ঢাকা, শনিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আমার ঢাকা

ঢাকায় আধুনিক গণশৌচাগার

ফয়েজ হিমেল

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ছবি দেখে যে কারো মনে হতে পারে, এটি কোনো অভিজাত হোটেল বা করপোরেট অফিসের শৌচাগার। কিন্তু আসলে তা নয়। এটি ঢাকা মহানগরীর একটি গণশৌচাগার। ঢাকার গণশৌচাগার সম্পর্কে যাদের আগের ধারণা আছে তাদের কাছে বিষয়টি অবিশ্বাস্যও মনে হতে পারে। কিন্তু এমন একটি গণশৌচাগার সত্যিই ঢাকায় আছে। লিখেছেন ফয়েজ হিমেল
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মোট ৭০টি পাবলিক টয়লেট ছিল। বিশাল নগরীর বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় এই সংখ্যা নিতান্তই সামান্য। এর ওপর ওই কটি টয়লেটের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটিরও ব্যবহার উপযোগিতা ছিল না। নাগরিক দুর্ভোগের এ বিষয়টি অনুধাবন করে ঢাকার দুই মেয়র আধুনিক টয়লেট স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এবং পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে চালু হয়েছে চারটি আধুনিক গণশৌচাগার।
এগুলো গণশৌচাগার সম্পর্কে নগরবাসীর ধারণা পাল্টে দিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় আরো ৪৭টি গণশৌচাগার নির্মাণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরনো ১৭টি গণশৌচাগার ইতোমধ্যে সংস্কার করা হয়েছে।
নতুন চারটি গণশৌচাগারের মধ্যে সায়েদাবাদ টার্মিনাল ভবনে নারী ও পুরুষদের জন্য দু’টি এবং জনপথ মোড়ে মিউনিসিপালিটি ফিলিং স্টেশন ও বাহাদুর শাহ পার্কে একটি করে শৌচাগার খোলা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেও (ডিএনসিসি) এরই মধ্যে পাঁচটি গণশৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে। এগুলোর অবস্থান হলো গাবতলী বাস টার্মিনাল, সাতরাস্তা, নাবিস্কো, মহাখালী কাঁচাবাজার ও মেরুল বাড্ডা জামান ফিলিং স্টেশন। আর ডিএসসিসিতে বসেছে ছয়টি। ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি, ঢাকা ওয়াসা এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ এসব পাবলিক টয়লেট স্থাপনের কাজ করছে। এ ধরনের ৫০টি গণশৌচাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাগুলোর।
এসব গণশৌচাগারে শৌচকর্মের জন্য পাঁচ টাকা, গোসলের জন্য ১০ টাকা ও এক গ্লাস ‘নিরাপদ’ খাওয়ার পানির জন্য এক টাকা দিতে হবে।
গোসলের সময় জামাকাপড় ও মূল্যবান জিনিসপত্র রাখার জন্য লকার সুবিধা রয়েছে এসব শৌচাগারে। এ সুবিধা নিতে চাইলে খরচ করতে হবে পাঁচ টাকা। প্রতিটি গণশৌচাগারের সামনে নির্দিষ্ট পোশাকে ওয়াটার এইডের কর্মীরা রয়েছেন। শৌচাগারে ঢোকার আগে তাদের কাছ থেকে টিকিট কিনতে হবে।
একজন শৌচাগার ব্যবহার করে গেলে, তার পরপরই পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তা পরিষ্কার করে রাখছেন। নতুন পরিচ্ছন্ন শৌচাগার পেয়ে সাধারণ মানুষও খুশি।
কুমিল্লার সাইদ আলমকে সায়েদাবাদ টার্মিনাল হয়েই যাতায়াত করতে হয়। দীর্ঘ দিন সৌদি আরবে কাজ করেছেন তিনি। তার মতে, নতুন চালু হওয়া এ শৌচাগারের সাথে আগের শৌচাগারের পার্থক্য ‘আকাশ-পাতাল’। আগে তো টার্মিনালের টয়লেট খুব নোংরা ছিল। এখন অনেক সুন্দর। বিদেশের পাবলিক টয়লেটের সাথে এটার তেমন পার্থক্য নেই।
প্রতিটি শৌচাগারের বাইরে রয়েছে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। পানি খেতে চাইলে এক টাকা দিয়ে একবার ব্যবহারযোগ্য একটি প্লাস্টিকের গ্লাস কিনতে হবে কেবল। এ ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করে সিলেটের রবিউল জানান, টার্মিনালে খাওয়ার পানি পাওয়া যায় না। বোতল কিনতে লাগে ১৫ টাকা, তাতে দুই গ্লাস পানি থাকে। এক টাকায় একটা গ্লাস কিনে এমন বিশুদ্ধ পানি পেলে সবারই সুবিধা।
ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট এ এস এম শফিকুর রহমান আশা করছেন, নতুন এসব শৌচাগার রাজধানীতে গণশৌচাগার সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা পাল্টে দেবে, টেকসইও হবে। তিনি বলেন, আমরা একটি মডেল দাঁড় করনোর চেষ্টা করছি। এর আগে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, পাবলিক টয়লেট চালু হয়, এরপর আর ভালো থাকে না। আমরা খুব ‘কনফিডেন্টলি’ বলতে পারি, দুই দিন-পাঁচ দিন পর নষ্ট হয়ে যাবে না। কারণ আমরা পেশাদার একটি টয়লেট ক্লিনিং কোম্পানিকে দিয়ে এগুলো পরিচালনা করছি। রাজধানীতে এ ধরনের মোট ৫০টি গণশৌচাগার করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ওয়াটার এইড বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ছয়টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে পাঁচটি গণশৌচাগার খোলা হয়েছে। দক্ষিণে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে তিনটি; বাহাদুরশাহ পার্ক, মানিকনগর ও লালবাগ কেল্লায় একটি করে এবং উত্তরে গাবতলী বাস টার্মিনাল, সাতরাস্তা, নাবিস্কো, মহাখালী কাঁচাবাজার ও মেরুল বাড্ডা জামান ফিলিং স্টেশনে একটি করে গণশৌচাগার রয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫