
৩.
প্যাঁচার কালো মার্বেলের চোখের মতো ঘুটঘুটে আঁধার। দুশ্চিন্তার পাহাড় মাথায় নিয়ে ঘরের দাওয়ায় পায়চারি করছেন কোব্বাত শেখ। ইয়াসিন মুন্সি ভেবে পাচ্ছে না মজনুর আসায় এত বিলম্ব কেন। তবে কি সে কোনো বিপদে পড়েছে। নিশুতি রাত ভেদ করে দাওয়ার বাঁশে ঝোলানো হ্যারিকেনটি জ্বলছে টিমটিম করে। কয়েকটি নেড়ে কুকুর মঙডুর রাতের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে আউ আউ শব্দে সাইরেন বাজিয়ে চলছে। আর এদিকে ঘুটঘুটে আঁধারের মাঝে লাল টুকটুকে শাড়ি পরা নুরবানুর নিথর চোখ দুটো তাকিয়ে আছে সামনের নিকষ কালো আঁধারের দিকে। মজনু যদি না আসে, আজ রাতই হবে নুরবানুর শেষ রাত। মজনুকে তো আসতেই হবে...। হ্যারিকেনের মৃদু আলো দমকা হাওয়ায় কাঁপে, বাঁশবনের পাতার সরসর আওয়াজ হাওয়ার করতালিতে কোথায় যে হারিয়ে যায় নুরবানু তা বলতে পারে না। বিহবল কোব্বাত শেখ দুছমুছিয়ে ঘরে ঢোকে, অশ্রু ভারাক্রান্ত চোখ নিয়ে মেয়েকে পরম মমতায় ডাকে ‘মা...মাগো মনডারে শক্ত কর মা ল... আমরা পলাইয়া যাই।’ হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে নুরবানু ‘বাবা তোমার পায়ে পড়ি, একটি রাত শুধু আমাকে মঙডুতে থাকতে দাও, তুমি চলে যাও বাবা...।’ হঠাৎ কান ফাটানো এক বিকট শব্দে নুরবানুর শেষের কথাটি হারিয়ে যায়। প্রচণ্ড শব্দে হ্যারিকেনের চিমনি ফেটে গিয়ে পাটাতনের ঘর নিকষ কালো আঁধারে ডুবে যায়। ইয়াসিন মুন্সি চিৎকার করে বলে ওঠে ‘কোব্বাত রানদা নিয়ে শিগগির বের হও, নুরবানুকে পালিয়ে যেতে বলো...।’ ততক্ষণে নিকষ কালো আঁধার ভেদ করে আগুনের শিশা বিকট আওয়াজে প্রলয়ের সাইরেন বাজিয়ে যাচ্ছে। লেলিহান আগুনের মাঝে অসহায় বিপন্ন মানুষের মরণচিৎকার মঙডুর আকাশে বাতাসকে গ্রাস করছে। যেভাবেই হোক নুরবানুকে শকুনের বিষাক্ত নখর থেকে বাঁচাতে হবে, তাতে কোব্বাত শেখের প্রাণ যায় যাক। অন্ধকারে পাগলের মতো আতিপাতি করে খোঁজে রান দা, ক্রুদ্ধ বাঘের মতো গর্জন করে ওঠে কোব্বাত। ততক্ষণে বর্মি নরখাদকরা হাতে উদ্যত স্টেন নিয়ে ঢুকে পড়েছে, টর্চলাইটের ফোকাসে নুরবানুকে দেখে এগিয়ে যায় নরখাদকের দল, পরমুহূর্তে ক্রুদ্ধ বাঘের মতো গর্জে ওঠে কোব্বাত শেখ ‘সাবধান একপা এগোবি তো কল্লা ফেলে দিব।’ সে মুহূর্তে স্টেনের ব্রাশফায়ারে গাড় অন্ধকারে ডুবে যায় মঙডু। ঘুটঘুটে আঁধারের মাঝে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। নুরবানুর আর্তচিৎকার কোব্বাত শেখের মরণ চিৎকারে হাউ মাউ করে কাঁদে আরাকানের আকাশ বাতাস, রক্তের একটি ক্ষীণধারা গড়িয়ে পড়ে মঙডুর পাক খাওয়া উপত্যকার সর্পিল পথে।
সাদেক ডাক্তারের সাইকেলটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে মজনু। এই গভীর রাতে সাইকেল চালিয়ে মঙডুতে আসা বিপজ্জনক। সাইকেলটি ঝোঁপের পাশে ফেলে হনহন করে হেঁটে কখনো ঊর্ধ্বশ্বাসে মজনু দৌড়াতে থাকে। ততক্ষণে মঙডুর আকাশে বাতাসে পোড়া ছাই উড়ছে। নুরবানু কি তার আশায় এখন্ োলাল টুকটুকে শাড়ি পরে বসে আছে, নাকি বৌদ্ধ হায়েনারা তার শরীর ক্ষতবিক্ষত করে চেটেপুটে খেয়েছে। বিধ্বস্ত বিপর্যস্ত মজনু যখন মঙডুতে পৌঁছে তখন রাত ভোর। একটি আগুনের কুণ্ডলি পাক খেতে খেতে ওপরের দিকে উঠছে। বাঁশের আগায় ঝুলে আছে আধপোড়া এক লাল বেনারশি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫