ঢাকা, শনিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আইন ও বিচার

কী আছে  মাওলানা সাঈদীর রিভিউ রায়ে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০৬:১৩


প্রিন্ট
কী আছে  মাওলানা সাঈদীর রিভিউ রায়ে?

কী আছে  মাওলানা সাঈদীর রিভিউ রায়ে?

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় খালাস চেয়ে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর এবং সাজা বৃদ্ধি চেয়ে রাষ্ট্রপরে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। সাত পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশের পর তা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে। 


মঙ্গলবার রিভিউ আবেদনের রায়ের কপি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয় বলে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার সেলিম মিয়া জানান। 
রিভিউ খারিজের রায়ে বলা হয়, রিভিউ আবেদনের মধ্যে পুনঃশুনানির কোনো কারণ খুঁজে পাননি আপিল বিভাগ। এমনকি আবেদনকারী প রায়ের মধ্যে এমন কোনো ভুল বা ত্রুটি দেখাতে পারেনি যার ভিত্তিতে বিষয়টির পুনঃশুনানি করা যেতে পারে। এ কারণেই আদালত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আপিলের দেয়া রায় সঠিক মনে করছেন এবং রিভিউ আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। 


গত ১৫ মে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ মাওলানা সাঈদীর খালাস চেয়ে একটি এবং তার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের একটি রিভিউ আবেদন খারিজ করে তার আমৃত্যু কারাদণ্ড বহাল রাখেন। রায় প্রদানকারী অন্য বিচারপতিরা হলেনÑ বিচারপতি মো: আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।


২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন দায়ের করেন। এরপর ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল চেয়ে রিভিউ আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। 
২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়ে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি মো: মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায়ে বিচারপতি মো: আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা সব অভিযোগ থেকে মাওলানা সাঈদীকে খালাস দিয়েছেন। 


২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

 

মাসুদ সাঈদী প্রধান অতিথি থাকায় পুলিশের বাধায় ঈদ পুনঃমিলনী পণ্ড
 ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে একতা ক্লাব ও পাঠাগারের ঈদ পুনঃমিলনী অনুষ্ঠানকে বিএনপি জামায়াতের পুনঃমিলনী বলে অভিহিত করে পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় একতা ক্লাব ও পাঠাগারের অনুষ্ঠান শুরুর আগে দুপুর ১২ টায় ক্লাবের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠান স্থলে পৌছলে পুলিশ অনুমতি নেয়া হয়নি এমন অভিযোগ এনে উপস্থিত সকলকে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বলে এবং প্যান্ডেল গেট ও তোরণ খুলে ফেলতে এবং চেয়ার টেবিল সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়।

পুলিশের ভয়ে ক্লাব কমিটির লোকজন আত্মগোপন করায় পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে ডেকোরেটরের লোক দিয়ে এসব মালামাল সরিয়ে ফেলে। ইন্দুরকানী থানার ওসি নাসির উদ্দিন, ওসি (তদন্ত) আব্দুস সালাম সহ একদল পুলিশ সেখানে ঘন্টাব্যাপী অবস্থান করে প্যান্ডেল ভাঙ্গার পর তারা চলে আসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামচন্দ্রপুর একতা ক্লাব ও পাঠাগারের সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম জামায়াত সমর্থক হওয়ায় এবং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যার মাসুদ সাঈদী, বিশেষ অতিথি সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক গাজী, স্থানীয় জাতীয় পার্টি ( জেপি) নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা বাছাই কমিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন হাওলাদার সহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি নেতাকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও এলাকার সূদীজনের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্ড ক্লাব কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি অবহিত না করায় অনুষ্ঠান শুরুর আগেই পুলিশ অনুষ্ঠান ভেঙ্গে দেয়। এ অনুষ্ঠানে ৫ শতাধিক লোকের দাওয়াত ও তাদের দুপুরের খাবার প্রস্তুত ছিল।

রামচন্দ্রপুর একতা ক্লাব ও পাঠাগারের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর আমরা ক্লাবের সদস্য ও এলাকাবসীকে নিয়ে ঈদ পূনঃমিলনী অনুষ্ঠান করি। এ বছরও সেভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কিন্ত পুলিশের অনুমতি না নেয়ায় অনুষ্ঠান শুরুর আগেই পুলিশ বাধা দিয়ে অনুষ্ঠান পণ্ড করে।
এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার ওসি মোঃ নাসির উদ্দিন জানায়, পুলিশের অনুমতি ছাড়া এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় উপরের নির্দেশে আমরা তাদের অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করেছি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫