ঢাকা, শুক্রবার,২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

খুলনা

এনজিও’র কিস্তির টাকা জোগাড় করতে না পারায় গৃহবধূর আত্মহত্যা

বিপুল আশরাফ, চুয়াডাঙ্গা

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৫:৩৬


প্রিন্ট
শিল্পী খাতুনের বাড়ি

শিল্পী খাতুনের বাড়ি

চুয়াডাঙ্গায় এনজিও থেকে নেয়া লোনের কিস্তির টাকা জোগাড় করতে না পারায় শিল্পী খাতুন নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল সোমবার নিজ ঘরের বাঁশের আড়া থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ময়না তদন্ত শেষে রাতেই দাফন করা হয়। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। কি কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে বলে জানায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদরের সরিষাডাঙ্গা গ্রামের রাজীবের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী শিল্পী খাতুন সংসারের সচ্ছলতা আনতে কয়েকটি এনজিও থেকে লোন নেন। এর মধ্যে আছে আত্মবিশ্বাস, গ্রামীণ ব্যাংক, জাগরণী চক্র এবং আশা এনজিও। সোমবার ছিল আত্মবিশ্বাস এনজিও লোনের কিস্তির টাকা পরিশোধের দিন। ওই দিন লোনের সাড়ে ৯ হাজার টাকা পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু তার টাকা জোগাড় হয়েছিল ৮হাজার ৯শ টাকা। সকালে তার স্বামী রাজীব টাকা ধারের জন্য কয়েক জায়গায় গেলেও টাকা জোগাড় করতে পারেননি।

সোমবার সকালে যথারীতি আত্মবিশ্বাসের ফিল্ড অফিসার আরিফ হোসেন লোনের টাকা আদায় করতে হাজির হন। তিনি শিল্পীর পাশের বাড়িতে বসে শিল্পীকে টাকা নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য খবর পাঠান। সমুদয় টাকা জোগাড় না করতে পেরে কোনো উপায় না পেয়ে শিল্পী খাতুন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

শিল্পীর স্বামী রাজীব বলেন, ‘বাড়িতে একটি গরু রয়েছে। মনে করেছিলাম গরু বিক্রি করে লোনের টাকা পরিশোধ করব। আমার স্ত্রী কি জন্য যে মারা গেল বুঝতে পারছি না।’

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শিল্পীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকে কাতর পরিবারের সদস্যরা। শিল্পীর বড় ছেলে রাকীব দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। সে আনমনে বাড়ির উঠানে খেলে বেড়াচ্ছে। আর ছোট ছেলে লাজিম দাদির কোলে ঘুমাচ্ছে। তারা জানে না, তাদের মা আর কখনও ফিরে আসবে না। যে পরিবারটিতে স্বামী-স্ত্রী-শশুর-শাশুড়ির মধ্যে কোনো ঝগড়া-বিবাদ নেই। এই সুখের সংসারে কি করে যে এমন ঘটনা ঘটল গ্রামবাসী তা বলতে পারছে না।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তোজাম্মেল হক জানান, চুয়াডাঙ্গা সদররের মোমিনপুর ইউনিয়নের সরিষাডাঙ্গা গ্রামের গৃহবধূ শিল্পী খাতুন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। কি কারণে তিনি মারা গেছেন তদন্ত করা হচ্ছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫