ঢাকা, সোমবার,২০ নভেম্বর ২০১৭

উপমহাদেশ

মুসলিম তরুণকে বিয়ে করায় তোলপাড় কাশ্মীরে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৯:৩১


প্রিন্ট
মুসলিম তরুণকে বিয়ে করায় তোলপাড় কাশ্মীরে

মুসলিম তরুণকে বিয়ে করায় তোলপাড় কাশ্মীরে

ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে বৌদ্ধ নারী বিয়ে করেছিলেন তার পছন্দের মানুষটিকে। সেই ব্যক্তি মুসলিম। আর তারপর থেকেই অশান্ত জম্মু-কাশ্মীরের লাদাখ। ওই অঞ্চলের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে, নারীটি যদি বিয়ে ভেঙে বেরিয়ে না আসেন, তাহলে সমস্যা হবে।

এমনকি লাদাখ বৌদ্ধ সংগঠন মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতির কাছে এই ঘটনা প্রসঙ্গে একটি চিঠিও লেখে। সেখানে তারা দাবি জানিয়েছে, এখনই বাতিল করে দেয়া হোক তিরিশ বছর বয়সি স্থানীয় মহিলা শিফার সঙ্গে ৩২ বছর বয়সি কার্গিলের বাসিন্দা মোর্তাজা আগার বিয়ে। শিফার আগে নাম ছিল স্ট্যানজিন স্যালডন। পরে বিয়ের জন্যে ২০১৫ সালে ধর্ম পরিবর্তন করেন শিফা। স্ট্যানজিন থেকে নাম পরিবর্তন করে হয়ে যান শিফা। গত বছর পেশায় ইঞ্জিনিয়ার আগাকে বিয়ে করেন তিনি।

ওই সংগঠনের অভিযোগ, এলাকার মুসলিম ছেলেরা বৌদ্ধ ধর্মের তরুণীদের প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করছে। এইধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ওই বৌদ্ধ সংগঠন।

এদিকে এই সংগঠনের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা শিফার দাবি, তাকে মোটেই কেউ ধর্ম পরিবর্তন করতে বাধ্য করেননি। বরং তিনি ভালোবেসে, স্বেচ্ছায় নিজের ধর্ম পরিবর্তন করেছেন। এরপর সেই মহিলা সকলের কাছে আবেদন করেছেন, শুধুমাত্র ধর্মকে সামনে রেখে মানুষের মধ্যে ঘৃণার বাতাবরণ ছড়ানো কখনওই উচিত নয়। তার স্পষ্ট বক্তব্য, তিনি তার নিজের পছন্দে আগাকে বিয়ে করেছেন। কোনওরকম ভাবেই তাকে কোনো প্রলোভন দেখানো হয়নি। এমনকি বিয়ের সময় তাকে অপহরণ করা বা তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনাও ঘটেনি।


ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে বৈষম্য
নয়া চ্যালেঞ্জের মুখে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর শতাধিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও মেজর।

তাদের অভিযোগ, 'বৈষম্যমূলক প্রমোশনের দ্বারা সেনাবাহিনী ও কেন্দ্রীয় সরকার পিটিশনার ও অন্যান্যদের প্রতি সাংঘাতিক অবিচার করেছে। যা অফিসারদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে।' লেফটেন্যান্ট কর্নেল পিকে চৌধুরীর নেতৃত্বে যুগ্ম পিটিশনে বলা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা জওয়ানরা যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন, অপারেশনাল ক্ষেত্রে সার্ভিস কর্পস অফিসারদেরও একই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। তাহলে কেন কমব্যাট অফিসাররাই শুধু প্রমোশন পাওয়ার সুযোগ পাবেন আর সার্ভিস কর্পস অফিসাররা বঞ্চিত হবেন?

যারা ১০-১৫ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন, প্রতিনিয়ত বৈষম্যমূলক পদোন্নতিতে তাদের মনোবল ভেঙে যাচ্ছে বলে পিটিশনে দাবি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের কাছে ক্ষুব্ধ সেনাকর্মীদের আবেদন, 'যে আইনবলে কমব্যাট ফোর্সের জওয়ানদের ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে তা স্থগিত রাখা হোক এবং তাদের অন্য সেনাকর্মীদের মতোই সুযোগ-সুবিধে দেয়া হোক।'

আসামে ফের মারাত্মক বন্যা
চলতি বছরে তৃতীয় বার বন্যার কবলে পড়েছে আসাম রাজ্য। আসাম রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থাপক কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) জানিয়েছে, এর জেরে ৫ জেলায় ৭২,০০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

রোববার ঢেমাজি, লখিমপুর, শোনিতপুর, মোরিগাঁও ও নগাঁও জেলা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। বন্যা দুর্গতদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করা এবং ত্রাণ বণ্টনের কাজে আসামের নানান প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েোছে, গত কয়েক দিনের নিরন্তর বৃষ্টি এবং জরাসর নদীর পানির স্তর বাড়ার ফলে শোনিতপুর জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এনডিআরএফ-এর প্রথম ব্যাটালিয়ন ৭৫৩টি গ্রাম থেকে বন্যা পীড়িতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি বরপেটা, ধুবরি, কাছাড়, শোনিতপুর এবং কামরূপ জেলায় দুর্যোগ মোকাবিলায় নেমেছে ১৬ জন ডুবুরি, ৩২টি নৌকো এবং অন্যান্য উদ্ধার সামগ্রী সহ এনডিআরএফ বাহিনী।

অন্য দিকে রাজ্যের পানিসম্পদ মন্ত্রী কেশব মোহন্তকে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং ত্রাণ ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল। বর্তমানে ৫ জেলায় মোট ২১টি ত্রাণ শিবির তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ১০০ জন ইতোমধ্যে আশ্রয় নিয়েছেন। রোববার এএসডিএমএ সূত্রে জানা গিয়েছে, জোরহাট জেলায় ব্রহ্মপুত্র নদ, গোলাঘাট জেলায় তার শাখানদী ধানসিরি এবং শোনিতপুর জেলায় আর এক শাখানদী জিয়া ভরালি বিপদসীমার উপর দিয়ে বয়ে চলেছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫