ঢাকা, শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭

শেষের পাতা

ময়মনসিংহ-৮ আসন

বিএনপি-আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এক ডজন

মাঠে রয়েছে জামায়াত, জাপা ও এলডিপি

মো: আব্দুল আউয়াল ঈশ^রগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

দরজায় কড়া নাড়ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সরব হয়ে উঠেছেন। গ্রাম থেকে গ্রাম চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাদের পদচারণায় তৃণমূল নেতাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে উচ্ছ্বাস, ভোটারদের মধ্যে চাঞ্চল্য। জাতীয় সংসদের ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলে অর্ধডজন করে প্রার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, এলডিপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে একজন করে প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলো এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও আলোচনায় উঠে এসেছে প্রভাবশালী নেতাদের পাশাপাশি তরুণ নেতাদের নাম। ইতোমধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলীয় প্রার্থী হিসেবে নিজ নিজ নাম ঘোষণা করে মাঠে নেমে পড়েছেন। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি শোডাউন। তারা মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে গ্রাম থেকে গ্রামে গিয়ে সর্বস্তরের জনসাধারণসহ দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় বর্ধিত সভা, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে পথসভা, ইউনিয়নভিত্তিক শোডাউন এবং সমাবেশ করার পাশাপাশি বিয়ে-শাদিতে অংশগ্রহণ, ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান প্রদান, অসুস্থ নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করছেন। প্রচারণায় বাদ যাচ্ছে না ফেসবুক-টুইটারও। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, রাস্তা কিংবা রাস্তার মোড়ে মোড়ে নেতানেত্রীর ছবিসংবলিত পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন সাঁটিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশার জানান দিচ্ছেন। বিশেষ দিবসে গণভোজের আয়োজন করে জমজমাট নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অন্য দিকে ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। প্রকাশ্যে দলীয় কোনো প্রার্থী মাঠে কাজ না করলেও তারা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে নির্বাচনে অংশ নিতে সব রকমের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি। রাজনৈতিক দলগুলোতে কে কাকে ঘায়েল করে নিজের মনোনয়ন নিশ্চিত করবেন সেই প্রতিযোগিতা ভালোই জমে উঠেছে। ফলে মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে দিন দিনই বাড়ছে তিক্ততা ও উত্তেজনা। আগামী নির্বাচনে পুরনো অনেক প্রার্থী এবার বাদ পড়তে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ কারণে তরুণ নেতারাও দলীয় মনোনয়ন পেতে মনোনয়ন দৌড়ে সমান তালে এগোচ্ছেন। এ আসনে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের হিসাব মেলাতে দলের হাইকমান্ডকে হিমশিম খেতে হবে বলে মনে করেন তৃণমূল নেতারা। তবে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে দলগুলো যেন প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, উন্নয়ন কাজে উদার মানসিকতা, দায়িত্বশীলতা, সততা, ত্যাগ, শিক্ষা ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করবে এমন প্রত্যাশা ভোটারদের।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ^রগঞ্জ) আসনটি ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ভোটার রয়েছেন দুই লাখ ৭০ হাজার ৭৮৭ জন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে তিনবার, বিএনপি থেকে তিনবার এবং জাতীয় পার্টি থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ থেকে অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল কাদির, ১৯৭৯ ও ১৯৯৬ সালের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ১৯৮৬ ও ২০১৪ সালে (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) জাতীয় পার্টি থেকে ফখরুল ইমাম, ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে খুররম খান চৌধুরী, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মো: আবদুছ ছাত্তার, ২০০১ সালে বিএনপি থেকে শাহ নূরুল কবির শাহীন এমপি নির্বাচিত হন।
এ আসনে জাতীয় পার্টির একমাত্র মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমান এমপি ফখরুল ইমাম। আসনটি ধরে রাখতে তিনি ইউনিয়নপর্যায়ে গণসংযোগ করছেন। আসন্ন নির্বাচনে তিনিই মহাজোট থেকে মনোনয়ন পাবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে নির্বাচনী ফসল গোলায় তোলার মতো শক্তি জাতীয় পার্টির আছে কি না এ নিয়ে তৃণমূল নেতাদের মধ্যেই যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন দলের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি মো: আবদুছ ছাত্তার। তারই ভাতিজা ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান সুমন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৌমেন্দ্র কিশোর চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা তরিকুল হাসান তারেক, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিম বিপিএম এবং বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য ও বেক্সিমকোর পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক। আধা ডজন নেতা মনোনয়ন দৌড় প্রতিযোগিতায় নামলেও মূল লড়াই হবে চাচা-ভাতিজার মধ্যে। আব্দুছ ছাত্তার এ আসন থেকে দুইবার এমপি হয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় তিনি। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলেও বাদ সাধতে পারেন তারই আপন ভাতিজা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান সুমন। বয়সে তরুণ হলেও প্রার্থী হিসেবে তারও রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। দলীয় কর্মসূচিসহ নির্বাচনী মাঠে চাচার সাথে সমানতালেই গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন তিনি। অবশ্য শতভাগ মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৌমেন্দ্র কিশোর চৌধুরীও। ২০০১ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে অংশ নিয়ে ছিলেন।
বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি শাহ নূরুল কবির শাহীন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, সৌদি আরব (পশ্চিম) বিএনপির উপদেষ্টা প্রফেসর ডা: কাজী মঞ্জুরুল হক সেলিম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল এবং উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান লিটন। একাধিক প্রার্থী থাকলেও তৃণমূল নেতারা শক্তিশালী প্রার্থী ভাবছেন দু’জনকেই। একজন ২০০১ সালে এ আসন থকে নির্বাচিত এমপি শাহ নূরুল কবির শাহীন আর অন্যজন সফ্টওয়্যার প্রকৌশলী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। বিএনপি আমলে এলাকার উন্নয়নে নূরুল কবির শাহীনের ভূমিকার কথা ভোটারদের মুখে মুখে এখনো উচ্চারিত হয়। তবে এমপি হয়ে নেতাকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় না রাখায় দলীয়ভাবে তিনি এখন কোণঠাসা। এরপরও তিনিই মনোনয়ন পাবেন বলে দৃঢ় আশা তার। এ দিকে তরুণ নেতা ও ভালো মানুষ হিসেবে ইতোমধ্যে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদ-আপদে ত্রাণকর্তা, মসজিদ-মাদরাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান, দুস্থ-অসহায় মানুষের সহায়তার পাশাপাশি অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ার মধ্য দিয়ে তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে জনপ্রিয়তা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। ভোটাররা তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে দেখছেন আশীর্বাদ হিসেবে। তৃণমূল নেতারা বলছেন, বিএনপিতে মনোনয়নের মূল প্রতিযোগিতা এ দুই নেতার মধ্যেই হবে।
এলডিপি থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ বাশার একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় গণসংযোগ করছেন। সাংগঠনিকভাবে কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। জনপ্রিয়তা অর্জনে নানা কর্মসূচি পালন করছে দলটি। ১৯৯৬ সালে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা: এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ। দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করা হলেও তিনিই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ২০ দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন মনোনয়ন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ যাই হোক না কেন মনোনয়ন পাওয়ার পর মাঠের হিসাব বদলে যেতে পারে অনেকটাই। জয়পরাজয়ের হিসাবের অঙ্কটা মেলাতে হবে মনোনয়ন পাওয়ার পরেই।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫