ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

প্রথম পাতা

রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদপে নিতে হবে

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শেষে বিবৃতি

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:২১


প্রিন্ট

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ। সেখানে সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদপে নিতে মিয়ানমার কর্তৃপরে প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সেনা অভিযানে হত্যাÑ অগ্নিসংযোগের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার প্রোপটে বুধবার এই সঙ্কট নিয়ে আলোচনায় বসে নিরাপত্তা পরিষদ।
বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৫ সদস্যের এই কাউন্সিল মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অতিরিক্ত সহিংসতার খবরে উদ্বেগ জানিয়েছে। ‘রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদপে, পরিস্থিতির উত্তরণ, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বেসামরিকদের সুরা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।’ রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিল পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য ও অস্থায়ী সদস্য সুইডেন। বিডিনিউজ।
বৈঠকের পর জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রাইক্রফট বলেন, গত ৯ বছরের মধ্যে এই প্রথম মিয়ানমার নিয়ে বিবৃতিতে সম্মত হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।
যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স। এই দেশগুলোর প্রতিটির যেকোনো প্রস্তাব আটকে দেয়ার মতা রয়েছে।
মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি রয়েছে চীনের, সম্প্রতি বাংলাদেশে নিয়োজিত দেশটির রাষ্ট্রদূত চলমান এই সঙ্কটের জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করেন।
বিদ্রোহীগোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) গত ২৪ অগাস্ট রাতে রাখাইনে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
পরদিন থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ঢল। কয়েকশ দশক ধরে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশে নতুন করে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা এসেছে।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করছে। তাদের সাথে যোগ দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইনরা।
নিরাপত্তা পরিষদের ওই বৈঠকের আগে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরাস রাখাইনে সেনা অভিযান স্থগিত এবং রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধের জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
নিউ ইয়র্কে সংস্থাটির সদরদফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটে মানবিক পরিস্থিতি বিপর্যয়কর অবস্থায় পৌঁছেছে।
‘গত সপ্তাহে যখন আমরা মিলিত হয়েছিলাম সে সময় এক লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছিল। এই সংখ্যা এখন তিনগুণ হয়ে প্রায় তিন লাখ ৮০ হাজার হয়েছে।
‘অনেকে তাঁবু দিয়ে অস্থায়ী ঘর করে বা নিজেদের যা আছে তাই নিয়ে উদারতার সাথে পাশে দাঁড়ানো স্থানীয়দের সাথে থাকছেন। কিন্তু নারী ও শিশুরা আসছে ুধা ও অপুষ্টি নিয়ে।’
এই সঙ্কটকে জাতিগত নির্মূল বলা যায় কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জনগোষ্ঠীর (রোহিঙ্গাদের) এক-তৃতীয়াংশকে দেশ থেকে পালাতে হয়েছেÑ এটাকে বোঝানোর জন্য আপনি কি আর কোনো ভালো শব্দ পাবেন?’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫