ঢাকা, শুক্রবার,২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রাজশাহী

সিরাজগঞ্জ দক্ষিণাঞ্চলের তিন হাজার কোরবানির পশু ফেরত

রফিক মোল্লা চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৪:২২


প্রিন্ট

যমুনা চরাঞ্চল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের দক্ষিনাঞ্চলের প্রায় তিন হাজার বড় সাইজের কোরবানির পশু এ বছর ঈদে বিক্রি হয়নি। বিক্রি না হওয়া হাটফেরত এ গরু নিয়ে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।

প্রতিটি গরুর সর্বনিন্ম মূল্য ৮০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাট থেকে এসব গরু ফেরত আসায় যমুনা চরের চৌহালী, বেলকুচি ও এনায়েতপুর, শাহজাদপুর উপজেলার প্রায় সাড়ে ৯০০ কৃষক প্রায় ৭৫ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

বাজারে চাহিদা না থাকায় ফেরত এসব গরু কসাইরাও নিতে রাজি হচ্ছে না। তাই নিরুপায় হয়ে অনেক কৃষক তাদের এ গরু দু’তিনগুণ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফেরত এসব গরু ইতিমধ্যেই নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। পায়ে ঘাঁ, শরীর দুর্বল, খুধামন্দা রোগে আক্রান্ত হয়ে এসব গরু কাহিল হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে গাড়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরের মতো এ বছরও তিনি ঢাকায় ৪০০ কোরবানির গরু নিয়ে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১ লাখ টাকার নিচের দামের সব গরু বিক্রি হলেও দেড় লাখ টাকা থেকে ৬ লাখ টাকা দামের গরু বিক্রি হয়নি। নিরুপায় হয়ে ট্রাক ভাড়ার খরচ বাঁচাতে তার অবিক্রীত গরুগুলো বাড়িতে ফেরত না এনে মোটা অংকের লোকসান দিয়ে ঢাকার পরিচিত কসাইদের কাছে বাকিতে বিক্রি করে এসেছেন।
চৌহালী উপজেলার স্থল ইউনিয়নের গোসাইবাড়ি গ্রামের শুকুর বেপারী, নওহাটার আব্দুল কুদ্দুস, সোবহান ও মেহের মুন্সি জানান, তারা প্রত্যকেই কোরবানি উপলক্ষে একাধিক ষাড় গরু মোটাতাজা করেন। কিন্তু এবারের দফায় দফায় বন্যায় ও গো খাদ্যের দাম বৃদ্দির কারনে গরু প্রতি অনেক বেশি টাকা খচর হলেও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম দামে গরু বিক্রি করতে হয়েছে। এতে তাদের লোকশানের মুখে পরতে হয়েছে। আগামীতে তারা পশু মোটাতাজা করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে নপোরজনা ইউনিয়নের জোতপাড়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম জানান, তার ভাই আবদুল গফুর ৪টি গরু ২ লাখ টাকা, জহুরুল ইসলাম ৫টি গরু দেড় লাখ টাকা, বাবুল ও বকুল ৭টি গরুতে সাড়ে ৩ লাখ টাকা, সানোয়ার হোসেন ৬টি গরুতে আড়াই লাখ টাকা, আবদুর রহিম ১৪টি গরুতে সাড়ে ৫ লাখ টাকা লোকসান দিয়ে বিক্রি করে এসেছেন।

এছাড়া বিক্রি না হওয়ায় ফেচুয়ামারা গ্রামের খাজা মন্ডলের ১১টি গরুর মধ্যে ৯টি, আলমাছ আলীর ১৪টির মধ্যে ৪টি, জামিরতা গ্রামের শামছুল ইসলামের ৩টি, বাশুড়িয়া গ্রামের হযরত আলীর দুটি, ইল্টাডাব গ্রামের আবুলের একটি, বড় দুগালি গ্রামের রমজান শেখের দুটি, কায়েমপুরের সের আলীর ৩টিসহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় ৭০০ কৃষকের ২ হাজার কোরবানির ষাড় গরু ফেরত এসেছে।

এ বছর কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য শাহজাদপুরের কৃষকরা ৪২ হাজার ষাড় গরু প্রস্তুত করে। এর মধ্যে শাহজাদপুরের সাড়ে ১৩ হাজার গরুর চাহিদা মেটানো হয়। বাকি ২৮ হাজার ৫০০ গরুর মধ্যে বেপারি ও পাইকারদের কাছে বিক্রি হয় ১৬ হাজার গরু। বাকি ১২ হাজার ৫০০ গরু কৃষকরা নিজেরাই ট্রাক ও নৌকায় করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন কোরবানির বড় বড় পশুর হটে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়।

কিন্তু এ বছর এসব হাটে ছোট গরুর বেশ চাহিদা থাকলেও বড় ষাড় গরুর চাহিদা তেমন একটা ছিল না। ফলে বিক্রি না হওয়ায় এসব হাট থেকে প্রায় ২ হাজার গরু ফেরত আসে। কৃষকরা এ ফেরত আসা গরু নিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুস সামাদ বলেন, দেশে বন্যার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের প্রাথমিক হিসাবমতে, ফেরত গরুর সংখ্যা ১ হাজার ১৬টি। এসব গরুর স্বাস্থ্য রক্ষায় তারা কৃষকদের নানা পরামর্শ ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করেছেন।
চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান জানান, যমুনা চরের মানুষের সারা বছরের একটি বড় আয়ের উৎস হচ্ছে গরু মোটাতাজাকরন। কিন্তু এবারের দু দফা বন্যায় পশু খাদ্য সংকট ও নদী ভাঙনের ফলে বিপর্যস্ত অবস্থায় পশু গুলো মোটাতাজাকরন করে হাটে তুললেও হাটে দাম কম ও বেচা বিক্রি কম হওয়ায় অনেক গরু ফেরত এনে কৃষকরা মারাক্তক বিপাকে পড়েছে। তবে এদের জন্য বিশেষ কোন ত্রাণ সহায়তা আসলে বিতরণ করা হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫