ঢাকা, শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭

ক্রীড়া দিগন্ত

হেড কোচ ছাড়াই লিগের ম্যাচ

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

পেশাদার লিগের অন্যতম শর্ত, প্রত্যেক কাবের হেড কোচসহ থাকতে হবে কোচিং স্টাফ। এই হেড কোচ আবার যেনতেন প্রকারের নয়। তার থাকতে হবে এএফসি স্বীকৃত লাইসেন্স। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে প্রথমে হেড কোচের ‘সি’ লাইসেন্স থাকার বাধ্যবাদকতা ছিল। এখন শর্ত ‘বি’ লাইসেন্সের। সাথে সহকারী কোচকে ‘সি’ লাইসেন্সধারী হতে হবে। অথচ এত সব কঠোরতার মধ্যেও হেড কোচ ছাড়াই ম্যাচ খেলছে কাবগুলো। এই উদাহরণ টানতে বেশিদূর যেতে হবে না। এবারের সাইফ পাওয়ার ব্যাটারি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেই নিজেদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে হেড কোচ ছিল না মোহামেডানের। এর মধ্যে একটি খেলা ছিল ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে। দেশের ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচে কোচশূন্য একটি কাব। কাব থেকে ছুটি নিয়ে নইমুদ্দিন ভারত যাওয়ার কথা বললেও পরে এই ভারতীয় জানান, কাবই তাকে বলে যেতে বলেছে। আবার পরে আসতেও বলে। গত বছরও এই সাদাকালো শিবির ১৩ ম্যাচে হেড কোচ ছাড়াই খেলেছে। হেড কোচ জসিম উদ্দিন জোসী সরে যাওয়ার পর নামকাওয়াস্তে মিজানুর রহমান ডনকে দায়িত্ব দেয়া হলেও ডাগআউটে যেতেন না তিনি।
কোচদের সম্মান বৃদ্ধি, তাদের অত্যাধুনিক ফুটবল জ্ঞান অর্জনের জন্যই লাইসেন্স নেয়ার শর্ত দেয়া হয়। অথচ ২০০৭ সালে বাংলাদেশে পেশাদার লিগ চালু হওয়ার পর থেকেই কয়েক কাবে উপেক্ষিত এই শর্ত। ২০০৯ সালে ভালো দল গড়ার পর মোহামেডানেরই এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, মোহামেডানের মতো দলে আবার কোচ লাগে নাকি। ২০১০ সালে পেশাদার লিগে অভিষেক লে. শেখ জামাল ধানমন্ডি কাবের। ফেডারেশন কাপে দলটির হেড কোচ ছিলেন সার্বিয়ান জোরান ক্রাইলোভিচ। ওই আসরের ফাইনালে ঢাকা আবাহনীর কাছে ৩-৫ গোলে হারের পর লিগ শুরুর ঠিক আগের দিন কোচকে বরখাস্ত করে শেখ জামাল। তখনো কাব সভাপতি মনজুর কাদের বলেছিলেন শেখ জামালের মতো ভালো দলে কোচ না হলেও চলবে। এ সবেরই ধারাক্রম হঠাৎ হঠাৎ বিভিন্ন কাবে দেখা যায়।
পেশাদার লিগের প্রথম দুই মওসুমে নিয়মিত ছিল খুলনা আবাহনী। কোচ ছিলেন আলী আসগর নাসির। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় নাসিরকে ছাড়াই ২০০৮-এ কয়েকটি ম্যাচে ম্যাঠে নামে খুলনার দলটি। কেন কোচ মাঠে নেই? উত্তরে খুলনা আবাহনীর ম্যানেজারের উত্তর ছিল, কোচ অসুস্থ। পেট খারাপ। পরে জানা যায়, এই অসুস্থতার খবর মোটেই সত্য নয়। গত মওসুমে রানার্সআপ চট্টগ্রাম আবাহনীকে জরিমানা দিতে হয়েছিল হেড কোচ ছাড়া একাধিক ম্যাচ খেলায়। লিগের ৬ ম্যাচ পর দায়িত্ব হারান স্লোভাকিয়ার যোসেফ প্যাভলিক। বাকি ১৫ ম্যাচের ১৪টিতে সহকারী কোচ হয়েও মূল কোচের দায়িত্ব পালন করেন মিন্টু।
যাদের হেড কোচের প্রতিই অবমূল্যায়ন তাদের পক্ষে কি অন্য কোচিং স্টাফদের নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় আছে। শর্ত ভঙ্গ করে এবার গোলরক্ষক কোচ ছাড়াই লিগ খেলছে মোহামেডান। সূত্র মতে, ভারতীয় হেড কোচ নইমুদ্দিন কাউকে চান না গোলরক্ষক কোচ হিসেবে। নিজেই ট্রেনিং করান গোলরক্ষকদের। গোলরক্ষক কোচ নেই ফরাশগঞ্জ ও রহমতগঞ্জে। সাইফ স্পোর্টিংয়ে গোলরক্ষক কোচ পদে কেউ না থাকলেও জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক কোচ হুমায়ুন কবির সহকারী কোচের দায়িত্বের পাশাপাশি গোলরক্ষক কোচের কাজ করেন।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫