ঢাকা, বুধবার,২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বাংলার দিগন্ত

চৌহালীতে যমুনায় বিলীন ২ স্কুল এনায়েতপুরের ৫ গ্রামে নদীভাঙন

রফিক মোল্লা চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

যমুনা নদীতে তৃতীয় দফায় পানি বৃদ্ধির ফলে প্রচণ্ড ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অপর দিকে যমুনার পশ্চিমপাড় এনায়েতপুরের পাঁচটি গ্রামজুড়ে আবারো শুরু হয়েছে নদীভাঙন। এতে শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। এখনো শুরু হয়নি ভাঙনরোধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ। যমুনার রাক্ষুসী থাবা থেকে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, যমুনা বিধ্বস্ত চৌহালী উপজেলার খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের খাষদেলদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বুধবার ভোরে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। একই ইউনিয়নে বীরবাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্প্রতি নদীতে চলে গেছে। এতে দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৫০ শিক্ষার্থীকে দুর্ভোগে পড়ে চালিয়ে যেতে হচ্ছে পড়াশোনা। ভাঙন অব্যাহত থাকলে চৌহালী উপজেলার প্রায় ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে বলে শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।
খাষদেলদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাব হোসেন বলেন, যমুনা নদীতে স্কুল ভবন, বাথরুম ও টিউবয়েল নদীতে চলে গেছে। সামনে সমাপনী পরীক্ষার্থীসহ শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে সীমাহীন সমস্যায় পড়েছি। স্কুলটি স্থানান্তর করে নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।
তবে চৌহালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর ফিরোজ বলেন, ভেঙে যাওয়া স্কুল দু’টির শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অন্য স্থানে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে। তবে নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ভবন নির্মাণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত জানানো হয়েছে।
এ দিকে যমুনার পশ্চিমপাড় এনায়েতপুর থানা সদরের ব্রাহ্মণগ্রাম, আড়কান্দি চর, পাকুরতলা, বাঐখোলা ও পাচিল গ্রামের নদী তীরবর্তী এলাকায় চলছে ভাঙন। পানি বৃদ্ধির পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বহু ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো নেয়া হয়নি ভাঙনরোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা। এলাকাবাসীর অভিযোগÑ নদীভাঙনরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের জানিয়েও এনায়েতপুরের দক্ষিণ থেকে পাচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় কোনো জিওব্যাগ অথবা পাথর ফেলে কোন ব্যবস্থা নেয়নি পাউবো। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে দেশের সর্ববৃহৎ এনায়েতপুর কাপড়ের হাট, খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, তাঁত কারখানা ও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আড়কান্দি চরের বাসিন্দা ও এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম শামীম হক বলেন, দেশের প্রায় সব ভাঙনকবলিত এলাকায় সরকারিভাবে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ তাঁত শিল্পসমৃদ্ধ এনায়েতপুর থানার দক্ষিণাঞ্চলটি শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় কোনো জনপ্রতিনিধিই তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান ইমাম জানান, এনায়েতপুরের দক্ষিণাঞ্চলে নদীভাঙনের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫