ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

উপমহাদেশ

রোহিঙ্গা প্রশ্নে আবার সঙ্কটে ভারত

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৪:০১


প্রিন্ট
নরেন্দ্র মোদি

নরেন্দ্র মোদি

আবার সমস্যায় ভারত। চীনের সঙ্গে সংঘাত মিটতে না মিটতেই পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে ফের সঙ্কটে পড়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। পুরো দক্ষিণ এশিয়া থেকে ভিন্ন অবস্থানই নিয়েছে ভারত। রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে তা না পারা যাচ্ছে হজম করতে, না পারা যাচ্ছে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে চাপমুক্ত হতে। এ নিয়ে বিভিন্ন স্তরের চাপ কাটিয়ে সমাধানের পথ খোঁজাটাই এখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

ভারতের ওপর চাপ বহুমাত্রিক। নৃশংস নির্যাতন সত্ত্বেও মিয়ানমারের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে বেশ বেকায়দায় পড়েছে ভারত। ভারতে বসবাসকারী ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। ভারত তাদের তাড়িয়ে দিতে চাইছে।
কিন্তু পরিস্থিতি এমনই যে তাদের মিয়ানমারে ফেরানো এখন কার্যত অসম্ভব। গতকালই জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার সংক্রান্ত হাইকমিশনার জায়েদ রাদ আল হুসেন এই প্রসঙ্গে তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের।

জাতিসঙ্ঘে ভারতের প্রতিনিধি আজ সমালোচনার জবাবে বলেন, ‘‘অন্য অনেক দেশের মতো ভারতও অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষত সেই অনুপ্রবেশকারীরা যদি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কাঁটা হয়ে দাঁড়ান। মানবাধিকার সংক্রান্ত হাইকমিশনারের বক্তব্যে আমরা বিস্মিত।’’

কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজারের খবর, এই সমালোচনা নিঃসন্দেহে দিল্লির অস্বস্তি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাস প্রশ্নে আগাগোড়া ভারতের পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশের হাসিনা সরকারও ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছে। দু’দিন আগেই নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোয়াজ্জেম আলী ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করে অনুরোধ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরানোর জন্য সক্রিয় হোক ভারত। মোয়াজ্জেমের কথায়, ‘‘মায়ানমারের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা সবাই বিমস্টেক গোষ্ঠীভুক্ত। ভারতের জোর দিয়ে মিয়ানমারকে বলা উচিত সে দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে যাতে এরা নিজেদের দেশে ফিরতে পারেন।’’

ভারতের পররাষ্ট্র সূত্রের মতে, ভারতে থাকা শরণার্থীদেরই মিয়ানমারে ফেরানোর অবস্থায় নেই দিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ব্যাপারে সে দেশের নেত্রী ও সরকারের পরামর্শদাতা আউং সান সু চি-র সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের খবর, রোহিঙ্গা প্রশ্নে এতটুকুও আপস করার জায়গায় নেই সু চি। বিশেষ করে আরসা সদস্যরা রাখাইন প্রদেশে ৩০টি পুলিশ চৌকি ও একটি সেনা ছাউনিতে আক্রমণ করার পরে পরিস্থিতি প্রবল অগ্নিগর্ভ। আমেরিকা এ নিয়ে আজ মিয়ানমারের সমালোচনা করলেও সু চি সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে চীন। ফলে বিষয়টি নিয়ে ভারতের অস্বস্তি আরো বেড়েছে।

রাখাইন প্রদেশের আর্থ সামাজিক উন্নতির জন্য নয়াদিল্লি পদক্ষেপ করবে বলে মিয়ানমার নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। সেখানে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করে পরিস্থিতিকে প্রশমিত করা এবং রোহিঙ্গা প্রশ্নে ভারতের ‘মানবিক মুখ’কে তুলে ধরাটাই লক্ষ্য দিল্লির। সেইসঙ্গে ভারতে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সেখানে পুর্নবাসনের চেষ্টাও এরপরে করা হবে। কিন্তু সেই আশা দুরাশা বলে ধারণা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাংশের।

শশীকলা বাদ
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে নতুন করে আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের দুই বিবদমান গোষ্ঠী মিশে যাওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথম বৈঠকে বসেই অন্তর্বর্তী সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ভি কে শশীকলার নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এআইএডিএমকে। তাকে সব পদ থেকে অপসারিত করেছে দলের জেনারেল কাউন্সিল। তিনি যেসব বরখাস্ত ও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সবই বাতিল হয়েছে। দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে জেলে রয়েছেন শশীকলা। গত মাসে পালানিস্বামী ও পনিরসেলভম শিবির মতভেদ ঘুচিয়ে হাত মেলানোরও সিদ্ধান্ত নেয়ায় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, শশীকলা ও তার ভাগ্নে টিটিভি দিনাকরণের দিন ঘনিয়ে আসছে।

পার্টি সূত্রের খবর, এদিন বৈঠকে পালানিস্বামী, পনিরসেলভমের উপস্থিতিতেই কথা হয়, প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত এম জি রামচন্দ্রন ও পরলোকগত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা ছাড়া আর কাউকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মেনে নেয়া যায় না। এআইএডিএমকে-র সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী জেনারেল কাউন্সিল ও এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে শশীকলার নিয়োগ বাতিলের প্রস্তাব পাশ হয় বলে সূত্রের খবর। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, সাধারণ সম্পাদক পদটাই আর থাকবে না। তার বদলে কোঅর্ডিনেটর, যুগ্ম কোঅর্ডিনেটর নিয়োগ করা হবে। তাদের হাতে থাকবে দল চালানোর যাবতীয় ক্ষমতা। আর থাকবে স্টিয়ারিং কমিটি। ২১ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামী ও উপমুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভমের গোষ্ঠীর মিলনের সময় স্টিয়ারিং কমিটি দল পরিচালনা করবে বলে ঘোষণা হয়েছিল।


নোট বাতিল, মোদিকে আক্রমণ রাহুলের
সুদূর মার্কিন মুলুকে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অর্থনৈতিক নীতির তীব্র সমালোচনা করলেন বিরোধী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সহ-সভাপতির অভিযোগ, ‘বেপরোয়া ও ভয়ঙ্কর’ ডিমোনেটাইজেশন এবং ‘তড়িঘড়ি’ জিএসটি চালু করে দেশের অর্থনীতির ‘মারাত্মক ক্ষতি’ করেছেন তিনি।

গতকালই, দু সপ্তাহের সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছন ৪৭ বছরের রাহুল। প্রথম দিন, তিনি ক্যালিফর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলেতে সমসাময়িক ভারত এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তৃতা দেন।

সেখানেই কেন্দ্রের দুটি সিদ্ধান্তের প্রবল সমালোচনা করেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি। বলেন, গত বছর ৮ নভেম্বর নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ও পার্লামেন্টকে অন্ধকারে রেখেই। এর ফলে, দেশের অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

রাহুলের অভিযোগ, ডিমোনেটাইজেশনের ফলে ভারতের ওপর বিপুল আর্থিক বোঝা চেপেছে। বলেন, ভারতের বিপুল প্রতিষ্ঠানিক জ্ঞানকে অগ্রাহ্য করে অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে এই ক্ষতিকারক সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়েছিল।

রাহুল জানান, প্রতিদিন ৩০ হাজার যুবা চাকরির জন্য লাইন দিচ্ছেন। আর সরকার সেখানে প্রতিদিন মাত্র ৫০০টি চাকরি তৈরি করছে। তিনি বলেন, আর্থিক বৃদ্ধির হার নিম্নগামী হওয়ায় দেশে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

রাহুলের আরো অভিযোগ, নোট বাতিল করে সরকার কোটি কোটি টাকা নষ্ট করেছে। তিনি বলেন, হাজার হাজার ছোট ব্যবসা নোট বাতিলের ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কৃষিক্ষেত্রের সমস্যা হয়েছে। বহু কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। পণ্যমূল্য বেড়েছে।

নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি জিএসটি প্রসঙ্গেও, মোদি সরকারকে একহাত নেন রাহুল। তার অভিযোগ, অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে এই কর চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, জিএসটি-র ফলে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির পতন হয়েছে। দেশের ক্ষতি হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫