পাকনা হাওরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইছ 

তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) 

 

বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের বিখ্যাত গান ”কোন মেস্তুরী নাও বানাইছে কেমন দেখা যায়, ওরে ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ুর পংক্ষি নাও” এমন মনকারা গানের সুরে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনা হাওরে হয়ে গেল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইছ। মাঝি-মাল্লাদের ”মারো টান হেইয়ো, হেইয়ো'-এসব আওয়াজ আর হাজার হাজার দর্শকের আনন্দ উছ¦াসের মধ্যদিয়ে উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিযনের পাকনার হাওর পারের লক্ষীপুর গ্রামে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলেলক্ষীপুর গ্রামবাসীর আয়োজনে ব্যতিক্রমী এই উৎসব নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে দুপুরের পর থেকেই পাকনার হাওর পারের লক্ষীপুর গ্রামের সামনে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও দর্শকরা জমায়েত হন। প্রতিযোগিতা শুরুর পূর্ব মুহুর্তে ওই গ্রামে ঢল নামে হাজারো মানুষের। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া নৌকার খেলোয়াড়রা কখনো একদল আরেক দলকে পেছনে ফেলে আগে ওঠে। আবার পেছনে পড়ে। এ সময় হাজারো দর্শক করতালির মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহ যোগীয়ে যান। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিযোগিতা। পরে পুরষ‹ার বিতরণী অনুষ্ঠানে লক্ষীপুর গ্রামের জিয়াউ দ্দিনের সভাপতিত্বে ও ময়না মিয়ার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন-জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাচনাবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব রেজাউল করিম শামীম, জেলা কৃষকলীগের আহবায়ক ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এড.আসাদউল্লাহ সরকার, উপজেলা আ’লীগ নেতা জিতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু প্রমূখ। বক্তারা বলেন, এক সময় নৌকা বাইচ ছিল গ্রাম বাংলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব। কালের আবর্তে তা হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্ম ভুলে যেতে বসেছে। মূলত আগামী প্রজন্মকে গ্রামীণ ঐতিহ্য সম্পর্কে জানান দিতেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এ দিকে নৌকা বাইচ দেখতে আসা শাহাবাজ, মনির হোসেন , মোনায়েম, উম্মে লাবিবা, শাহানাজসহ একাধিক তরুণ-তরুণী জানান, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখে ভীষণ মজা পেয়েছেন তারা। ঢোলের তালে তালে সুর তুলে বৈঠা বাওয়া, হেইও হেইও আওয়াজে সুর তোলে নৌকা সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য গুলো ছিল অসাধারণ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.