ঢাকা, বুধবার,২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য

সাড়ে ৭ মাসের সর্বোচ্চ লেনদেন ডিএসইর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

দুই দিন সংশোধনের পর ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। গতকাল দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। আর ইতিবাচক প্রবণতায় ফেরা বাজারগুলোতে বৃদ্ধি পেয়েছে লেনদেনও। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়, যা বিগত সাড়ে সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারির পর আর এ পর্যায়ে পৌঁছেনি ডিএসইর লেনদেন। চট্টগ্রামে ৫৮ কোটি টাকা থেকে ৭৭ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন।
এ দিকে বরাবরের মতো ব্যাংক, বীমা ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ তিনটি খাতের মূল্যবৃদ্ধিই গতকাল নতুন করে বাজারে গতি আনে। অন্যান্য খাতের বেশির ভাগ ব্যাপক দরপতনের শিকার হলেও এগিয়ে রাখে দুই পুঁজিবাজার সূচককে। ঢাকা শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক গতকাল ৩৫ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১১ দশমিক ৪১ ও ৬ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের যথাক্রমে ১৩৮ দশমিক ১৫ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে। সিএসই-৫০ ও শরিয়াহ সূচক যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৫০ ও ৫ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
সূচকের মতো লেনদেনেও বড় ভূমিকা ছিল ব্যাংকিং খাতের। গতকাল দুই পুঁজিবাজারের শীর্ষ ১০ কোম্পানির সাতটিই ছিল ব্যাংক। তা ছাড়া ঢাকা বাজারে মোট লেনদেনের ৩২ শতাংশের বেশি ছিল এ খাতের। ৫৯০ কোটি টাকার লেনদেন করে এ খাতটি, যার মধ্যে ১৬৩ কোটি ৫৩ কোটি টাকার ব্লক মার্কেটে লেনদেন ছিল স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের। এ টাকায় ৪ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। এর আগে মঙ্গলবার ১৯৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৫ কোটি ৮৬ লাখ ৩৪ হাজর শেয়ার হাতবদল হয়।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কম মূল্যস্তর, নিয়মিতভাবে ভালো লভ্যাংশ, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকায় এ খাতের স্বচ্ছতা বিনিয়োগকারীদের এ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। তা ছাড়া বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে এখনো এ খাতে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কিছু ব্যাংকে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগও তাদের এ খাতে আগ্রহী করে তুলতে পারে। তাই ২০১০ সালের পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের পর দীর্ঘ দিন স্থবির থাকা এ খাতটি সম্প্রতি নতুন করে চাঙ্গা হয়ে উঠছে।
গতকাল সূচকের উন্নতি দিয়েই দিন শুরু করে দুই পুঁজিবাজার। ঢাকায় ডিএসইর প্রধান সূচকটি ৬ হাজার ১৪৯ দশমিক ৪০ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে। বেলা সোয়া ১১টার দিকে সূচকটি পৌঁছে যায় ৬ হাজার ১৮৫ পয়েন্টে। অর্থাৎ পৌনে এক ঘণ্টায় ৩৫ পয়েন্টের বেশি উন্নতি ঘটে সূচকটির। লেনদেনের এ পর্যায়ে বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হলে পরে আধা ঘণ্টায় সূচকটি নেমে আসে ৬ হাজার ১৭০ পয়েন্টে।
কিন্তু দ্রুতই বিক্রয়চাপ সামলে নেয় বাজারটি। দুপুর ১২টার দিকে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে বাজার সূচক। বেলা দেড়টা পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকলে সূচক পৌঁছে যায় ৬ হাজার ১৯৯ পয়েন্টে। এ অবস্থায় প্রায় ৪৯ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে ডিএসই সূচকের। তবে শেষ দিকে এসে বাজারে আবার বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হয়। দিনশেষে সূচকটির ৩৫ দশমিক ১৭ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রেখে লেনদেন শেষ করে ডিএসই।
প্যাসিফিক ডেনিমসে বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বিএসইসির
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি প্যাসিফিক ডেনিমসের প্রাাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ ব্যবহারের েেত্র কিছু অস্বাভাবিকতা পেয়েছে বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)। এ অস্বাভাবিকতা খতিয়ে দেখতে এখন বিশেষ নিরীক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার কমিশনের ৬১১তম সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিএসইসির তথ্যমতে, প্যাসিফিক ডেনিমস ঋণ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অনাপত্তি (এনওসি) নিয়ে ছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল অগ্রণী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আইডিএলসি, আইআইডিএফসি ও ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড।
বলা হয়েছিল, পুঁজিবাজার থেকে অর্থ তোলার পর ওই ঋণ পরিশোধ করা হবে। কিন্তু প্যাসিফিক ডেনিমস তার প্রতিশ্রুতি রাখেনি। আর সে কারণে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার শরণাপন্ন হয়েছে, যা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও ঋণ পরিশোধের জন্য পুঁজিবাজারে আসে বস্ত্র খাতের এই কোম্পানি। কোম্পানিটি বাজার থেকে স্থির মূল্য পদ্ধতিতে ৭৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে।
কোম্পানির প্রসপেক্টাসের বর্ণনা অনুযায়ী, উত্তোলিত ৭৫ কোটি টাকার মধ্যে ২৫ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করার কথা উল্লেখ ছিল। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকে ১০ কোটি, এনসিসি ব্যাংকে ১২ কোটি, আইডিএলসি ফাইন্যান্সে ১ কোটি, আইআইডিএফসিতে ১ কোটি, ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে ১ কোটি টাকা।
এ ছাড়া ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যয় করার কথা ছিল ৪৭ কোটি ৯৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যা মেশিনারিজ এবং ভবন নির্মাণে ব্যয় করা হবে। আর আইপিও বাবদ খরচ উল্লেখ ছিল ২ কোটি ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫