ঢাকা, সোমবার,২০ নভেম্বর ২০১৭

উপমহাদেশ

‌গুরমিতের বিরুদ্ধে আরো ভয়াবহ অভিযোগ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৪:১৩


প্রিন্ট
‌গুরমিতের বিরুদ্ধে আরো ভয়াবহ অভিযোগ

‌গুরমিতের বিরুদ্ধে আরো ভয়াবহ অভিযোগ

ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের বিপদ আরো বাড়ছে। ধর্ষণ মামলায় আগেই ২০ বছরের সাজা হয়েছে তার। এবার তার বিরুদ্ধে আরো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। শুধুমাত্র প্রাপ্তব্যস্ক মহিলাই নয়। গুরমিত কমপক্ষে ১০ অপ্রাপ্তবয়স্কের যৌন নিগ্রহ করেছেন বলে দাবি ডেরা সাচা সওদার সাবেক সদস্য গুরদাস সিং তূড়ের। খুব শিগগির অভিযোগ দায়ের করবেন তিনি।
ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের চার্জশিটে গুরমিতের বিরুদ্ধে আরো ছয় মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। আদালতে যার অন্যতম সাক্ষী গুরদাস। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ‘‌বহু মেয়েরাই ডেরার স্কুলে পড়ত। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যৌন নিগ্রহ করেছিলেন গুরমিত। যাদের বেশিরভাগই এখন বিবাহিতা। একজন তো আবার বিদেশ চলে গেছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ রযেছে আমার। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় বাবা তার ওপর অত্যাচার চালান বাবা। নিজের মা–বাবাকে জানিয়ে লাভ হয়নি। বরং জোর করে তাকে স্কুলে ফেরত পাঠানো হয়। আরো তার পরিবার বাবার ভক্ত।’‌

নির্যাতিতার সঙ্গে হোয়াটস অ্যাপে যোগাযোগ রয়েছে গুরদাস সিং তূড়ের। কথোপকথন চলাকালীন ওই মহিলা লিখেছেন, ‘রামরহিম গ্রেফতার হওয়ার দিন কয়েক আগে বাড়ি গিয়েছিলাম। তখন মা–বাবাকে ওর ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে বলি। কিন্তু উল্টে আমাকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হলো।’‌

নির্যাতিতা ১০ জনের সঙ্গেই যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গুরদাস। সিবিআই আদালতের রায়কে নাকি প্রত্যেকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে বিবাহিত জীবনের কথা মাথায় রেখে প্রকাশ্যে আসতে রাজি নন কেউ। ডেরার হাসপাতালে ধর্ষিতাদের জোর করে গর্ভপাত করানো হতো বলেও দাবি করেছেন গুরদাস। যার মধ্যে তিনি নাকি তিনটির সাক্ষী ছিলেন। অনাথ শিশুদের জন্য ‘‌শাহী বেটিয়া’‌ নামের একটি অনাথ আশ্রম রয়েছে ডেরার। সেখানকার অসহায় শিশুদেরও রেহাই দিতেন না ডেরা প্রধান।

ডেরা সচ্চার হাসপাতালে চলত অবৈধ গর্ভপাত!

আগেই রকস্টার ‘বাবা’ গুরমিত রাম রহিমের ডেরায় অত্যাধুনিক হাসপাতালের খোঁজ মিলেছিল। প্রত্যাশিত ভাবে যে হাসপাতালের প্রধান গুরমিত সিং নিজেই। এ বার সেই হাসপাতালে দেদার গর্ভপাতের প্রমাণ মিলল। পাঞ্জাব পুলিশ এ বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ পেয়েছে। সূত্রের খবর, গর্ভপাত করানোর কাজে বিন্দুমাত্র সরকারি অনুমতির তোয়াক্কা করা হতো না। তদন্তকারীদের দাবি, যে সব মহিলার গর্ভপাত করানো হয়েছে, তাদের পর্যাপ্ত নথি মেলেনি হাসপাতাল থেকে।

মঙ্গলবার হরিয়ানার জনসংযোগ দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর সতীশ মেহেরা ডিএনএ-কে জানান, ডেরার হাসপাতালে বেআইনি গর্ভপাতের বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ফরেন্সিক কর্তাদের। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া নমুনাগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা বিচারক এ কে এস পওয়ার। তাকে এই মামলায় কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করেছে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট।

পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের নির্দেশে ৭০০ একরের ডেরা চত্বরে সম্প্রতি তল্লাশি চালায় রাজ্য পুলিশ এবং সরকারি নানা বিভাগের ১০টি দল। গত রোববারই শেষ হয়েছে তিন দিনের সেই তল্লাশি অভিযান। তাতেই জানা যায়, সাত তারা হোটেল, ‘স্কাইবার’-সহ রিসর্ট, অভিজাত রেস্তোরাঁ, সুইমিং পুল, অত্যাধুনিক হাসপাতাল, আন্তর্জাতিক মানের স্কুল, হোস্টেল, সিনেমা হল, শপিং মল, ফুড কোর্ট, জিম, স্পা, নিজস্ব কৃষিজমি, বাজার সবই রয়েছে বাবার ডেরায়। এমনকী, বিস্ফোরক তৈরির কারখানা, সুড়ঙ্গের খোঁজ মেলে সেখান থেকে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫