ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

আমেরিকা

আমেরিকা কর্তৃক মেক্সিকো দখলের ১৭০ বছর

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৬:১২


প্রিন্ট
 মেক্সিকো

মেক্সিকো

১৮৪৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আমেরিকা-মেক্সিকো যুদ্ধে মেক্সিকো দখল করে আমেরিকা। আমেরিকা-মেক্সিকো যুদ্ধ বিশ্ব ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনার একটি।

১৮৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম প্রেসিডেন্ট জেমস পোলক জেনারেল জাচারী টেইলরকে নির্দেশ দেন রিও গ্রাণ্ডে অভিযান পরিচালনা করতে। এই অঞ্চলটা নিয়ে মেক্সিকোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ চলছিল। মেক্সিকো রিও গ্রান্ড থেকে শুরু করে উত্তর দিকে ১৫০ মেইল পৰ্যন্ত অৰ্থাৎ নিওসিস নদী পর্যন্ত তাদের এলাকা বলে দাবি করছিলো। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, ১৮৩৬ সালে স্বাক্ষরিত ভেলাস্কো চুক্তি মোতাবেক রিও গ্রান্ড তাদের সীমানাভুক্ত। মেক্সিকো এই চুক্তিকে অস্বীকার করে পুরা টেক্সাস তাদের বলে দাবি করতে থাকে। জেনারেল টেইলর মেক্সিকোর দাবিকে অগ্রাহ্য করে রিও গ্রান্ডে একটা অস্থায়ী দুর্গ নির্মাণ করেন। এই দুর্গ পরবর্তীতে ব্রাউন দুর্গ বা টেক্সাস দুর্গ নাম পরিচিত হয়।

জেনারেল সান্তা আনার নেতৃত্বে মেক্সিকান বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধের জন্য দ্রুত প্রস্তুত হয়। ১৮৪৬ সালের ২৫ এপ্রিল মেক্সিকোর ২০০০ সৈন্যের একটি অশ্বারোহী বাহিনী গ্রান্ড রিওতে আমেরিকানদের একটা টহল দলকে আক্রমন করে। এই টহল দলে ৭০ জন সৈন্য ছিল, যার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ক্যাপ্টিন সিথ থোরন্তন। এই আক্রমণে ১১ জন আমেরিকান সৈন্য নিহত হয়। কিন্তু মার্কিন বাহিনী ১৮৪৬ সালের ৮ মে পালো আল্টোতে এবং ১৮৪৬ সালের ৯ মে রেসিকেই ডি লা পালমাতে মেক্সিকানদের পরাজিত করে। ১৮৪৬ সালের ১৩ মে মার্কিন কংগ্রেস মেক্সিকোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। জেনারেল টেইলর ২১ সেপ্টেম্বর মন্টেরি আক্রমন করলে মেক্সিকো যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। কিন্তু সান্তা আন্না ১৮৪৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী পাল্টা আক্রমণ করলে আবার যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধে মেক্সিকো পরাজিত হয়। 

জেনারেল উইনফিল্ড স্কটের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ১৮৪৭ সালের ২৮ মার্চ মেক্সিকোর ভেরাক্রুজ দখল করে। তারপর ১৮৪৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি দখল করে নেয়। ১৮৪৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে স্বক্ষরিত গুয়াডালুপি হিডালগো চুক্তির মাধ্যমে মেক্সিকান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। এই চুক্তি মোতাবেক মক্সিকো ক্যালিফর্নিয়া ও নিউ মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করে। 

মেক্সিকো  উত্তর আমেরিকার একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র। এই দেশের উত্তর সীমান্তে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র; দক্ষিণ ও পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর; দক্ষিণ-পূর্বে গুয়াতেমালা, বেলিজ ও ক্যারিবিয়ান সাগর এবং পূর্বে মেক্সিকো উপসাগর অবস্থিত।  প্রায় দুই মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার জুড়ে অবস্থিত মেক্সিকো  আয়তনের বিচারে দুই আমেরিকার পঞ্চম বৃহত্তম রাষ্ট্র তথা বিশ্বের চতুর্দশ বৃহত্তম স্বাধীন রাষ্ট্র। দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১০৯ মিলিয়ন; জনসংখ্যার বিচারে মেক্সিকো বিশ্বের একাদশ জনবহুল রাষ্ট্র। মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্র একত্রিশটি রাজ্য ও রাজধানী শহর একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় জেলা নিয়ে গঠিত।

প্রাককলম্বিয়ান মধ্য আমেরিকায় ইউরোপীয়দের আগমনের পূর্বেই ওলমেক, তোলতেক, তেওতিউয়াকান, মায়া ও আজটেক সভ্যতার মতো একাধিক উন্নত সভ্যতা বিকাশলাভ করেছিল। ১৫২১ সালে স্পেন নিউ স্পেন প্রতিষ্ঠা করে। এই দেশটিই পরে মেক্সিকো উপনিবেশে পরিণত হয়। ১৮২১ সালে এক স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে মেক্সিকো স্বাধীনতা অর্জন করে। মেক্সিকোর স্বাধীনতা-উত্তর পর্যায় ছিল অর্থনৈতিক অস্থিরতা, অঞ্চল হস্তচ্যুত হওয়া, গৃহযুদ্ধ এবং বৈদেশিক হস্তক্ষেপ, দুটি সাম্রাজ্য ও দুটি দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ একনায়কতন্ত্রের ইতিহাস। সর্বশেষ একনায়কতান্ত্রিক শাসনের শেষে ১৯১০ সালে সংঘটিত হয় মেক্সিকান বিপ্লব। এই বিপ্লবের ফলস্রুতি ১৯১৭ সালের সংবিধান এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার উত্থান। ২০০০ সালের জুলাই মাসের সাধারণ নির্বাচনে প্রথম বার প্রাতিষ্ঠানিক বিপ্লবী দলের পার্তিদ়ো রেভ়োলুসিওনারিও ইন্‌স্তিতুসিওনাল্‌ বা  হাত থেকে রাষ্ট্রপতির পদ ছিনিয়ে নেয় কোনো বিরোধী দল।

একটি আঞ্চলিক শক্তি  এবং ১৯৯৪ সাল থেকে অর্গ্যানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)-এর একমাত্র  লাতিন আমেরিকান দেশ মেক্সিকো উচ্চ মধ্য-আয়ের দেশ হিসেবে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। মেক্সিকোকে সদ্য শিল্পায়িত দেশ হিসেবেও অভিহিত করা হয়।  জিডিপির বিচারে মেক্সিকো বিশ্বের একাদশ বৃহত্তম অর্থব্যবস্থা। এছাড়াও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের হিসেবে মাথাপিছু জিডিপির বিচারে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম রাষ্ট্র। দেশের অর্থব্যবস্থা মেক্সিকোর নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (নাফটা) সহযোগীদের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। বর্তমানে মেক্সিকো বিশ্বের এক উত্থানশীল শক্তি হওয়া সত্ত্বেও অসম আয়বণ্টন ও ড্রাগ-সংক্রান্ত হিংসার ঘটনা দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা বলে বিবেচিত হয়।

এটি ল্যাটিন আমেরিকার সবচেয়ে উত্তরে ও সবচেয়ে পশ্চিমে অবস্থিত দেশ, এবং পৃথিবীর বৃহত্তম স্পেনীয় ভাষাভাষী রাষ্ট্র। দেশটির সরকারি নাম মেক্সিকান যুক্তরাষ্ট্র। মেক্সিকোর অধিবাসীরা দেশটিকে অনেক সময় মেক্সিকান প্রজাতন্ত্র যদিও এই নামটি সরকারিভাবে স্বীকৃত নয়। স্পেনের অধীনতাপাশ থেকে মুক্তিলাভ করার পর নিউ স্পেন স্থির করে নতুন রাষ্ট্রের নামকরণ করা হবে রাজধানী মেক্সিকো সিটির নামে। মেক্সিকোতে একটি ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। রাষ্ট্রপতি একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান। আইনসভা দ্বিকাক্ষিক। নিম্নকক্ষের নাম ফেডারেল চেম্বার অভ ডেপুটিজ, যার সদস্যসংখ্যা ৫০০। উচ্চকক্ষের নাম সেনেট, যার সদস্যসংখ্যা ১২৮। ভোটাধিকারের বয়স ১৮। বর্তমান সংবিধান ১৯১৭ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি প্রণয়ন করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়।

মেক্সিকোর সরকারব্যবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতোই তিনটি শাখায় বিভক্ত – নির্বাহী, আইন প্রণয়নকারী এবং বিচার। কিন্তু মেক্সিকোতে নির্বাহী শাখাটি অপর দুইটি শাখার উপর অনেক বেশি আধিপত্য বিস্তার করে। ফলে মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করেন। বিংশ শতাব্দীর অধিকাংশ সময় ধরে একটি মাত্র রাজনৈতিক দল ইন্সটিটিউশনাল রেভোলিউশনারি পার্টি ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল। ২০০০ সালে এসে প্রথমবারের মত এর প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজিত হয়। সেইবার ন্যাশনাল অ্যাকশন পার্টির বিসেন্তে ফক্স জয়লাভ করেন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫