ঢাকা, শুক্রবার,২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিবিধ

জোড়া লাগা শিশু তৌফা ও তহুরা বাড়ি যাচ্ছে সুস্থ হয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১৯:৫৩


প্রিন্ট

গাইবান্ধার জোড়া লাগানো শিশু তৌফা ও তহুরা বাড়ি যাচ্ছে। গত ১ আগস্ট শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসকেরা পৃথক করেন নয় ঘণ্টায়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আজ রোববার বিকালে তৌফা ও তহুরার পিতা-মাতার কাছে শিশু দুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

কোমরের কাছে পেছনের দিক থেকে জোড়া লাগানো অবস্থায় শিশু দুটির জন্ম হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে ‘পাইগোপেগাস’ বলা হয়। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের রাজু মিয়া ও সহিদা বেগম দম্পতির সন্তান এরা। বাংলাদেশে পাইগোপেগাস শিশু পৃথক করার ঘটনা এটাই প্রথম।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিশ্বে এ ধরনের ১৪টি পাইগোপেগাস শিশুকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পৃথক করা হয়। এ ধরনের শিশুদের বেশির ভাগই অস্ত্রোপচার পরবর্তি নানা জটিলতার কারণে মারা যায়।

তৌফা ও তহুরাকে সুস্থ অবস্থায় পিতা-মাতার কাছে হস্তান্তর করতে পারায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আবেগে আপ্লুত ও আনন্দিত। তিনি দেশবাসীর পক্ষ থেকে শিশু দুটিকে পৃথককারী চিকিৎসক দলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসকেরা অসাধ্য সাধন করেছেন। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে গেল বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা অত্যন্ত যোগ্য ও দক্ষ।’

শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাহনুর ইসলামের নেতৃত্বে ৩০ জনের চিকিৎসক দল শিশু দুটিকে পৃথক করা হয়।
অধ্যাপক সাহনুর ইসলাম বলেন, সবার সহযোগিতায় এবং চিকিৎসক টিমের সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা তৌফা ও তহুরাকে পৃথক করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, সবার চেষ্টার ফলে তৌফা ও তহুরা বর্তমানে সুস্থ আছে। এরা স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছে। ইতোমধ্যে তোফা বসতে শুরু করেছে।

অধ্যাপক সাহনুর ইসলাম বলেন, শিশু দুটির আরো দুটি অস্ত্রোপচার করতে হবে। সেটাও হবে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পাইগোপেগাস শিশুদের ৬০ শতাংশ শিশু অস্ত্রোপচারের পর বিভিন্ন জটিলতায় মারা যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে। তবে তোফা ও তহুরার মধ্যে সে ধরনের কোনো জটিলতা তৈরি হয়নি। এরা এখন পর্যন্ত বেশ সুস্থ। আশা করি এরা ভবিষ্যতে সুস্থভাবে জীবন-যাপন করতে পারবে।

তৌফা ও তহুরার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছেন বাড়ি যাওয়ার জন্য।
তৌফা ও তহুরাকে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো: সিরাজুল হক খান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসিরুদ্দিন।

গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর শিশু দুটির জন্ম। কোমরের কাছে জোড়া লাগানো শিশু দুটির পায়ু পথ একটিই ছিল। গত বছরের ৮ অক্টোবর প্রথমে পায়ু পথ পৃথক করা হয়।

উল্লেখ্য, তৌফা ও তহুরা পিতা রাজু মিয়া একজন কৃষক। শিশু দুটির ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজু মিয়ার জন্য কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়েছেন।

এছাড়া ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগ রাজু মিয়ার নামে ডাচ বাংলা ব্যাংকে একটি একাউন্ট খুলে দিয়েছেন। একাউন্ট নাম্বার ১৩৯১৫১৭৩৭৪০। উৎসাহী দানশীল ব্যক্তিরা ইচ্ছা করলে শিশু দুটির জন্য দান করতে পারবেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫