ঢাকা, সোমবার,২০ নভেম্বর ২০১৭

রাজশাহী

বিগ ফাইটে মির্জা ফখরুল

গোলাম সারোয়ার সম্রাট ঠাকুরগাঁও

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৪:২৭


প্রিন্ট
মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক মাঠ বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। নির্বাচনে কোন প্রার্থী বাজিমাত করবে এ বিগ ফাইটে, তাই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর প্রায় দেড় বছর বাকি। সময় ছোট হয়ে আসছে প্রার্থী, দল, ভোটার এবং সমর্থকদের জন্য। তাই শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী আগাম প্রচার-প্রচারণা। গত ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানানো ফেস্টুন-ব্যানার শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন চৌরাস্তাসহ বড় রাস্তার আইল্যান্ডের মধ্য বরাবর। এসব ছাড়াও ঈদ-পূজার কার্ডের মাধ্যমেও ভোটারদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। দেশের বড় দুই দলের মধ্য থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি থেকে একক প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আওয়ামী লীগ থেকে নাম শোনা যাচ্ছে বর্তমান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন এমপি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের আরো বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

এরা সবাই সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। যাচাই-বাছাইয়ের পর নেত্রী অনুমোদন দিলে তারা প্রকাশ্যে মাঠে নামবেন। এদের তালিকায় রয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা সাধারণ সম্পাদক সাদেক কুরাইশি, যুব মহিলা লীগ সভাপতি তাহমিনা আখতার মোল্লা ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অরুণাংশু দত্ত টিটো। 


উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের বেশির ভাগ মানুষের পেশা কৃষি। ধান আর গম উৎপাদনে শীর্ষ এ জেলা। তবু এলাকাবাসীর প্রশ্ন দীর্ঘ ৪৭ বছরেও রাজধানীর সাথে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বেশ কয়েকবার দু’টি প্রধান দলের মন্ত্রী থাকলেও এ জেলার মানুষ শিল্প-কারখানার উন্নয়নের ছোঁয়া থেকেও অনেক দূরে। বর্তমান সরকার দুই টার্মে ক্ষমতায় থাকলেও প্রায় দেড় যুগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পা পড়েনি ঠাকুরগাঁও জেলায়। আর সে কারণেই আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের অনেকে। তবুও সামনের নির্বাচনকে টার্গেট করে জেলায় তাদের নিজ নিজ আসনের উন্নয়ন ফিরিস্তির প্রচার চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি আর জাতীয় পার্টি।

মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে গড়া জেলা বিএনপিতে তেমন কোনো কোন্দল নেই বলে কমিটির সুনাম থাকলেও কয়েক মাস আগে ছাত্রদলের সম্মেলন নিয়ে কোন্দল স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়। এ নিয়ে বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও ছাত্রদলের বেশ কিছু নেতাকর্মী ছাত্রলীগে যোগ দেয়। 


অন্য দিকে যুবলীগসহ এবং অন্যন্য অঙ্গ সংগঠনগুলো তাদের রাজনীতির আড়ালে অপকর্ম ঢাকতে বার বার নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর পরিণামে কয়েক মাস আগে সংঘর্ষে একজন স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী মান্নান নির্মমভাবে খুন হন। 


এ জেলায় তিনটি আসন। বিগত নির্বাচনগুলোতে অন্য আসন দুইটিতে অর্থাৎ ঠাকুরগাঁও-২ এবং ঠাকুরগাঁও-৩ এ আওয়ামী লীগ বা ১৪ দলের সমর্থিত প্রার্থী ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করেছে।
বিএনপি এবং জামায়াত অংশ নিলেও নিজের ব্যর্থতার কারণে হোক বা যেকোনো কারণে সুবিধা করতে পারেনি আসন জয়ের ক্ষেত্রে। 


ঠাকুরগাঁও ১ আসনে দলীয় কোন্দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজয়ের মালা বরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দলীয় কোন্দলকে এক নম্বর সমস্যা চিহ্নিত করে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা মনে করেন, দলের উচ্চ স্তরের নেতার গ্রুপিং বা পরস্পর বিরোধী অবস্থানের কারণে গত উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাদের নিশ্চিত আসন হারিয়েছেন। এসব কথা স্বীকার করেই এবার হাইকমান্ডের আদেশে দলীয় সমর্থনে সবাই এক কাতারে কাজ করছেন বলে জানান জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

 
ইতোমধ্যে অনেকটা প্রতীক নিশ্চিত জেনে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন হেভিওয়েট দুই প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রমেশ চন্দ্র সেন। সম্প্রতি বিএনপির নেতাকর্মীরা দল গুছানোর জন্য সদস্য সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার স্বচ্ছ নির্বাচন হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি জয়লাভ করবে বলে মনে করছেন জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। অন্য দিকে আওয়ামী লীগের কথিত পুরনো দুর্গ এ ১ নম্বর আসনকে হারাতে নারাজ তারা। তাই বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে বর্তমান সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন এবং তার অনুসারীদের। 


জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের তাই তার কোনো বিকল্প নেই। নেতাকর্মীরা শত ভাগ আশাবাদী সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি জয়লাভ করবে। তাই তারা সবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। কিছু দিন আগে ঈদুল আজহার সময় ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থান করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। দুই ঈদে এবং বন্যার সময় তিনি ব্যাপক জনসংযোগ করেছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান জানান, দলে নিজেদের ভেতর কোন্দল ছিল না এখনো নেই। আমরা সবাই একজনের জন্য কাজ করছি। তিনি হলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অন্য দিকে আওয়ামী লীগের হিন্দু ভোট এবং আওয়ামী রিজার্ভ ভোটকে স্মরণে রেখে ঠাকুরগাঁও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ও তৃণমূলে জনপ্রিয়তা আদায়ের লক্ষ্যে মাঠে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন। 


বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, আমরা চাই সুষ্ঠু একটি নির্বাচন। আর সুষ্ঠু নির্বাচন হলে শুধু ঠাকুরগাঁওয়ে নয়, বিএনপি থেকেই সরকার গঠন হবে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেন জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যাপক উন্নয়নে আমি ভূমিকা রেখেছি। সুতরাং আগামী জাতীয় নির্বাচনী লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আমার কোনো বিকল্প নেই।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রাজি স্বপন চৌধুরী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের পাশে থেকে যোগাযোগসহ প্রচার চালাচ্ছেন। জাসদ (জেএসডি) থেকে গত তিন বারের মতো নির্বাচন করছেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক মনসুর আলী। তাকে গণমানুষের দাবি আদায়ে মাঠে দেখা গেছে।


বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন চৌধুরী। অন্য দিকে জোটগত নির্বাচনের সম্ভাবনা বেশি থাকায় এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশ মতো জামায়াতের কোনো নেতা ঠাকুরগাঁও-১ আসনে তৎপরতায় নামেননি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫