ঢাকা, শনিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

গবেষণা

৩২ বার গর্ভপাত, সন্তান ধারণ সম্ভব?

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৪:১৯


প্রিন্ট
৩২ বার গর্ভপাত

৩২ বার গর্ভপাত

হোমিওপ্যাথি প্রশ্ন ও উত্তর
 
প্রশ্ন : আমার শিশুর বয়স ৩ মাস। মাথায় এক ধরনের আস্তরণ পড়ে। হোমিওপ্যাথির ওষুধ চাই।
Ñসালমা ইসলাম, ঢাকা
উত্তর : ছোট্ট শিশুদের মাথার এ ধরনের আস্তরণকে ক্রেডল ক্যাপ (ঈৎধফষব ঈঢ়ধ) বলে। সাবান দিয়ে মাথা ধুয়ে দিনে একবার বা দু’বার অলিভ অয়েল লাগান। সাথে হোমিওপ্যাথি ওষুধ পালসেটিলা-৩০ শক্তি, মা সেবন করবেন দিনে একবার, তিন দিন পর্যন্ত।


প্রশ্ন : আমার স্ত্রীর পরপর ৩২ বার গর্ভপাত হয়েছে। এখন সে কি গর্ভধারণ করতে পারবে?
Ñতামিন হাওলাদার, বরিশাল
উত্তর : গর্ভপাতের কারণ চিহ্নিত করে চিকিৎসা দিলে আপনার স্ত্রী পুনরায় গর্ভধারণ করতে পারবে। একজন বিজ্ঞ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক আপনাকে সহযোগিতা করতে পারবেন।


প্রশ্ন : আমার বীর্যে শুক্রাণুর পরিমাণ প্রয়োজনের চেয়ে কম। আমার বিয়ে ৫ বছর। হোমিওপ্যাথিতে আমার চিকিৎসা সম্ভব কি?
Ñ সাইদুর রহমান, যশোর।
উত্তর : জি, ভাই, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় আপনি ভালো ফল পেতে পারেন।


প্রশ্ন : কম্পিউটারে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কি সম্ভব?
Ñ ডা: আমিন, ঢাকা
উত্তর : চিকিৎসক তার যোগ্যতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে রোগীর চিকিৎসা করবেন। কম্পিউটার প্রযুক্তি এখানে লোক দেখানো মাধ্যম। রোগ নির্ণয় কিংবা ওষুধ নির্বাচন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত দক্ষতা দ্বারা করতে হয়।


প্রশ্ন : আপনাদের প্রকাশিত ‘হোমিওপ্যাথি’ বুলেটিন কি নিয়মিত প্রকাশিত হয়?
Ñ ডা: সাইদুর রহমান, চট্টগ্রাম
উত্তর : হোমিওপ্যাথিক এডুকেশন সোসাইটি কর্তৃক ‘হোমিওপ্যাথি’ বুলেটিন নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। উন্নতমানের এ বুলেটিন চিকিৎসকদের জন্য পড়া খুবই জরুরি। বুলেটিনটি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। কোনো চিকিৎসক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এটি পেতে চাইলে কুরিয়ার চার্জসহ ৩৫ টাকা বিকাশ (০১৭৪৭১২৯৫৪৭) করতে পারেন প্রতি সংখ্যার জন্য।


প্রশ্ন : অক্টোবর মাস ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতা মাস। আপনাদের কর্মসূচি জানতে চাই।
Ñডা: অলিউর রহমান, ঢাকা
উত্তর : বিস্তারিত কর্মসূচি জানতে হলে এসএমএস করুক ০১৫৫৬৬৩৯৬৪ নম্বরে।


প্রশ্ন : হোমিওপ্যাথি ওষুধ নির্বাচনে রেপার্টরির ভূমিকা কী?
Ñডা: আরিফ হাসান, যশোর
উত্তর : রেপার্টরি হচ্ছে লক্ষণের অভিধান। তাই অভিধান হিসেবেই এর ব্যবহার করতে হবে। গাণিতিক যোগফল দ্বারা লক্ষণ সামগ্রিকতা বিবেচনা করা ঠিক নয়। রোগীর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসূচক লক্ষণ দ্বারা ওষুধ নির্বাচন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের জ্ঞান এবং দক্ষতার বিকল্প নেই।

প্রশ্ন : হোমিওপ্যাথিক ক্যান্সার সোসাইটি কিভাবে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকে?
সালমা, ঢাকা

উত্তর : বাংলাদেশ হোমিপ্যাথিক ক্যান্সার সোসাইটি তার চিকিৎসাকেন্দ্রে নির্দিষ্ট রেজিঃ ফি গ্রহণ করে চিকিৎসা দেয়। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সমন্বয়ে বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা দেয়া হয়। গরিব দুস্থ রোগীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়। সুষ্ঠু এবং প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা প্রদানের উদ্দেশ্যে সোসাইটি একটি হাসপাতাল প্রকল্প পরিচালনা করছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করতে পারেন : রোড-১১, বাড়ি-৪৮, নিকুঞ্জ-২, খিলক্ষেত, ঢাকা। মোবাইল : ০১৭১২৮১৭১৪৪।


উত্তরদাতা : নির্বাহী পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ, ঢাকা। প্রশ্ন পাঠাতে : ০১৭৪৭১২৯৫৪৭

 

তুলসী : ঠাণ্ডা কাশির ওষুধ
  ডা: আবু আহনাফ

 

তুলসীর বৈজ্ঞানিক নাম ওসিমাম স্যাঙ্কটাম (ঙপরসঁস ঝধৎপঃঁস)। অন্য নাম হলো হলি বাসিল (ঐড়ষু ইধংরষ)। বিশেষত হিন্দু সম্প্রদায় গাছটিকে এ নামে ডেকে থাকে। তাদের কাছে তুলসী গাছ ধর্মীয় উপাসনার অনুসঙ্ঘ। হিন্দু পরিবারগুলো তাদের ঘরের সামনে ফুলের টবে এ গাছটি রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন। তাদের প্রার্থনার সময় তুলসী পাতা ব্যবহৃত হয় দেবতার উদ্দেশে। প্রসাদ হিসেবেও তারা তুলসী পাতা ব্যবহার করে থাকেন।

 

মূলত তুলসীর ওষুধি ব্যবহার ব্যাপক। তুলসী পাতা স্নায়ুটনিক এবং স্মৃতিবর্ধক হিসেবে পরিচিত। ফুসফুসের শ্লেষ্মা নিঃসরণে তুলসী পাতার রস অতুলনীয়। পাকস্থলীর শক্তি বর্ধনেও তা অনন্য। তুলসীর বীজ গায়ের চামড়াকে মসৃণ রাখে। বীজ সেবনে প্রস্রাবের মাত্রা বেড়ে থাকে। বিভিন্ন প্রকার জ্বরে তুলসী পাতার রসের ব্যবহার অনেকটা সাশ্রয়ী বিষয় হিসেবে পরিচিত। বিশেষ ঋতু পরিবর্তন হেতু যে জ্বর, ম্যালেরিয়া জ্বর এবং ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসায় এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে সমাজে। এ জন্য কচি তুলসী পাতা চায়ের সাথে সিদ্ধ করে পান করলে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুজ্বরের প্রতিরোধ হয়ে থাকে। অ্যাকিউট জ্বরে তুলসী পাতার সিদ্ধ রসের সাথে এলাচি গুঁড়া এবং চিনি ও দুধ মিশিয়ে পান করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। গলক্ষতের (ঝড়ৎব ঃযৎড়ধঃ) জন্য তুলসী পাতা সিদ্ধ পানি পান করলে এবং গারগল করলে ভালো উপকার পাওয়া যাবে।

তুলসী পাতার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে, ফুসফুসীয় সমস্যায়, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, কাশি এবং ঠাণ্ডাজনিত রোগে তুলসী পাতার রস, মধু ও আদা মিশিয়ে পান করলে উপশম পাওয়া যায়। ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে তুলসী পাতার রস, লবণ ও লবঙ্গ মিশিয়ে পান করলে ফল পাওয়া যায়। এ ধরনের রোগের ব্যবহারের জন্য তুলসী পাতা আধা লিটার পানিতে সিদ্ধ করতে হয় ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ তা অর্ধেকে পরিণত হয়।

কিডনি পাথরের ক্ষেত্রেও তুলসীর ব্যবহার চকমপ্রদ ফলাফল দিয়ে থাকে। তুলসী পাতার রস, মধুর সাথে মিশিয়ে নিয়মিত একাধারে ছয় মাস পর্যন্ত ব্যবহারে কিডনি পাথর অপসারিত হয়ে থাকে। হৃদরোগেও তুলসীর ব্যবহার রয়েছে। কোলেস্টেরল বৃদ্ধিজনিত হৃদরোগে তুলসী পাতার রস খুব উপকারী। এমনকি কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমিয়ে দেয় তুলসী। ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের শর্করার মাত্রাও কমিয়ে দেয় তুলসীর রস।

তুলসী পাতার রস শিশুদের জন্য বেশ উপকারী। বিশেষত, শিশুদের ঠাণ্ডা লাগা, জ্বর, কাশি, ডায়েরিয়া এবং বমির জন্য তুলসী পাতার রস ভালো কাজ করে। পানি বসন্তের জন্যও তুলসীর রস কার্যকরী।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় তুলসী থেকে তৈরি ওষুধের নাম ওসিমাম স্যাঙ্কটাম (ঙপরসঁস ংধহপঃঁস)। অ্যাজমা, ঠাণ্ডা লাগা, জ্বর ইত্যাদিতে এর প্রধান ব্যবহার মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত এবং স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ায় এর চমৎকার ব্যবহার রয়েছে। গলাব্যথা, বুকব্যথা, মাথাব্যথা, চোখব্যথা, কানব্যথার লক্ষণেও এটা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মুখের ক্ষত, মুখের দুর্গন্ধ, পেট ফাঁপা, ক্ষুধামন্দা, লিবারে ব্যথা ইত্যাদিতে এর ব্যবহার রয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য হোমিওপ্যাথিতে এর কার্যকর ব্যবহার রয়েছে। হোমিওপ্যাথিতে ডায়েরিয়া, আমাশয়, অসাড়ে প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এবং বারবার প্রস্রাবের চিকিৎসায়ও এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

মহিলাদের দীর্ঘ মেয়াদি মাসিকের রক্তক্ষরণ, সাদা স্রাব এবং প্রসব-পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে অসিমাম স্যাঙ্কটাম দ্রুত কাজ করে।

-আইএইচএমআর ফিচার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫