ঢাকা, শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭

প্রথম পাতা

জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে সম্পদ পাচারের তদন্ত চলছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:৩৭


প্রিন্ট

জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে সম্পদ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়া পরিবারের ১২টি দেশে ১২০০ কোটি টাকা পাচার সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের (জিআইএন) রিপোর্ট সরকারের হাতে এসেছে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে যারা দেশের জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে পাচারকৃত অর্থ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফেরত আনা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে মানিলন্ডারিংয়ের জন্য তদন্তের একটা ব্যবস্থা আছে। জিয়া পরিবারের সম্পদ পাচারের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তথ্যগুলো যখন বের হয়েছে তখন নিশ্চয় আমাদের কাছে আছে এবং এটি নিয়ে তদন্ত চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, একথা তো সবাই জানে বিএনপি মতায় আসার পর একদিকে মানুষ হত্যা-খুন করেছে। আন্দোলনের নামে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। একদিকে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ, অন্য দিকে মতায় থাকতে দুর্নীতি করা, অর্থ পাচার করা এ ধরনের বহু অভিযোগ তো জনগণ সব সময় করেছে এবং এটি সবাই জানে। এ জন্য খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের পাচারকৃত কিছু টাকা আমরা ফেরত এনেছি।
সংসদে বিরোধী দল থেকে প্রশ্নটি আসায় ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, সরকারি দলের কেউ প্রশ্নটি আনলে অনেকেই মায়াকান্না করে বলতেন সরকার হিংসা করে এগুলো বলছে। শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের সম্পদ যারা লুটে নিয়েছে নিশ্চয় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্ত করে যখনই আমরা সঠিক তথ্য পাব কোথায় কিভাবে রয়েছে নিশ্চয় আমরা ফেরত আনার পদপে নেবো। এরই মধ্যে আমরা কিছু পদপে নিয়েছি। তদন্ত চলার স্বার্থে হয়তো সব আমি বলতে পারলাম না। তবে সত্যতা প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরকারি দলের মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শান্তিপ্রিয় দেশ গঠনে সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। এ কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সরকারের দক্ষ পরিচালনায় অর্থনীতির সব সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সামাজিক সূচকগুলোর অগ্রগতিতে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে।
সরকারি দলের ফরিদুল হক খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জঙ্গি কর্মকা একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। তবে আমাদের মানুষ ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধ নয়। ফলে ইতোমধ্যে জঙ্গি দমনে আমাদের সফলতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি বলেন, জঙ্গিরা যেমন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে তাদের কর্মকা পরিচালনা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি তাদের অর্থের জোগানদাতা ও মদদদাতারাও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। তিনি জানান, বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স এবং দেশীয় অর্থ কোনো জঙ্গি তৎপরতায় ব্যবহৃত হচ্ছে কি না এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। এ ছাড়া কোনো বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, হাসপাতাল, কিনিক, কোচিং সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি তৎপরতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সীমান্তে অবৈধ অর্থের লেনদেন, আদান-প্রদান, চলাচল ও স্থানান্তর একই সাথে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস, মোবাইল ব্যাংকিং ও বিকাশের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অর্থ আদান-প্রদান হচ্ছে কি না সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত আছে।
শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গি অর্থায়ন সংক্রান্ত রুজুকৃত মামলাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জঙ্গি অর্থায়নের সাথে আরো বেশ কিছু ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে মর্মে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের শনাক্ত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। দেশে জঙ্গি উৎস অনুসন্ধান কার্যক্রম আরো জোরদারকরণ এবং এ কার্যক্রম অধিকতর সমন্বয়ের লক্ষ্যে গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনীসমূহ নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ পাওয়া মাত্র তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫