ঢাকা, শনিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আমার ঢাকা

বৃষ্টিতে প্রায় অচল ঢাকা

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ঈদের পরে জলজট আর যানজটে প্রায় অচল ঢাকা। নগরের অলিগলি থেকে ভিআইপি সড়ক সব জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। দুর্ভোগ আরো বাড়িয়েছে ঢাকার ভাঙাচোরা রাস্তা। গত দুই দিনের মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষকে গন্তব্যে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টিতে রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ নিয়ে লিখেছেন মাহমুদুল হাসান
কখনো টিপটিপ, কখনো মাঝারি ধারার বর্ষণ, আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টিতে গেল দুই দিন ধরে ভিজছে রাজধানী। ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ঢাকার জনজীবন। অফিসগামী চাকরিজীবীদের যানজট আর জলজটের সাথে এক ধরনের যুদ্ধ করেই চলতে হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর কোনো কোনো সড়কে হাঁটু পানি জমে গেছে। রাজধানীর কাওরান বাজার, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ২৭, সোবহানবাগ, বসুন্ধরা সিটির পেছনে গার্ডেন রোড, পান্থপথ মোড় পার হয়ে গ্রিন রোডের কিছু জায়গা, পশ্চিম তেজতুরীপাড়া, ফকিরেরপুল, খিলগাঁও, মতিঝিল ও পল্টনসহ বেশির ভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতি বছর বর্ষা শুরু হলেই রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু করে ঢাকা ওয়াসা। এ সময় বৃষ্টি হলে পানি জমে জলাবদ্ধতাসহ সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতে রাজধানীর সড়কগুলো জলাশয়ে পরিণত হয়। পানি ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতরেও। কর্তৃপক্ষ সঠিক সময়ে রাস্তা এবং ড্রেনেজ-ব্যবস্থার সংস্কার না করার কারণেই পানি সরতে পারছে না।
রামপুরা ব্রিজের পর থেকে মালিবাগ মোড় পর্যন্ত প্রায় পুরো সড়কে বড় বড় গর্তে পানি জমে থাকায় যান চলাচল হয়ে উঠেছে বিপজ্জনক। মূল সড়কের বেশির ভাগ অংশে পানি জমে থাকায় যানবাহনগুলোকে থেমে থেমে চলতে হচ্ছে। এ রাস্তায় গাড়ি থমকে আছে। তার ওপর রাস্তাজুড়ে ফ্লাইওভার তৈরি-উন্নয়নের বিড়ম্বনা। কাদা পানি মাড়িয়ে সড়কে চলতে হচ্ছে। নেই কোনো ফুটপাথ, যা আছে তা হাঁটু পানির তলায়। পথচারীদের দুর্ভোগের সীমা নেই। রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি পানি জমে মৌচাক-মালিবাগ এলাকায়। এসব এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা একেবারেই বিকল। মৌচাক মার্কেট পুরোটাই বন্ধ। ভেতরে পানি থই থই করতে দেখা গেছে।
রামপুরার বাসিন্দা অদ্রিতী রায় জানান, রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে থেকে দেড়টার সময় মৌচাক আসার জন্য ‘ফাল্গুন’ বাসে চড়লেও কর্মস্থল মৌচাকে নামেন পৌনে ৪টায়। এমনিতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, তার ওপরে রাস্তায় হাঁটুপানি এবং ফুটপাথও কোথাও কোথাও হাঁটুপানির নিচে। এর ফলে যান চলাচলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। মৌচাকে বাস থেকে প্রায় হাঁটুপানিতে নামতে হয় বলে জানান অদ্রিতী।
ইস্কাটন, পান্থপথ, রাজাবাজার ও রায়ের বাজারে ভেতরের প্রায় সব গলিতে জমে আছে পানি। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাসা থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পানি ঢুকেছে বাড়ির নিচতলায়ও। পূর্ব রাজাবাজার, ফার্মগেট ও তেজগাঁও এলাকার বিভিন্ন সড়কে পানি। পশ্চিম রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দারা জানান, চার পাশের সব সড়কেই পানি। অনেক বাড়িতেই পানি ঢুকেছে।
মতিঝিলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি করেন আফজাল হোসেন। তিনি জানান, সকালে অফিসে যাওয়ার সময় বের হয়েই দেখি বাসার সামনে হাঁটুপানি। কোনো রিকশা বা সিএনজি না থাকায় অগত্যা জামাকাপড় ভিজিয়ে হেঁটে মেইন রোডে যাই। সেখানেও প্রায় হাঁটুপানি। কী আর করার, ৩৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে পশ্চিম রাজাবাজার থেকে একটা সিএনজি ভাড়া করে অফিসে রওনা হতে বাধ্য হই।
মৎস্য ভবনের কাছে নিউ ভিশন বাসের যাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এখানে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে বসে আছি। কিন্তু বাস নড়ার কোনো নাম নেই। বেসরকারি অফিসে চাকরি করি। সময়মতো না গেলে বেতন কাটে। যানজট তো আর অফিস বুঝবে না। এ সময় অনেককেই মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে সঠিক সময়ে অফিসে যাওয়ার জন্য বাস থেকে নেমে পড়তে দেখা যায়। এমনই একজন লিয়াকত খান। তিনি বাস থেকে নেমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন। তিনি বলেন, অফিসে সঠিক সময়ে যাওয়ার জন্যই বাস থেকে নেমে পড়েছি। কিন্তু যে বৃষ্টি হচ্ছে তা ছাতায় মানবে বলে মনে হয় না।
শুধু অফিস নয়, স্কুল ও কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বের হওয়া ছাত্রছাত্রীরা পড়ে ভীষণ বিপদে। অনেকে বই নিয়ে ভিজে একাকার। রাস্তায় হাঁটু পানিতে হাঁটতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে। ভিজে যায় তাদের বইপত্র। রাজধানীর টিকাটুলি থাকেন রায়হান জামান। তিনি জানান, সকাল ৭টায় মেয়েকে স্কুলে দিয়ে অফিসে যাই। হঠাৎ বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। মেয়ে ও আমি দু’জন ভিজে বৃষ্টিতে কোনো যানবাহন পাইনি। হাঁটুপানি ডিঙিয়ে মেয়েকে স্কুলে দিয়ে অফিস যাচ্ছি। বৃষ্টির জন্য দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া বেশি চেয়েছে সব রিকশাওয়ালা। তবে এ বৃষ্টিতে যাদের নিজস্ব পরিবহন আছে যানবাহন খোঁজার ঝক্কি পোহাতে হয়নি তাদের। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আসিফ জানান, নিজের মোটরসাইকেল থাকায় একটু নিরাপদ ভেবেছিলাম। তবে সংসদ ভবনের সামনে অর্ধেক রাস্তাজুড়ে পানি ছিল। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে পানি ঢুকে এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে যানজটের তীব্রতায় মোহাম্মদপুর থেকে কাওরান বাজারে অফিসে পৌঁছাতে আরমান হোসেনের সময় লেগেছে প্রায় দেড় ঘণ্টা। বৃষ্টিতে কাওরান বাজারের কাঁচাবাজার এলাকায় খেটেখাওয়া মানুষের চরম ভোগান্তি দেখা যায়। মাত্র আধা ঘণ্টায় রাস্তায় প্রায় হাঁটুপানি উঠে যায়। বৃষ্টিতে সবজিসহ কাঁচা পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। অনেক জায়গায় পানিতে ভাসতে দেখা যায় সবজি। ভারী বৃষ্টিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে গেছে। কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমর পানি জমে আছে। কালশী মোড়ের দোকানদার মাহমুদ মিয়া বলেন, পুরা বর্ষায় ব্যবসা বলতে গেলে বন্ধ। ঈদের পর থেকে দোকান খুলে দুপুরে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। আজকে যে অবস্থা, তাতে সারা দিনই বন্ধ রাখতে হবে।

সহজে কমছে না বৃষ্টি
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মওসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে এ বৃষ্টি হচ্ছে। আপাতত বৃষ্টি কমছে না। এই ধারা আজ থাকবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫