ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

চট্টগ্রাম

বাংলাদেশেও মিয়ানমার আর্মি তাড়িয়ে ফিরছে বেগম জানকে

আল জাজিরা

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৯:৪৩


প্রিন্ট
বেগম জান

বেগম জান

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন বেগম জান। কিন্তু এখনো তিনি বারবার কেঁপে ওঠেন। এই বুঝি এলো মিয়ানমার বাহিনী। তারপরও তিনি স্বস্তিতে আছেন বলে আল জাজিরাকেজানিয়েছেন।

৬৫ বছরের বেগম জান কয়েক দিন আগেই রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি তার কষ্টের কথা বলেছেন।
তিনি জানান, আমার জীবন দীর্ঘ দিন ধরেই কষ্টের। ২৫ বছর আগে স্বামী মারা যায়। এর পর থেকে আমি আমার গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করতাম। আমার দুই মেয়েই বিবাহিত। ফলে আমার আহার নিজেকেই সংস্থান করতে হয়।

তিনি জানান, এক রাতে গুলি আর বিস্ফোরণের শব্দে জেগে ওঠলাম। শব্দ ছিল প্রচণ্ড। আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। ওই ঘটনার পর আমি এখনো ঘুমাতে পারি না। ঘুমাতে গেলেই ওই শব্দ শুনি।

বেগম জান বলেন, সবাই পালাচ্ছিল। তাদের সাথে আমিও পালানোর পথ বেছে নিলাম। আমার তো নিজের বলতে কিছু ছিল না। দু'দিন লেগেছিল বাংলাদেশে আসতে। তবে যাত্রাপথ ছিল কঠিন। একটা লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটতাম। নৌকায় করে যখন নদী পাড় হচ্ছিলাম, তখনো দেখি, বমি বাহিনীর জাহার টহল দিচ্ছে। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল আজই বুঝি শেষ দিন।

এমনকি এই বাংলাদেশে এসেও মনে হচ্ছে, মিয়ানমার মিলিটারি বুঝি ধেয়ে আসছে। তবে আমি এখন অনেক সুখী।
তিনি বলেন, অনেকে আমাদের সাহায্য করছে। আমি আশা করছি, বিশ্ব আমাদের কথা শুনবে। আমাদের কোনো ভবিষ্যত নেই, আমাদের জীবন আশাহীন।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসঙ্ঘ অধিবেশনে যাবেন না সু চি
এএফপি
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে চলতি মাসে অনুষ্ঠেয় জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবে না মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সুচি।
মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র আজ জানিয়েছেন, দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সুচি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেবেন না। তবে কী কারণে তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে থাকছেন না সে বিষয়ে কিছু জানাননি সরকারি মুখপাত্র।

নিরাপত্তা পরিষদ নিউইয়র্কে আজ বুধবার এক জরুরি বৈঠকে বসে। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর অভিযানের প্রেক্ষাপটে অং সান সুচির ভূমিকা নিয়ে বেশ সমালোচনা চলছে।

গত ২৫ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখের মতো রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ইতোমধ্যেই এ অভিযানকে ‘পাঠ্যবইয়ে জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের অন্যতম উদাহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এমনকি সু চি’র সমালোচকেরা তার নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ার দাবিও তুলেছেন। যদিও মিয়ানমার সরকার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে- রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আক্রমণের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।

রাখাইন সংকট নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিবেন সু কি
মিয়ানমারের নেতা অং সান সু কি রাখাইন রাজ্যে বিরাজমান সংকট নিয়ে আগামী সপ্তাহে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিবেন।

গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাখাইন রাজ্য সংকটে বহু মানুষ নিহত এবং তিন লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি জাতির উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। তার ভাষণটি ১৯ সেপ্টেম্বর টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫