ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

অবকাশ

ইয়ুথ সাংস্কৃতিক সংঘ ঈদ উপলক্ষে নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে

তারুণ্যের ঈদ আনন্দ

মুহাম্মদ কামাল হোসেন

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী সুবৃহৎ জাগিরা পুকুর। কিন্তু পুকুর তো নয় যেন বিশাল দীঘি। মাঝখানে একটা হাঁস ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পুকুরের চারপাশে হাজারো উৎসুক জনতার ভিড়। নারী-পুরুষ কিংবা শিশুদের অধীর আগ্রহ। একদল তরুণ হাঁস ধরার প্রতিযোগিতায় প্রাণান্তকর চেষ্টা ও কসরত করে যাচ্ছে। হাঁসটা যে প্রথম বগলদাবা করতে পারবে, হাঁসের মালিক সেই হয়ে যাবে। আরেক দল তরুণ শরীরের সব শক্তি দিয়ে জোরসে রশি টানাটানি করছে, কেউ সাঁতার প্রতিযোগিতা দিচ্ছে কিংবা কেউবা চোখ বাঁধা অবস্থায় মাটির পাতিল ভাঙছে। আবার কেউ কেউ তৈলাক্ত কলাগাছ বেয়ে উপরে ওঠার ব্যর্থ চেষ্টা করছে। একবার ভেবে দেখুন তো, এসব টুকরো টুকরো দৃশ্যপট কেমন লাগছে? শুধু তাই নয়, কেউ কেউ মোরগযুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছে, একদল বেলুন ফুটাচ্ছে, শিশুরা বিস্কুট খেলা, অঙ্ক খেলা, বল নিক্ষেপ, সাধারণজ্ঞান পরীক্ষা অথবা সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। ভাবছেন আজকাল এসব কল্পনাতেই সুন্দর! প্রকৃতপক্ষে পুরো বিষয়গুলো কল্পনায় যতটা না সুন্দর, বাস্তবে আরো অনেক সুন্দর, চমৎকার, চিত্তাকর্ষক ও মুহুর্মুহু উত্তেজনায় ঠাসা। আর এমনি এক ব্যতিক্রমী ঈদ আনন্দ উদযাপন কয়েক বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ‘ইয়ুথ সাংস্কৃতিক সংঘ’র উদ্যোগে। একদল তরুণের সমন্বয়ে গড়া সংগঠনটির সেøাগানই হচ্ছে, শিক্ষা সংস্কৃতি ও ক্রীড়া। তরুণদের মধ্যে এগুলোর বীজ বপন করার মধ্য দিয়ে একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণ করা যাদের স্বাপ্নিক প্রয়াস। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ (বর্তমান লালমাই) উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী ছোট শরীফপুর এলাকার কিছু শিক্ষিত তরুণের উদ্যোগে গড়ে ওঠে ‘ইয়ুথ সাংস্কৃতিক সংঘ’। ২০১৪ সালে গড়ে ওঠা সংগঠনটি হাঁটিহাঁটি পা পা করে সফলতার চার বছর পার করছে। এ বিষয়ে ইয়ুথ সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি মুন্সি সবুজ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের অনেক কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তরুণদের মাঝে আমাদের গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যনির্ভর মজার মজার খেলাগুলোর সাথে পুনরায় পরিচয় করে দেয়াই আমাদের সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য। কারণ এগুলো আমাদের শেকড়। এগুলোকে ভুলে যাওয়া কখনো কাম্য হতে পারে না। আমরা আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে হাজারো মানুষের উপস্থিতিস্বরূপ প্রমাণ করতে পেরেছি, গ্রামীণ খেলাধুলাগুলো আজও কতটা সমানভাবে জনপ্রিয়। পাশাপাশি তিনি বলেন, ছোট শিশুদের বাংলা বর্ণমালা পরিচয় করে দেয়া কিংবা মাইক হাতে নিয়ে ছড়া-কবিতা ও গান গাওয়ার অভ্যেস তৈরি করাও আমাদের উদ্দেশ্য। শুধু তাই নয়, যারা ভালো করছে তাদেরকে বিভিন্ন চমৎকার পুরস্কারে পুরস্কৃতও করা হচ্ছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পর্যাপ্ত খোলা মাঠ, অনুকূল পরিবেশ ও সবার আন্তরিক সহযোগিতা পেলে আগামী দিনে আরো বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি চতুর্দিকে কর্মসূচি ছড়িয়ে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছে, কিভাবে এটা আরো ছড়িয়ে দেয়া যায়। মানুষকে নির্মল ও সতেজ আনন্দ দেয়াই আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ও স্বার্থকতা। আশা করি, এভাবেই আমরা ভবিষ্যতে নানামুখী কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যেতে পারব।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫