জার্মান ট্যাঙ্ক
জার্মান ট্যাঙ্ক

তুরস্কে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে জার্মানি

তুরস্কে সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে জার্মানি। দেশটির অবনতিশীল মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ন্যাটো মিত্র দেশ দুটির মধ্যে টানাপড়েনকে কেন্দ্র এ পদক্ষেপ নিয়েছে বার্লিন।

জার্মান ভাইস চ্যান্সেলর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল বলেছেন, বড় বড় অস্ত্রের জন্য তুরস্ক যে আহ্বান জানিয়েছিল তা সরবরাহ করার বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে। এগুলোর সংখ্যা কম নয় বলেও জানান তিনি। কথিত রাজনৈতিক অভিযাগে আরো এক জার্মান দম্পতিকে তুরস্কে আটক করা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানোর পর অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া হয়।

তিনি বলেন, ন্যাটো অংশীদার হিসেবে বার্লিন সাধারণভাবে অস্ত্র পাঠানোর অনুরোধ মেনে নেয়। কিন্তু তুরস্কে বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে এ ধরণের অনুরোধ স্থগিত রাখা হয়েছে।


সু চিকে এরদোগানের ফোন : রোহিঙ্গাদের নিয়ে পুরো মুসলিম বিশ্ব উদ্বিগ্ন
বিবিসি

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইপ এরদোগান মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূচিকে ফোন করে রোহিঙ্গা মুসলিমদের 'মানবাধিকার লঙ্ঘন' নিয়ে উদ্বেগ এবং নিন্দা জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে 'গণহত্যা' চলছে।
আর মঙ্গলবার এরদোগান সরাসরি ফোন করেছেন মিয়ানমারের সবচেয়ে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেত্রী অং সান সূচিকে।
বার্তা সংস্থা এএফপি এবং রয়টার্স প্রেসিডেন্টের মুখপাত্রদের উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে, ফোনালাপে এরদোগান সু চির কাছে রোহিঙ্গা মুসলিমদের 'মানবাধিকার লঙ্ঘন' নিয়ে উদ্বেগ এবং নিন্দা জানিয়েছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুচিকে বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, "নিরপরাধ মানুষের ওপর সন্ত্রাসীর তৎপরতার নিন্দা করছে তুরস্ক। মিয়ানমারে যে মানবিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে সেটি উদ্বেগ এবং ক্ষোভের বিষয়।" সূ চির উত্তর বা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।

তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদলু জানিয়েছে, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে এবং কথা বলতে প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলুকে বুধবার বাংলাদেশের পাঠাচ্ছেন।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে তুরস্ক বিশেষ তৎপর হয়ে উঠেছে।
ঈদের ছুটির সময় প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এই সঙ্কট নিয়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশের নেতাদের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এমনকি জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অন্তোনিও গুতেরেজের সাথেও কথা বলেছেন তিনি।

তুরস্কের নেতা বলেছেন, এ মাসের শেষে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভায় তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলবেন।
ওদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের মাঝেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ঘর পালানো রোহিঙ্গাদের ঢল অব্যাহত রয়েছে। জাতিসঙ্ঘ বলছে গত ১১ দিনে ১,২৩,০০০ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢুকেছে।

পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে 'ভণ্ডামি'র অভিযোগ আনলেন এরদোগান
বিবিসি
তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তির দিনে দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তায়েপ এরদোগান পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে 'ভণ্ডামি'র অভিযোগ এনে বলেছেন, তারা সেদিন অভ্যুত্থানের ফল কী হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছিল।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এরদোগান বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য কোনোভাবেই এটাকে ঢেকে রাখার উপায় নেই যে সেদিন তারা তুরস্কের সাথে তাদের বন্ধুত্বকে প্রতারণা করে 'অভ্যুত্থানের ফল কী হয়' এটা দেখার জন্য বসে ছিল।
এরদোগান ওই অভ্যুত্থানের পর তুরস্কে গণগ্রেফতার এবং শুদ্ধ অভিযান চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর গ্রেফতার করা হয় ৫০ হাজার লোককে। গ্রেফতার হন অন্তত ১৩০ জন সাংবাদিক।
সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয় ৭ হাজার জনকে। এ ছাড়াও চাকরি হারান ১ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষাবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তা।
২০১৬ সালের এই দিনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়েপ এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সেনাবাহিনীর একটি অংশ বড় শহরগুলোর রাস্তায় অস্ত্র এবং ট্যাংকসহ নেমে পড়ে এবং পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা চালাতে থাকে।
অভ্যুত্থানের পেছনে ফেতুল্লাহ গুলেন ছিলেন এ অভিযোগ উঠলেও গুলেন তা অস্বীকার করেন
তুরস্কের ওই অভ্যুত্থানে নিহত হয় কমপক্ষে ২৬০ জন , আহত হয় ২ হাজার ১৯৬ জন।
অনেক বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর পরও জনগণের প্রতিরোধের মুখে সেই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়।
এরদোগান বলেন, ওই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়াটা ছিল গণতন্ত্রের ইতিহাসে মোড়বদলকারী ঘটনা।
সেই রাতের পর প্রেসিডেন্ট এরদোগানের জনপ্রিয়তা আরো অনেক বৃদ্ধি পায়।

কিন্তু অভ্যুত্থানের পর ব্যাপকহারে ধরপাকড় নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয় এবং এ নিয়ে সমালোচনা এখনো চলছে।
তুরস্কে এর আগে চারটি অভ্যুত্থান হয়েছে, প্রথমটি ১৯৬০ সালে, এর পর ১৯৭১, ১৯৮০ ও ১৯৯৭ সালে আরো তিনটি অভ্যুত্থান হয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.