ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ঘটনা-দুর্ঘটনা

মায়ের সামনে ঘাতক বাস কেড়ে নিলো ছোট্ট তিশার প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৯:০২ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৯:২১


প্রিন্ট
মায়ের সামনে ঘাতক বাস কেড়ে নিলো ছোট্ট তিশার প্রাণ

মায়ের সামনে ঘাতক বাস কেড়ে নিলো ছোট্ট তিশার প্রাণ

স্কুল ছুটি শেষে মা ও ভাইয়ের সাথে বাসায় ফিরছিল পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী তাসনিম আলম তিশা (১২)। কথা ছিল বাসায় ফিরে দুপুরের খাবে। কিন্তু তা আর হলো না। মায়ের চোখের সামনে ঘাতক বাস কেড়ে নিলো ছোট্ট তিশার জীবন। মেয়ের এমন করুণ পরিণতি কোনো ভাবেই মানতে পারছেন না মা রিমা আক্তার। মেয়ের নিথর দেহের সামনে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। জ্ঞান ফিরলেই চিৎকার করে বলছিলেন, ‘আমার তিশা, তুই কই গেলি? আল্লাহ, তুমি আমার তিশাকে ফিরিয়ে দাও।'

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার মিরপুরের রোকেয়া সরণীর কাজীপাড়া লাইফ এইড হাসপাতালের সামনে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা রোকেয়া সরণী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। তারা ঘাতক বাসটি ভাংচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। জনতার সহায়তায় পুলিশ বাসের হেলপার আব্দুর রহিম বাচ্চুকে আটক করতে পারলেও চালক পালিয়ে যায়।

এদিকে রাস্তায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাভাবিক হয়। তিশা মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। নিহত ছাত্রীর বাবা খোরশেদ আলম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এঘটনায় কাফরুল থানায় মামলা হয়েছে।

তিশার বাবার সহকর্মী মোহন সরকার বলেন, বেলা একটার দিকে স্কুল ছুটির পর একটি রিকশায় করে পূর্ব কাজীপাড়ার আল হেলাল হাসপাতালের কাছের বাসায় ফিরছিল তিশার মা, তিশা আর ছোট ভাই। রিকশাটি লাইফ এইড হাসপাতালের সামনে থামে। সেখান থেকে সড়ক বিভাজক পার হওয়ার জন্য এগিয়ে যায় তারা। মা ছেলের হাত ধরেছিলেন। মেয়ে পাশেই ছিল। মা ছেলেকে নিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর ওঠে যান। মেয়ে উঠতে পারেনি। মুহূর্তের মধ্যেই মিরপুর ১০ নম্বরের দিক থেকে ছেড়ে আসা তেতুলিয়া পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১১৭৩৭০) বাস মেয়েটিকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিশার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই বিক্ষুদ্ধ জনতা রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ওই বাস আটক করে ভাংচুর করে। এর মধ্যে তিশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জনতা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা প্রায় ১৫ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে বাসটি সম্পর্ণ পুড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে বিক্ষুব্ধরা কয়েকটি বাস ভাংচুর করে। তারা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। প্রায় দেড় ঘন্টা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে। দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষোভকারীরা।

কাফরুল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় বাসের হেলপারকে আটক করতে পারলেও চালক পালিয়ে গেছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫