ঢাকা, শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭

অন্যদিগন্ত

মিয়ানমারের সাথে সামরিক সহযোগিতা বন্ধের প্রস্তাব মার্কিন সিনেটরদের

বিবিসি ও রয়টার্স

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

মিয়ানমারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন সিনিয়র আইনপ্রণেতা। রাখাইন রাজ্যে চলমান পরিস্থিতিতে তাদের এ পদপে মিয়ানমারকে অনেক শক্তিশালী বার্তা দেবে বলে মনে করছেন তারা। প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন, হাউজ ডেমোক্র্যাটিক ককাস চেয়ারম্যান জো ক্রাউলি ও কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবট মিয়ানমারে মার্কিন অস্ত্র সহায়তা বন্ধের পে নিজেদের এ অবস্থানের কথা জানান।
প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন ২০১৮ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরা কর্মসূচিতে মিয়ানমারের সাথে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন। অথচ এর আগে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকার আসায় ম্যাককেইনই তাদের সাথে সামরিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ছিলেন।
সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটির প্রধান ম্যাককেইন বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মিয়ানমারে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে এনডিএএ, কিন্তু এমন মানবিক সঙ্কট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর এখন আর আমি তাদের সাথে সামরিক সম্পর্কে যাওয়া সমর্থন করতে পারি না।’ তিনি বলেন, ২০১৫ নির্বাচনের পর খুবই থউৎসাহী ছিলেন তিনি। তারা বিশ্বাস করতেন বেসামরিক সরকার দেশকে অন্যভাবে পরিচালিত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে। এ জন্যই সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটির এক প্রস্তাবকে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে তাই এনডিএএকে এখন আলোচনা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাউজ ডেমোক্র্যাটিক ককাস চেয়ারম্যান জো ক্রাউলি ও কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবট জানান, তারা রাখাইন রাজ্যে চলমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত। তারা বলেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে কোনো সম্মান দেখাচ্ছে না। অত্যাচারের শিকার হয়ে পালাচ্ছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ।’ তার বলেন, দ্রুতই এখানে মানবিক সঙ্কট দেখা গেছে। এ সঙ্কট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেয়া উচিত। মিয়ানমারে চলমান এবং ভবিষ্যতের মার্কিন সামরিক প্রশিণ বন্ধ করে মিয়ানমারকে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা দেয়া উচিত যে এমন চলতে পারে না।
শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা অবশ্য সু চির বিরুদ্ধে কোনো পদপে নিতে রাজি নন। সিনেট মেজরিটি লিডার মিজ ম্যাককনেল ক্যাপিটল হিলের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার পপাতী নই। আমি মনে করি এ সঙ্কট সমাধানে তিনিই সবচেয়ে বড় আশা।’
মানবাধিকার কমিশনকে মিয়ানমারের হুঁশিয়ারি
এ দিকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান সহিংসতাকে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশন জাতিগত নির্মূল আখ্যা দিলেও মিয়ানমার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এমন অভিধা দেয়ায় জাতিসঙ্ঘ কমিশনের বিরুদ্ধে দেশটির তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। কমিশনকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মিয়ানমার। মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রধান কমিশনার জেইদ রাদ আল-হুসেইন রোহিঙ্গা নিপীড়নের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির তোয়াক্কা না করে নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে মিয়ানমার কর্তৃপ। এ গণহত্যাকে তিনি ‘পাঠ্যপুস্তকে থাকা জাতিগত নির্মূল অভিযানের উদাহরণ’ অভিহিত দেন। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
হুসেইনের প্রতিক্রিয়ার পরদিন মঙ্গলবার জেনেভায় মানবাধিকার কমিশনে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হিটিন লিন বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ কিংবা জাতিগত নিধনের মতো অভিধাগুলো গুরুতর অর্থ বহন করে। এ ধরনের অভিধা ব্যবহারে তাই সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা কাম্য। কেননা এ ধরনের অভিধা কেবল আইন-বিচারের ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। জাতিসঙ্ঘ কমিশনের মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘গণতান্ত্রিক মিয়ানমার এসব মিথ্যে অভিযোগ সহ্য করবে না। মানবাধিকার হাইকমিশনের দেয়া অভিধার বিরুদ্ধে তাই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করছি আমরা।’

 

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫