ঢাকা, বুধবার,২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

প্রথম পাতা

কক্সবাজারে বিএনপির ত্রাণবাহী ট্রাকবহর আটকে দিয়েছে পুলিশ

আমরা কি ত্রাণও দিতে পারব না, প্রশ্ন মির্জা আব্বাসের

কক্সবাজার সংবাদদাতা

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
কক্সবাজার বিএনপির ত্রাণবাহী গাড়ি বহর আটকে দেয়ার পর পুলিশের সাথে কথা বলছেন মির্জা আব্বাস :নয়া দিগন্ত

কক্সবাজার বিএনপির ত্রাণবাহী গাড়ি বহর আটকে দেয়ার পর পুলিশের সাথে কথা বলছেন মির্জা আব্বাস :নয়া দিগন্ত

নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের কাছে বিতরণের জন্য বিএনপির ত্রাণবাহী গাড়ি আটকে দিয়েছে পুলিশ। একই সাথে তারা বিএনপির নেতাদেরও অবরুদ্ধ রাখে। পরে বিকেলে নেতারা হোটেলে গিয়ে অবস্থান নিলেও ত্রাণবাহী গাড়িগুলো জেলা বিএনপি কার্যালয় সম্মুখের সার্কিট হাউজ সড়কের একপাশে ব্যারিকেডের মধ্যে ছিল। বিএনপির ত্রাণবাহী গাড়িবহরে কয়েক দফা বাধা দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। প্রথমে গতকাল বেলা ২টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে উখিয়া কুতুপালংয়ের উদ্দেশে ত্রাণবাহী গাড়িবহর কক্সবাজার থেকে রওনা দেয়ার প্রাক্কালে গাড়িবহরের সামনে পুলিশের একটি গাড়ি দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয় এবং পরে বেলা সাড়ে ৩টায় উখিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করার চেষ্টা করা হলে আবারো বিএনপির গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। ত্রাণবাহী গাড়িগুলো পুলিশ সুপার কার্যালয় মোড়ে সারা দিন অবস্থান নেয়। বারবার পুলিশি বাধায় ব্যর্থ হয়ে মির্জা আব্বাস ব্যারিকেড থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অবশ্য পরে তাকে হোটেলে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। এর আগে সংক্ষিপ্ত প্রেসব্রিফিংয়ে মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, অসহায় শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ বিতরণে তো কোনো রাজনীতি নেই, সরকার আমাদের ত্রাণও দিতে দিচ্ছে না। এটা চরম অমানবিক কাজ। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সাহায্য নিয়ে আমারা কক্সবাজার এসেছিলাম; কিন্তু এখানে পুলিশ আমাদের গাড়িবহরকে বিভিন্ন অজুহাতে আটকে দিয়েছে। শরণার্থীদের কাছে যেতে দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, কক্সবাজার প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে বলা হলো আপনারা বেলা ২টার পরে যান। কূটনৈতিকেরা চলে গেলে আপনারা যাবেন। আমরা মেনে নিলাম। আমরা ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে রওনা দেয়ার সময় আমার গাড়ির পেছনে সব গাড়ি আসার কথা; কিন্তু পুলিশ গাড়িবহরের মুখোমুখি তাদের একটি গাড়ি দিয়ে আমাদের বহরকে আটকে দেয়। মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা ত্রাণ দিতে এসেছি। অন্য কিছু নয়। তাই সরকারের উচিত ছিল আমাদের নির্বিঘেœ নিপীড়িত মানুষের কাছে যেতে দেয়া কিন্তু তারা পদে পদে বাধা দিচ্ছে। এককভাবে একটি রাজনৈতিক দল ২০ ট্রাক মালামাল নিয়ে ত্রাণ দিতে এসেছে। এমন কী আওয়ামী লীগও আসেনি। ওবায়দুল কাদের সাহেব যদি এসে থাকেন সরকারের কিছু মাল নিয়ে এসেছেন’ তাও একেবারে অপ্রতুল। আমরা প্রায় ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার সদস্যের জন্য ত্রাণ নিয়ে এসেছি। বিশাল ত্রাণের বহর দেখে আওয়ামী লীগ সহ্য করতে পারছে না, এটা ওনাদের ভালো লাগছে না।
তিনি অভিযোগ করেন বিএনপি নেত্রী যদি নির্যাতিত মানুষের পক্ষে মাঠে না নামতেন এবং রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিবৃতি না দিতেন তাহলে আওয়ামী লীগ রোহিঙ্গাদের জন্য মাঠে নামত না। আওয়ামী লীগের উচিত ছিল আমাদের ত্রাণবহরকে স্বাগত জানানো। অথচ আমরা দেখলাম আমরা ত্রাণও দিতে পারব না। গতকাল আমাদের বিমানকে দুই ঘণ্টা বিলম্ব করা হলো। সমগ্র কক্সবাজারকে বন্ধ করে দেয়া হলো। তিনি বলেন, লোক দেখানো কাজ বিএনপি করে না বরং আওয়ামী লীগই লোক দেখানো কাজ করে।
তিনি বলেন, আমরা এখানে ত্রাণ দিতে এসেছি, ঝগড়া করতে আসিনি। ত্রাণ দিয়েই ফিরে যাবো কক্সবাজার থেকে। উল্লেখ্য, বিএনপির ত্রাণবহরের সাথে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সহসভাপতি শামসুজ্জামান দুদু, কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী প্রমুখ।
কক্সবাজার (দক্ষিণ) সংবাদদাতা জানান, জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক ইউসুফ বদরী সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ত্রাণবাহী গাড়ি কোথাও যেতে পারবে না বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর পরই জেলা বিএনপি সভাপতি উখিয়া টেকনাফের সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী ও সদর আসনের সাবেক এমপি লুৎফর রহমান কাজল জেলা প্রশাসক কার্যাালয়ে গেলেও জেলা প্রশাসকসহ অন্যরা বাইরে থাকায় দেখা করা সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় জেলা প্রশাসকসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাইরে রয়েছেন।
নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) তাহমিলুর রহমান জানান, ব্যক্তি বিশেষের ব্যানারে ত্রাণ দেয়া যাবে না। যারা ত্রাণ দিতে চায় তাদের প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তবে বিএনপির বিষয়টি আমি জানি না।
এ দিকে ত্রাণবাহী ট্রাকের পাশে অবস্থান নেয়া পুলিশের এসআই আবুবকর জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো কোথাও যেতে না দিতে ওপরের নির্দেশনা রয়েছে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫