ঢাকা, বুধবার,২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

চট্টলা সংবাদ

দৈনিক দেড় থেকে দুই কোটি লিটার ওয়াসার পানি বিক্রি হচ্ছে অবৈধভাবে

ওমর ফারুক চট্টগ্রাম ব্যুরো

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

চট্টগ্রাম নগরবাসীর পানির চাহিদা ৪২ শতাংশ জোগান দিচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ৫৮ শতাংশ পানির চাহিদা পূরণে অম চট্টগ্রাম ওয়াসা অবৈধভাবে পানির ব্যবসায় নেমেছে। নগরীতে দৈনিক দেড় থেকে দুই কোটি লিটার ওয়াসার পানি অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে। ওয়াসার লাইন থেকে সরাসরি এ পানি বিক্রি করা হয়। আবার অনেক জায়গায় ওয়াসার পানি আসার সাথে সাথে সেই পানি বড় ট্যাংকে আটকে রাখা হয়। পরে সেটা জার আকারে বিক্রি করা হচ্ছে। শুধু ওয়াসার লাইনের পানি সরাসরি বা আটকের পর বিক্রি করা হয়, তা নয়; ওয়াসার সরবরাহকারী গাড়িতে করে নিয়েও চলছে পানির ব্যবসা।
নগরবাসীর প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করতেই প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম ওয়াসা। দীর্ঘ পরিক্রমায় ওয়াসা এ পর্যন্ত নগরবাসীর মাত্র ৪২ শতাংশ পানি সরবরাহ করতে পারে। নানা ত্রুটির কারণে প্রায় সময় সেই ৫৮ শতাংশ পানি সরবরাহ করাও সম্ভব হয় না ওয়াসার প।ে তবে কাক্সিক্ষত পানি সরবরাহ করা সম্ভব না হলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে পানি বিক্রিতে জড়িয়ে পড়েছে ওয়াসা। প্রতিদিন ভোর হতে মধ্য রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় চলছে পানি বিক্রি।
বন্দরটিলা এলাকায় পানি বিক্রির সাথে জড়িত মো: বাবুল। দৈনিক কী পরিমাণ পানি বিক্রি হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি জার ১৫ টাকা করে নেয়া হয়। এক ভ্যানে ১৫টি জার রাখা যায়। অনেক ভ্যানে ২০টিও ধরে। ৮০ থেকে ১০০ ভ্যান দৈনিক বিক্রি হয়। কখনো কখনো দেড় শ’ বা দুই শ’ ভ্যানও বিক্রি হয়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, দণি হালিশহর ইপিজেড এলাকার রেল ক্রসিং থেকে শুরু করে ১ নম্বর মাইলের মাথা লিমনের দোকান, বেরিস্টার কলেজ, তিন রাস্তার মোড়, আবদুল মাবুদ সওদাগরের বাড়ির পাশে, ফ্রি পোর্ট বে শপিং গণশৌচাগার, বন্দরটিলা জালাল প্লাজা, চু হাসপাতাল, সিটি ব্যাংকের পাশে, নারকেল তলা, রেইনবো কমিউনিটি সেন্টার, চিটাগাং আইডিয়্যাল স্কুল এসব জায়গায় অন্তত এক শ’ ব্যক্তি ওয়াসার পানি ব্যবসার সাথে জড়িত। এদের হাত ধরেই প্রতিদিন অন্তত ৩০ লাখ লিটার ওয়াসার পানি চলে যাচ্ছে অবৈধভাবে। এসব জায়গায় দীর্ঘ লাইনে ভ্যানগাড়ি পানিভর্তি করার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। প্রতি গাড়িতে থাকে ১৫ থেকে ২০টি জার। এসব পানির জার বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হয় ভ্যানে করে। প্রতি জার পানি পাইকারি দরে ১৫ থেকে ২০ টাকায় ভ্যানচালকের কাছে বিক্রি করা হয়। আর ভ্যানে করে এলাকায় নিয়ে সেই জার পানি ৩৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রয় হয়। একেকজন বিক্রেতা প্রতিদিন এক শ’ থেকে দেড় শ’ ভ্যান পানি বিক্রি করে। প্রতি জারে ২০ লিটার হিসেবে একজন বিক্রেতাই প্রতিদিন বিক্রি করে অন্তত ৩০ হাজার লিটার পানি। সব মিলিয়ে এ এলাকা থেকে অবৈধপথে যায় অন্তত ৩০ লাখ লিটার পানি। আর জারপ্রতি ১৫ টাকা হিসেবে একজন বিক্রিতা প্রতিদিন বিক্রি করে অন্তত ২২ হাজার ৫০০ টাকার পানি। এ হিসাবে প্রতিদিন এ এলাকায় বিক্রি হয় অন্তত ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার পানি। মাসে দাঁড়ায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার এ অবৈধ ব্যবসা। দীর্ঘ দুই বছর ধরে এ অবৈধ ব্যবসা চলে আসছে।
এলাকাভিত্তিক সিন্ডিকেটে চলে ওয়াসার পানির রমরমা বাণিজ্য। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও ওয়াসার একশ্রেণীর অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতায় চলে এ বাণিজ্য। বাসাবাড়ির ওয়াসার লাইন থেকে রাস্তার পাশে অবৈধ সংযোগ টেনে বা মিনারেল ওয়াটারের জন্য অনুমোদন নিয়ে সস্তায় চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এ ব্যবসা।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫