ঢাকা, মঙ্গলবার,২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নিত্যদিন

সারেজ

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আজ তোমরা জানবে সারেজ সম্পর্কে। তাজিকিস্তান প্রকৃতির কোলে এক ঊর্বশীর মতো, যার কপোলের তিল যেন সারেজ। হ্রদটি দেশটির এক বিশাল সম্পদ। লিখেছেন মুহাম্মদ রোকনুদ্দৌলাহ্
তাজিকিস্তানের পামির পর্বতমালায় গভীর হ্রদ সারেজের অবস্থান। হ্রদটি চোখ-জুড়ানিয়া হলে কী হবে, রুদ্র প্রকৃতির ভয়ঙ্কর তাণ্ডবে এর সৃষ্টি। হ্রদটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে হ্রদসমতল থেকে এর চার ধারের পর্বতমালার উচ্চতা প্রায় দুই হাজার ৪১৬ মিটার।
১৯১১ সাল। আজকের তাজিকিস্তান তখন রুশ সাম্রাজ্যের (রাশিয়া) অধীন। সেই সময় মারাত্মক এক ভূমিকম্পে বিশাল ভূমিধস হয়; রিখটার স্কেলে ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৫ থেকে ৭। মাটির নিচে চাপা পড়ে উসই গ্রাম। এর ফলে মারঘব নদী বরাবর সুবিশাল এক প্রাকৃতিক জলবন্ধন (ড্যাম) তৈরি হয়। নদীটির গতিপথ অবরুদ্ধ হয়। দু’বছরের মধ্যে নদীটি ৬০ কিলোমিটার লম্বা একটি হ্রদ গঠন করে। নাম তার সারেজ। এ সময় এর পানি ধারণক্ষমতা হয় প্রায় ১৭ ঘনকিলোমিটার। ভূমিকম্পের ফলে যে জলবন্ধনের সৃষ্টি হয় তার নাম উসই। সম্ভবত ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রামটির নামানুসারে এই নাম। জলবন্ধনটির উচ্চতা প্রায় ৫৫০ মিটার এবং দৈর্ঘ্য প্রায় দুই কিলোমিটার। এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক জলবন্ধন।
সারেজ হ্রদ বর্তমান আকার পেয়েছে ১৯২০ সালে। তার মানে হ্রদটির পূর্ণতা পেতে সময় লেগেছিল প্রায় ৯ বছর। ১৯৬৮ সালে এক ভূমি ধসের ফলে হ্রদে দুই মিটার উঁচু ঢেউ জেগেছিল। ১৯৯৭ সালে দুশানবের এক সম্মেলনে জানানো হয়, উসই জলবন্ধন দৃঢ় ছিল না। অপর একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এটি ভেঙে পড়তে পারত। ২০০৪ সালে বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় প্রকাশ পায় জলবন্ধন দৃঢ় ছিল। মূল বিপদ ছিল তিন ঘনকিলোমিটার পাথর বিচ্ছিন্ন হয়ে জলবন্ধনকে দুর্বল করে দেয়া এবং যা হ্রদে ভেঙে পড়তে পারত। উপত্যকা থেকে নিচে জলবন্ধনটি এত সঙ্কীর্ণ যে, যেকোনো বন্যা খুবই বিপজ্জনক হতে পারে। সাগরসমতল থেকে সারেজ হ্রদের উচ্চতা প্রায় তিন হাজার ২৬৩ মিটার। গড় গভীরতা ২০১ দশমিক ৮ মিটার এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ৫০৫ মিটার। হ্রদটির সর্বোচ্চ প্রশস্ততা প্রায় ৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার এবং উপকূলের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬২ কিলোমিটার। তাজিকিস্তান প্রকৃতির কোলে এক ঊর্বশীর মতো, যার কপোলের তিল যেন সারেজ। হ্রদটি দেশটির এক বিশাল সম্পদ।
তথ্যসূত্র : ওয়েবসাইট

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫