ঢাকা, শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭

শেষের পাতা

বিএনপির ত্রাণবাহী ট্রাক আটকের নিন্দা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনায় বক্তৃতা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর :নয়া দিগন্ত

তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনায় বক্তৃতা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর :নয়া দিগন্ত

রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় রিলিফ টিমকে সরকার কক্সবাজারের উখিয়ায় যেতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে এই ঘটনায় সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি গতকাল এক আলোচনা সভায় এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। তারা যে বলছেন তারা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটা শুধু আইওয়াশ বলে প্রমাণিত হচ্ছে। সেই সাথে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায় নিয়ে সংসদে আলোচনার প্রস্তাব সংসদকে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে প্রতিপ দাঁড় করানো হিসেবে অভিহিত করেন মির্জা ফখরুল।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দশম কারামুক্তি দিবস উপলে এই আলোচনা সভা হয়। এতে সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে (বুধবার) সংসদ একটি প্রস্তাব আনা হচ্ছে। এটা সুনির্দিষ্টভাবে পার্লামেন্টকে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে প্রতিপ হিসেবে দাঁড় করানো। আমরা এর ঘোর নিন্দা জানাচ্ছি। এভাবে বিচার বিভাগকে হেয়প্রতিপন্ন করে, প্রধান বিচারপতিকে হেয়প্রতিপন্ন করে, বিচারপতিদের হেয়প্রতিপন্ন করে আজকে রাষ্ট্রের মূলভিত্তিকে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই রাষ্ট্রকে তারা সত্যিকারভাবে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্্র হিসেবে রাখতে চায় না। তারা চায় পুরোপুরিভাবে একটা পরনির্ভরশীল দুর্বল জাতি হিসেবে রাখতে।
রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে বিএনপির কেন্দ্রীয় রিলিফ টিমকে বাধা প্রদানের ঘটনায় ােভ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গাদের খাদ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে আমাদের উচ্চপর্যায়ের টিমকে আটকে দেয়া হয়েছে কক্সবাজারে। ধিক্কার দেই আপনাদেরকে, ঘৃণা প্রকাশ করি যে, আপনারা ত্রাণের মতো মহৎ কাজ পর্যন্ত করতে দেন না। আমার প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর কাছে, সরকারের কাছে। আপনি যে গতকাল (মঙ্গলবার) কক্সবাজারে উখিয়ায় গিয়ে ওই রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিলেন। পত্রপত্রিকায় বিভিন্নভাবে লেখা হলো প্রধানমন্ত্রী কাঁদলেন, কাঁদালেন। আজকে এই যে ২০-২২ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে আমাদের নেতারা গেলেন, তারা তো অন্তত ৪-৫ হাজার অসহায় ুধার্ত রোহিঙ্গার মুখে একবেলা খাবার তুলে দিতে পারতেন। সেই খাওয়া থেকে ও খাদ্য থেকে তাদেরকে কেন আপনি বঞ্চিত করলেন? আসলে উদ্দেশ্য একটাইÑ আপনারা তো ত্রাণ দেয়ার লোকদেখানো কাজ করছেন, আপনারা মানুষকে বাঁচানোর জন্য করছেন না।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটা মাত্র স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে দেখছি তারা চিকিৎসাসবা দিচ্ছে। সরকার চিকিৎসা কেন্দ্র খুলেছে কি না আমি জানি না। আমরা দেখেছি উন্মুক্ত আকাশের নিচে তারা বৃষ্টি বাদলের মধ্যে দুস্থ-দুর্বল শিশুদের নিয়ে অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। অবিলম্বে কেন্দ্রীয় ত্রাণ টিমকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে যাওয়ার বাধা তুলে নেয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে কক্সবাজারে কেন্দ্রীয় রিলিফ টিমকে উখিয়াতে প্রশাসন যেতে দিচ্ছে না, পুলিশ ট্রাক আটকিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কক্সবাজারে আমাদের বিএনপি অফিস পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আমাদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অফিস ঘরে আটকা পড়েছেন। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে অবিলম্বে বিএনপির রিলিফ টিমকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সেখানে যেতে দিতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এই সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। আসলে তারা রোহিঙ্গাদের পে দাঁড়াননি। যদি দাঁড়াতেন তাহলে তারা আজকে বিএনপির রিলিফ টিমকে উখিয়ায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাধা দিতেন না।
অনুষ্ঠানে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের কাছে আমাদের রিলিফ টিমকে যেতে দেয়া হলো না। চীনের প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলাদেশে এলেন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশের সাথে চীনের সম্পর্ক আকাশচুম্বী। তিনি যখন ভারতে গেলেন তখন বলেছিলেন ভারতের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক হিমালয় প্রমাণ উচ্চ। অথচ আজকে রোহিঙ্গার মতো মানবিক ইস্যুতে চীন ও ভারত বাংলাদেশের পাশে নেই। তারা মিয়ানমারের পাশে আছে, যারা খুন করছে, জেনোসাইড করছে তাদের পাশে আছে। তাই প্রধানমন্ত্রী যে এত কথা বলেছেন আজকে প্রমাণিত হয়েছে উনি দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করেছেন।
মঙ্গলবার ঢাকা থেকে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল কক্সবাজার যায়। প্রতিনিধিদলে আছেন সিনিয়র নেতা নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫