ঢাকা, শনিবার,২১ অক্টোবর ২০১৭

সংসদ

জিয়া পরিবারের সম্পদ পাচারের তদন্ত চলছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৯:২৩ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৯:২৮


প্রিন্ট
সংসদে আজ বুধবার বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংসদে আজ বুধবার বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জিয়া পরিবারের দুর্নীতি ও সম্পদের তদন্ত চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হসিনা বলেছেন, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে সম্পদ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং আইনের মধ্য দিয়ে সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যেই সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সে ব্যাপারে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

এর আগে বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

ফখরুল ইমাম জিয়া পরিবার এবং বিএনপি নেতাদের বিদেশে সম্পদ পাচার এবং বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তির একটি বিবরণ তুলে ধরেন। আর বিষয়টি সংসদে উপস্থাপন করায় জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংসদে তুলে ধরলে অনেকের আবার মায়া কান্না আছে। তারা বলবে, সরকার রাজনৈতিক কারণে সংসদে এসব অভিযোগ তুলছে। তাই বিরোধী দলের সদস্য বিষয়টি সংসদে তোলায় তাকে ধন্যবাদ জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি হত্যা, নির্যাতন, এবং পুড়িয়ে মানুষ মারার সাথে দুর্ণীতি ও সম্পদ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন রিপোর্ট সরকারের কাছে আছে। তার যথাযাথ তদন্ত চলছে। সঠিক তথ্য প্রমাণ পেলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।

জঙ্গিদের অর্থায়ন বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে
ফরিদুল হক খান দুলালের (জামালপুর-২) এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স এবং দেশীয় অর্থ কোনো জঙ্গি তৎপরতায় ব্যবহার হচ্ছে কি না এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া কোনো বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কোচিং সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি তৎপরতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সীমান্তে অবৈধ অর্থের লেনদেন, চলাচল ও স্থানান্তর একই সাথে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস, মোবাইল ব্যাংকিং ও বিকাশের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেন হচ্ছে কি না সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত আছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে জঙ্গি কর্মকাণ্ড একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। তবে আমাদের দেশের মানুষ ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধ নয় বিধায় এদেশের মানুষ জঙ্গি কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। ফলে ইতোমধ্যে জঙ্গি দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিরা যেমন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি তাদের অর্থের যোগানদাতা ও মদদদাতারাও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। জঙ্গিদের অর্থায়নের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোয়েন্দা সংস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গিদের অর্থায়ন সংক্রান্ত ২০১০ থেকে জুন ২০১৭ পযন্ত ৯০টি মামলা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৭, ৮, ৯ এবং ১৩ ধারায় রুজু হয়েছে।

তিনি বলেন, জঙ্গি অর্থায়ন সংক্রান্ত রুজুকৃত মামলাসমূহ সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জঙ্গি অর্থায়নের সাথে আরো বেশ কিছু ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে মর্মে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দেশের জঙ্গি অর্থের উৎস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ পাওয়া মাত্র তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫