ঢাকা, শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭

আরো খবর

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা

ময়নাতদন্তে মাথায় আঘাতে রুপার মৃত্যু ও ধর্ষণের আলামত মিলেছে

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মেধাবী কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মাথায় আঘাতের কারণে মৃত্যু ও মৃত্যুর আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম খান (ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক) প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা জানিয়েছেন। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকেরা এ প্রতিবেদন সিভিল সার্জনের কাছে জমা দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, মাথায় আঘাতের কারণে জাকিয়া সুলতানা রুপার মৃত্যু হয়েছে। তার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়। গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে কলেজছাত্রী রুপাকে চলন্ত বাসে ছোঁয়া পরিবহনের চালক, হেলপারসহ পাঁচজন তাকে ধর্ষণ করে। পরে ঘাড় মটকে তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
এ দিকে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মধুপুরের অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, ময়নাতদন্তের সময় সংরতি রুপার দাঁত ও পরিধেয় বস্ত্র ডিএনএ পরীায় পাঠানোর জন্য টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। আদালত ডিএনএ পরীার অনুমতি দিয়েছেন। গতকাল সকালে এগুলো পরীার জন্য সিআইডির পরীাগারে পাঠানো হয়। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই এ মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে। কোন আইনের কোন কোন ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হবে, আইনগত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। অপর দিকে রুপাকে হত্যার পর ময়মনসিংহ-বগুড়া রুটে চলাচলকারী ছোঁয়া পরিবহনের শ্রমিকেরা স্বাভাবিক ছিল। ঘটনার পরদিন থেকেই তারা স্বাভাবিকভাবে গাড়িও চালিয়েছে। রুপার ভাই ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে রুপাকে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), বাসের সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫) এবং বাসচালকের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেফতার করে। গ্রেফতাররা পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে।
২৯ আগস্ট শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর ও ৩০ আগস্ট হাবিবুর ও সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। তারা সবাই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে।
৩১ আগস্ট রুপার লাশ উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫