ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

বিবিধ

ভারী বৃষ্টিতে দুর্ভোগে রাজধানীবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৯:৫৫


প্রিন্ট

রাজধানীতে আজ টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে মূল সড়ক থেকে অলিগলির সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে জলমগ্ন পথ দিয়ে চলতে গিয়ে অসুবিধায় পড়তে হয় নগরবাসীকে। বিশেষ করে সকালে বৃষ্টি হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী ও অফিসগামীরা বেশি সমস্যায় পড়েন। জলাবদ্ধতার কারণে কোনো কোনো সড়কে যানজট আবার কোনো কোনো সড়কে গাড়ি সংকট দেখা দেয়।

কয়েকদিন বিরতির পর রাজধানীতে আবারও শুরু হয়েছে বৃষ্টি।

গতকাল রোববার সকাল ও বিকেলে দুই দফায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে ঢাকায়।

আজ ভোর থেকে আবারও শুরু হয় বৃষ্টি।

সকাল থেকেই কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ।

ছয়টার পর হালকা বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। এরপর কখনো মুষলধারে আবার কখনো গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়তে থাকে। সাথে ছিল বজ্রপাতের কান ফাঁটানো শব্দ।

প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা বৃষ্টিতে নগরীর অলিগলি ও অনেক মূল সড়কে কাঁদাপানি জমে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় রাজধানীসহ সারাদেশে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এরপর আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাল থেকে ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসবে। তবে অন্যান্য জায়গায় আরো দুই-তিন দিন থাকবে।

আজ সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে সমস্যায় পড়েন অফিসগামী লোকজন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ভারী বর্ষণের কারণে রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় পানি জমে যায়। সেই পানিতে ভাসতে থাকে নোংরা-আবর্জনা। অনেক রাস্তায় জমে যায় কাদাপানি। সেই সাথে স্যুয়ারেজের পানি উপচে পড়তে থাকে। প্রধান সড়কগুলোতেও পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলতে থাকে ধীরগতিতে। জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ সারি পড়ে যায়। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীকে। পানির কারণে হেঁটে যাওয়ারও কোনো উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়েই গাড়িতে বসে থাকেন অনেকে। আবার পানি ভেঙে যানবাহনগুলোতে উঠতেও পারছিলেন না বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা।

বাসাবোর বাসিন্দা খবির হোসেন কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
তিনি বলেন, মতিঝিলে অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার পরই তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। কিন্তু বৃষ্টির যে গতি কাছে ছাতা থাকলেও রেহাই পাওয়া যায়নি। পুরো শরীর ভিজে একাকার হয়ে গেছে।

শুধু খবির হোসেনই নন, বাসের জন্য অপেক্ষমান অধিকাংশ যাত্রীর এমনই অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। কারো প্যান্ট, পায়জামা ভিজে গেছে। আবার কারো পুরো শরীর ভিজে গেছে। বৃষ্টির পাশাপাশি গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকায় এবং ড্রেনের ময়লা পানির মিশে একাকার হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ চরম মাত্রা ধারণ করে। নগরীর কোনো কোনো সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও অনেক সড়কে পানি জমেনি। এসব সড়কে দেখা দেয় গাড়ি সংকট। ফলে বৃষ্টিতে ঘর থেকে বের হয়ে গন্তব্যে যেতে লোকজনকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে সুযোগ বুঝে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন বলে অনেকে অভিযোগ করেন।

শ্যামলীতে যাওয়ার জন্য শাহবাগে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফ বুলবুল।

তিনি জানান, আকাশের অবস্থা খারাপ দেখে সকাল আটটার দিকে শ্যামলীতে যাওয়ার জন্য শাহবাগে এসেছি। এখন সাড়ে আটটা বাজে। কিন্তু কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। মাঝে মাঝে দু’একটি গাড়ি এলেও তাতে যাত্রীতে ঠাসা। সিএনজি অটোরিকশা থাকলেও সুযোগ বুঝে তারা অনেক ভাড়া চাচ্ছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫