ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

বিবিধ

জাপানে রওনা হয়েছে এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান বহর

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১২:৩৬ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১৩:৪৭


প্রিন্ট
মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান বহর

মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান বহর

মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় ব্যবহৃত উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ওয়াস্প আমেরিকা থেকে জাপানের পথে রওনা হয়েছে। মার্কিন সপ্তম নৌবহরে যোগ দেয়ার জন্য আমেরিকার ভার্জিনিয়া বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে জাপানি বন্দর সাসেবোতে ভিড়বে এটি। এক স্কোয়াড্রন মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫বি বহন করছে এটি।

মার্কিন নিমিজ্জ শ্রেণির রণতরির মতো এফ-৩৫বি নামার প্রশস্ত স্থান নেই ইউএসএস ওয়াস্পে। তা সত্ত্বেও এতে করে সপ্তম নৌবহরের জন্য আরো এক স্কোয়াড্রন এফ-৩৫বি যু্দ্ধবিমান পাঠানো হলো।

গত মার্চে জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের মার্কিন ঘাঁটিতে এফ-৩৫বি বিমানের প্রথম স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়। অত্যাধুনিক এ যুদ্ধবিমান হেলিকপ্টারের মতো খাড়াখাড়ি উড়তে সক্ষম।

উত্তর কোরিয়ার কাছাকাছি এবারে দুই স্কোয়াড্রন এফ-৩৫বি বিমান মোতায়েনের ব্যবস্থা নেয়া হলো। পিয়ংইয়ংয়ের অব্যাহত পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যখন ওয়াশিংটনের সাথে উত্তেজনার পারদ ক্রমেই চড়ছে তখন এমন উসকানিমূলক তৎপরতা নিচ্ছে আমেরিকা।

উ.কেরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার শেষ পরিণতি কী?
উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। দেশ দুটি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না তাই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সর্বত্র। হুমকি পাল্টা-হুমকির এই পরিস্থিতির শেষ কোথায় তা কেউ জানে না। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এর সম্ভাব্য কিছু পরিণতি।

প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ : সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচআর ম্যাকমাস্টার প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধের নতুন একটি তত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন। এর ফলে উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের চিন্তা বাদ দিয়ে উল্টো অভ্যুত্থান কিংবা বিদ্রোহ করে বসতে পারে। এই নীতির নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ারও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। দেশজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছে সরকার। সামরিক তৎপরতামুক্ত এলাকার মাত্র ৪০ মাইল দূরেও রয়েছে এর অবস্থান। আগাম কোনো হামলা কিম জং উনকে নিরস্ত্রীকরণে ভালো ফল দেবে না বরং প্রতিশোধ নিতে তিনি বেসামরিক লোকদের ওপর হামলা চালাতে পারেন।

সীমিত শক্তি প্রয়োগ : উত্তর কোরিয়াকে শাস্তিমূলক বার্তা পাঠানোর জন্য একটি জোরালো অবরোধ আরোপ করা যেতে পারে, যার মধ্যে থাকতে পারে শক্তি প্রয়োগও। তবে অবশ্যই সেটি হতে হবে প্রতিরক্ষামূলক আগাম হামলার চেয়ে কম মাত্রার। এর মধ্যে থাকতে পারে পরবর্তী আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক পরীক্ষা ক্ষেত্রে বোমা হামলা। তবে এ ক্ষেত্রে বড় একটি ঝুঁকি হচ্ছে উত্তর কোরিয়া হয়তো সীমিত শক্তি প্রয়োগ ও সর্বাত্মক যুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তা নিবৃত করা কঠিন এবং তারা সব বিপজ্জনক অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে।

উত্তর কোরিয়াকে নেতৃত্বশূন্য করা : উত্তর কোরিয়াকে নেতৃত্বশূন্য করা যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সমর পরিকল্পনার একটি অংশ। শোনা যাচ্ছে, শুধু এ কাজের জন্য দক্ষিণের একটি বিশেষ বাহিনীও রয়েছে। তবে এটি একটি ভুল পরিকল্পনা হতে পারে। বিশ্বে এই মুহূর্তে সবচেয়ে জোরালো নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকা লোকদের অন্যতম কিম জং উন। আবার তাকে হত্যা করা হলে তার চেয়েও উগ্র কেউ ক্ষমতায় বসবে না এমন নিশ্চয়তা নেই। সেটি হলে যুদ্ধ আরো ত্বরান্বিত হবে।

অর্থনৈতিক চাপ জোরদার : ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন দেশে পরিণত হয়েছে উত্তর কোরিয়া। চলতি সপ্তাহেও দেশটির ওপর নতুন কিছু অবরোধ আরোপ করেছে জাতিসঙ্ঘ। এগুলো আরো জোরদার করতে প্রয়োজন চীনের অংশগ্রহণ; কিন্তু তাতে দেশটির সরকার পতন হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা বেইজিংয়ের। বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করার ‘অপরাধে’ চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অবরোধ আরোপের আহ্বান জানাচ্ছেন মার্কিন ভাষ্যকাররা; কিন্তু তাতে পাল্টা-ব্যবস্থা নিতে পারে চীন। সেটি হলে সঙ্কটে পড়বে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। অধিকন্তু এটি আরো স্পষ্ট যে, এতে চোরাচালানের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা কিম সরকারের মনোভাব পাল্টে যেতে পারে।

আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ফিরে আসা : বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া ছয় জাতি আলোচনায় ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই উত্তর কোরিয়ার। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, পিয়ংইয়ং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করলে এবং আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে রাজি হলেও তারা কেবল আলোচনায় বসবে। উত্তর কোরিয়া রাজি নয় এই শর্তে। উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেয়া হলেও তা বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে কর্মসূচিতে প্রভাব ফেলবে। আরো অনেক দেশ তখন উত্তর কোরিয়ার পথ অবলম্বন করতে পারে।

উভয়পক্ষের সংযম : চীন ও রাশিয়া একটি প্রস্তাব দিয়েছে যাতে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা সামরিক মহড়া বন্ধ রাখলে উত্তর কোরিয়াও বন্ধ রাখবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এতে অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার আত্মরক্ষামূলক সামরিক কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে কতটা আন্তরিক তা স্পষ্ট নয়।

নিঃশর্ত আলোচনা : উত্তর কোরিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষজ্ঞ সেগফ্রেইড দুই পক্ষকে দ্রুত নিঃশর্ত আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শন করে আসা এই বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন তা না হলে ছোট কোনো উসকানিতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

উ.কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সঙ্কট কতটা উদ্বেগের?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার হুমকি এমনভাবে মোকাবেলা করা হবে যা বিশ্ব এর আগে কখনো দেখেনি।

আর উত্তর কোরিয়ার হুমকি, তারা প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন দ্বীপ গুয়াম দ্বীপে হামলা চালাবে, যেখানে প্রায় এক লাখ ৬৩ হাজার মানুষ বসবাস করে।

এ সবকিছুই ঘটছে যখন উত্তর কোরিয়া এমন একপ্রকার পারমাণবিক বোমা তৈরিতে সফল হয়েছে, যে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রে সংযোজন করা যাবে।

ফলে পুরো বিষয়টি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র আর তার মিত্রদের। একটি পুরাদস্তুর যুদ্ধ বেধে যা্ওয়া সম্ভাবনা কতটা? কতটা বিপদ অপেক্ষা করছে সামনে?

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ নিয়ে এখনি ততটা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। তারা কিছু যুক্তিও তুলে ধরেছেন-

১. কোনো পক্ষই যুদ্ধ চাইছে না। কারণ কোরিয়া উপদ্বীপে একটি যুদ্ধ কারো জন্যই সুবিধা আনবে না।

উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতাসীনদের প্রধান লক্ষই হচ্ছে ক্ষমতায় টিকে থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি যুদ্ধ বেধে গেলে ক্ষমতার আসন নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।

বিবিসির যুদ্ধ বিষয়ক সংবাদদাতা জোনাথন মার্কুস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ হলে তা আরো বড় আকারে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে তা উত্তর কোরিয়ার জন্য হবে আত্মঘাতী। আবার ঠিক এই কারণে তড়িঘড়ি পারমানবিক অস্ত্রের মালিক হতে চাইছে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জঙ-উন। কারণ আর যাই হোক, তিনি লিবিয়ার গাদ্দাফি বা ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের ভাগ্য বরণ করতে চান না।

আবার যুক্তরাষ্ট্রও সহজে উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালাবে না। কারণ তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া বা জাপানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যুদ্ধে অনেক প্রাণহানি ঘটবে, বিশেষ করে সাধারণ আমেরিকান আর সৈনিকদের। সর্বোপরি, ওয়াশিংটন এমন কোন ঝুঁকিতে যেতে চায়না, যার ফলে আমেরিকান ভূখণ্ডে কোন পারমানবিক হামলা হতে পারে।

২. শুধু কি কথার লড়াই?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে যেভাবে হুমকি দিয়েছেন, সেটা একজন প্রেসিডেন্টের জন্য ব্যতিক্রম। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্র পুরোদমে যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে।

মার্কিন একজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, উত্তেজক কথাবার্তা বাড়ছে মানে এই নয় যে, আমাদের অবস্থানও বদলাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার, দুই দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর, জাতিসংঘের মাধ্যমে অবরোধ আরোপের সেই পুরনো পথেই পথেই হেঁটেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এখনো কূটনীতিকরা আশা করছেন, রাশিয়া আর চীনের সহায়তায় উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনা যাবে।

যদিও কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, এরকম উত্তেজক পরিস্থিতিতে কোন ভুল বোঝাবুঝি থেকেও একটি যুদ্ধ বেধে যেতে পারে।

৩. আগেও এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিজে ক্রাউলে যেমনটা বলেছেন, ১৯৯৪ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্র একবার সশস্ত্র যুদ্ধের কাছাকাছি চলে এসেছিল। তখন পারমানবিক কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষককে প্রবেশে বাধা দিয়েছিল দেশটি। তবে কূটনীতি দিয়েই তা সমাধান করা হয়েছে।

এরপর অনেক বার যুক্তরাষ্ট্র, জাপান আর দক্ষিণ কোরিয়ায় হামলার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। কিন্তু সেগুলো কখনো বাস্তব হয়নি।

আর এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে পাল্টা হামলার হুমকি দিচ্ছেন, তাও একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের আচরণের পক্ষে যুক্তিসঙ্গত নয়। এটাই যা একটু আশংকার যে, তিনি হঠাৎ করে কোন কাণ্ড ঘটিয়ে বসবেন কিনা। তবে তার এ ধরণের কোন কাজে নিশ্চয়ই তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বাধা দেবেন।

আর তাই ট্রাম্পের এরকম ব্যতিক্রমী আচরণের কারণে করো উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই বলেই মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

আর তাই হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়াও আগাম একটি যুদ্ধের আশঙ্কায় খুব একটা উদ্বিগ্ন নয়।

একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলছেন, এখনো পরিস্থিতি সঙ্কট সময়ে পড়েনি। আশা করা হচ্ছে, শান্তিপূর্ণভাবেই বিষয়টির সমাধান হবে। এটাই হচ্ছে আশাবাদের বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরো 'উপহার' প্রস্তুত করছে উ.কোরিয়া
উত্তর কোরিয়া ‘যুদ্ধের জন্য মিনতি’ করছে বলে আমেরিকা যে মন্তব্য করেছে তার কঠোর জবাব দিয়েছে পিয়ংইয়ং। দেশটি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, এ ধরনের মন্তব্যের জন্য আমেরিকাকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।

সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, উত্তর কোরিয়া ‘যুদ্ধের জন্য কাকুতি-মিনতি’ করছে।

এর জবাবে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বলেছে, “হ্যালির মুখরতার জন্য মার্কিন প্রশাসনকে চড়া মূল্য দিতে হবে।” বার্তা সংস্থাটি নিকি হ্যালির মন্তব্যকে ‘মৃগীরোগের আক্রমণ-প্রসূত’ বক্তব্য বলেও উল্লেখ করেছে।

পিয়ংইয়ং হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালানোর পর গত সোমবার জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ এক জরুরি বৈঠকে বসে। ওই বৈঠকে হ্যালি বলেন, উত্তর কোরিয়ার কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয় দেশটি প্রচণ্ডভাবে যুদ্ধ কামনা করছে। তিনি পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে কঠোরতম কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

এর পরদিন মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া আমেরিকাকে সতর্ক করে দিয়ে ঘোষণা করে, পিয়ংইয়ং ওয়াশিংটনের জন্য আরো কিছু ‘উপহার সামগ্রী’ প্রস্তুত করছে।

গত রোববার উত্তর কোরিয়া প্রচণ্ড ধ্বংস ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালায়। এই বোমা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে স্থাপন করার উপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।

উ.কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার নির্দেশ ট্রাম্পের
গুয়াম বা আমেরিকার মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে যদি উত্তর কোরিয়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে তাহলে তাকে ভূপাতিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তা দলের সাথে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট নিউজম্যাক্সকে এ কথা জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গুয়াম লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হবে বলে গত মাসে উত্তর কোরিয়ার হুমকির পর মার্কিন সেনাবাহিনীকে এ নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

এছাড়া, মার্কিন নিরাপত্তা সূত্র থেকে এ কথা জানানো হয়েছে যে, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়াকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের জন্যও একই নির্দেশ দেয়ার কথা ভাবছেন ট্রাম্প।

 

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫