ঢাকা, শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭

ঘটনা-দুর্ঘটনা

ম্যানহোলে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বুধবার, ২০:১২


প্রিন্ট

রাজধানীর মিরপুরে ম্যানহোলের ময়লা পরিষ্কার করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া যুবকের লাশ প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর ৭ নম্বর চলন্তিকা মোড়ের ওই ম্যানহোল থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার নাম পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয়রাও ওই কিশোরকে চিনেন না।

তার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ওখানকার ‘জিতা গার্মেন্টসের’ পানির লাইনে সমস্যা দেখা দিলে তা পরিষ্কার করার জন্য ওই যুবককে নামানো হয়। সেখানে নামার পর থেকে সে নিখোঁজ হন।

জানা গেছে, ওই এলাকার জিতা গার্মেন্টসের কর্তৃপক্ষ ৫০০ টাকা দিয়ে ওই যুবককে ড্রেন পরিষ্কার করার জন্য নামায়। ওই যুবকটি দ্বিতীয়বার ডুব দিয়ে তৃতীয় বারের সময় আর উঠেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই যুবক ম্যানহোলে নিখোঁজ হওয়ার খবরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হলে রাত ১০টায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আজ সকাল ১০টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ফের উদ্ধার অভিযান চালায়।

স্থানীয়রা জানান, ড্রেনের পানি যেদিকে প্রবাহমান সেদিকে প্রায় ২২ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি করে ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু তাকে খুঁজে পায়নি। পরে পানি প্রবাহমানের প্রায় ৫০ ফুট উল্টো দিকে লাশের সন্ধান পান স্থানীয়রা।

তারা জানান, তারা ফায়ার সার্ভিসকে উল্টো দিকে খোঁজার অনুরোধ জানায়। কিন্তু উল্টো দিকে আসার সম্ভাবনার গুরুত্ব দেয়নি তারা। পরে স্থানীয়রা উল্টো দিকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে আরেকটি ম্যানহোলের ঢাকনা উঠিয়ে নিচে নামে। ১৫-২০ মিনিট খোঁজাখুঁজির পর সাড়ে ৩টায় লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।

মিরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র অফিসার আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, আসলে আমাদের ধরানাটা রঙ (ভুল) ছিল। আমরা ভেবেছি, পানির প্রবাহমানের দিকেই যুবককে পাওয়া যাবে। বাস্তবে তাই হয়। কিন্তু যুবকটি যখন ম্যানহোলে নেমেছে তখন হয়তো ড্রেনের ভেতরের উল্টো দিকে বাতাস ও পানির প্রবাহ কম ছিল। তাই সে উল্টো দিকে চলে যায়। ওখানেই অক্সিজেন ও বিষাক্ত গ্যাসে তার মৃত্যু হয়।

উদ্ধার অভিযানে বেগ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ড্রেনটি সুরু ছিল। ওই এলাকার সব ময়লা ওই ড্রেন দিয়ে ঝিলে নামে। সাথে ওখানকার জিতা গার্মেন্টসের ময়লাও। ময়লার কারণে এটি সুরু হয়ে গেছে। প্রথম দিন আমাদের ডুবুরি দল ভিতরে ঢুকে কিছুদূর যাওয়ার পর আর যেতে পারছিল না। আজ সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সাথে নিয়ে ওই ম্যানহোলের ওপরে থাকা কনক্রিট কাটা হয়। ড্রেনটি মূলত চলন্তিকা বস্তির নিচ দিয়ে গেছে। তাই ড্রেনের আশপাশে থাকা ৪/৫টি দোকান ভেঙে এটি প্রশস্ত করা হয়। পরে স্থানীয়রাও উল্টো পাশে নেমে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে যুবকের লাশ পাওয়া যায়।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওখানকার জিতা গার্মেন্টসের সব ময়লা ওই ড্রেনে পড়ে। গার্মেন্টসের পানির লাইনও ওই ড্রেনের সাথে সংযুক্ত। লাইনে ময়লা আটকানোর কারণে তা জ্যাম হয়ে ড্রেনে পানি যাচ্ছিল না। পানি রাস্তাসহ আশপাশ এলাকায় গড়ায়। তাই গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ ড্রেনের সাথে সংযুক্ত তাদের লাইনটি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেয়। তারা ৫০০ টাকা দিয়ে ওই যুবককে ড্রেনে নামায়। যুবকটি দ্বিতীয় বার ডুব দিয়ে তৃতীয় বারের সময় আর উঠেননি। পরে আশাপাশের লোকজন ম্যানহোলের ভেতর ঊঁকি দিয়ে তাকে খোঁজার চেষ্টা করেন। অনেকে ভেতরে নেমেও খোঁজেন। কিন্তু না পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।

জিতা গার্মেন্টের পরিচালক জুয়েল বলেন, শুনেছি, আমাদের লোকজন তাকে ড্রেনে নামিয়েছে। তবে তাকে জোর করে নামায়নি। ওই যুবক স্বেচ্ছায় নেমেছে।

রূপনগর থানার ওসি সৈয়দ শহীদ আলম বলেন, ওই যুবকের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। আমরা, ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশন তার ছবি প্রকাশ করেছি।

যুবককে টোকাই ও ভবঘুরে আখ্যা দিয়ে ওসি বলেন, ওই গার্মেন্টসের পরিচালক ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে, টাকার কারণে ওই যুবক ম্যানহোলে নেমেছে। তাকে কেউ জোর করে তাতে নামায়নি। তারপরও জিতা গার্মেন্টসের লাইন পরিষ্কার করতে নেমে যেহেতু এমনটি হয়েছে সেহেতু বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গ, রাজধানীর এক একটি ম্যানহোল ও নলকূপ যেন মৃত্যু কূপ। ম্যানহোল আর নলকূপে পড়ে গত বছর ও চলতি বছরেও কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। যা দেশেজুড়ে ঝড় তুলেছে। এদের মধ্যে সানজিদা, জিহাদ ও ইসমাইল হোসেন নিরবসহ বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে। বেশ কয়েকটি ঘটনা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবুও প্রতিকারের পথ খুঁজছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দিন দিন যেন এসব ম্যানহোল ও নলকূপ মৃত্যুকূপে পরিণত হচ্ছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫