ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

অস্ট্রেলিয়া

ক্যাঙ্গারু নিয়ে বিপদে অস্ট্রেলিয়া

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১২:৫৮


প্রিন্ট

অস্ট্রেলিয়ার জমির মালিক ও পরিবেশবিদরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, সেখানকার বন্য ক্যাঙ্গারুর সংখ্যা অস্থিতিশীল পর্যায়ে চলে গেছে।

আর এ কারণে অস্ট্রেলিয়ানদের বেশি করে ক্যাঙ্গারুর মাংস খাবার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০১৬ সালে ক্যাঙ্গারুর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৫০ লাখ, যা দেশটির মানুষের সংখ্যার দ্বিগুণ।

২০১০ সালে ক্যাঙ্গারুর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৭০ লাখ, যা ছয় বছরে অনেক বেড়েছে।

আর বলা হচ্ছে, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে খাদ্য উৎপাদনও হয়েছে প্রচুর এবং এ কারণে উল্লেখযোগ্য হারে ক্যাঙ্গারুর বংশবৃ্দ্ধি হয়েছে।

তবে শুষ্ক মৌসুমে খরা পরিস্থিতি তৈরি হলে লাখ লাখ ক্যাঙ্গারু মারা যাবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

অস্ট্রেলিয়ায় পশু শিকার নিয়ে কঠোর আইন রয়েছে। পশু শিকারের বিধিনিষেধ নিয়ে প্রত্যেকটি রাজ্যে নিজস্ব আইন ও কোটা রয়েছে। ব্যবসার জন্য লাইসেন্স তো রয়েছে এবং বাণিজ্যিকভাবে পশু শিকার ও বিক্রির বিষয়টিও কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ করে যেন স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশুর মাংস ব্যবসায়ীদের সংখ্যাও বাড়ছে না কারণ সেখানে এর চাহিদা তেমন নেই এবং এজন্য এর বাণিজ্যিক মূল্যও কম।

প্রতি বছর মাংস সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। কারণ বিরোধীদের অনেকের মতে, ক্যাঙ্গারুর সংখ্যা কমলে যে পরিবেশের উন্নতি হবেএমন কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই।

জবাই করা ক্যাঙ্গারুর চামড়া বিক্রি হলেও এবং এগুলো রফতানি করা হলেও, মাংস বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে যায়। কারণ এই পশুর মাংসের চাহিদা অনেক কম।

আর এর অন্যতম কারণ হলো, ক্যাঙ্গারু অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পশু, আর জাতীয় পশুর মাংস খাওয়াটা অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে যারা ক্যাঙ্গারুর মাংস খেতে নাগরিকদের উৎসাহিত করছেন তারা বলছেন, অন্য সব প্রাণীর তুলনায় ক্যাঙ্গারুর কম পরিমাণে মিথেন উৎপন্ন করে এবং তাই এই মাংসে ‘ফ্যাট’ কম। তাছাড়া এটি পরিবেশবান্ধব প্রাণী।

ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেডের অধ্যাপক ড্যাভিড প্যাটন এবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ক্যাঙ্গারু জবাই করা ও এর মাংস খাওয়ার বিষয়টির প্রতি মানুষের সমর্থন প্রয়োজন। দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং এই প্রাণীটি ‘পচে যাওয়া’ রোধ করতে এটি প্রয়োজন।”

“ক্যাঙ্গারু যে এত বেড়ে গেছে এটা তাদের কারণে নয়, আমরা আসলে ক্যাঙ্গারুর ওপর ছুরি চালানোর বিষয়ে অনিচ্ছুক ছিলাম। তাদের বধ করবো, খাবো এটা আমরা ভাবতে পারতাম না। আর এ কারণে প্রাণীটি অন্যভাবে ধ্বংস হয়ে যাবার মুখে পড়েছে।”

“আমরা যদি ক্যাঙ্গারু জবাই করে এর মাংসের ব্যবসা করি তাহলে সেটা মানবিকই হবে, তবে আমাদের এও ভাবতে হবে ক্যাঙ্গারুর মাংস ও চামড়াসহ অন্যান্য অংশগুলো কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে”-বলেন এই অধ্যাপক। বিবিসি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫