ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

সিনেমা

অহংকার : গল্প ভালো নির্মাণ দুর্বল

আলমগীর কবির

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৬:০৯


প্রিন্ট
অহংকার : গল্প ভালো নির্মাণ দুর্বল

অহংকার : গল্প ভালো নির্মাণ দুর্বল

ঈদ মানে শাকিব খানের ছবি, সুপার হিট ছবি। গত এক দশকে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের হিসাব-নিকাশে এমনটা বলা যায় নির্দ্বিধায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদেও মুক্তিপ্রাপ্ত তিন ছবির দুটিই ছিল শাকিব খানের। এরমধ্যে অন্যতম শাহাদৎ হোসেন লিটন পরিচালিত অহংকার। সারা দেশের ১১৯টি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি দেওয়া হয়েছে। নির্মাতা সূত্র জানিয়েছে, বিনিয়োগ বিবেচনায় অন্য দুটি ছবির তুলনায় অহংকার ছবির ব্যবসা অনেক ভালো।

ব্যবসা ভালো হলেও ছবির নির্মাণ দুর্বলতা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার মতো। শাকিব ভক্ত হয়ে যারা ছবিটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে গেছেন তাদের কাছ থেকেই এই দুর্বলতার কথা প্রথম শোনা যায়। প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার পর বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়েছে। অহংকারী মা-মেয়ের অত্যাচার ও তাদের পরিণতি নিয়ে ছবির গল্প। কিন্ত নির্মাণে বিষয়টি ফুটিয়ে তুলার ক্ষেত্রে বারবারই দুর্বলতার ছাপ স্পষ্ট হয়েছে। ছবির মাঝামাঝি সময়ের একটি হাস্যকর ঘটনা হলো, বুবুলির পালিত মা আম্মাজান (চিত্রনায়িকা নতুন) যখন জানতে পারেন, স্বামীর লিখে দেয়া সম্পত্তির কোনো অংশই বুবলি পাবে না তখন সে বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দলবল নিয়ে বাড়িতে চলে যায়। যাওয়ার আগে বুবলি যেন আর কোনদিন তার বাড়িতে প্রবেশ করতে না পারে সে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যায়। শুরু হয় অহংকারী বুবলির দুঃসময়।

দুরাবস্থার শুরুতেই নামে বৃষ্টি, তারপর পাড়ার মাস্তানদের ধাওয়া খেয়ে আগে নির্যাতন করা একজনের বাড়িতে আশ্রয় প্রার্থনা, দোকান থেকে রুটি চেয়ে খাওয়ার সময় আবার তা কেড়ে নেওয়া। এই অবস্থায় ক্ষুধার জ্বালায় ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া ভাত খেতে এগিয়ে যান বুবলি। কিন্ত হঠাৎ এক কুকুর এসে তা খেয়ে চলে যায়। ঠিক এই সময়েই খাবার নিয়ে হাজির হন শাকিব। বুবলিকে শোনান নীতিবাক্য।

মজার ব্যাপার হলো- সু সময় থেকে দুঃসময় পার করার পুরো সময়েই ছিল বুবলির পড়নে একটি মাত্র শাড়ি ছিল, যা তুমুল বৃষ্টিও এতটুকু ভেজাতে পারেনি। ডাস্টবিনের ময়লার মধ্যেও তার মেক আপ নষ্ট হয়নি। ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এরকম আরো অনেক ত্রুটি রয়েছে।

শিরোনামে যে লিখেছি গল্প ভালো তারমধ্যেও রয়েছে নকলের অভিযোগ। শাকিব খানের চরিত্রে খুঁজে পাওয়া গেছে দক্ষিণ ভারতের অভিনেতা উপেন্দ্রকে। আর বুবলীর চরিত্রে মিল পাওয়া গেছে শিল্পা শেঠিকে। ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া দক্ষিণ ভারতের কান্নাড়া ছবি অটো শঙ্কর-এর কাট-কপি-পেস্ট হলো অহংকার। মূল ছবিটির পরবর্তীতে রিমেকও হয়েছিল তামিল (আনাভাকরি), হিন্দি (শিল্পা-দ্য বিগ ডন) এবং মালয়ালাম (সারাপ্পা সুন্দারী) ভাষায়ও। তবে অহংকার অফিসিয়াল রিমেক নয়, পুকুর চুরি। এ ছবি নিয়ে কিভাবে নির্মাতারা অহংকার করেছেন, বোধগম্য নয়।

অবশ্য নকল ছবি যদি সুনির্মিত হয়, অভিযোগ তোলার প্রয়োজন পড়ে না। নকল হলেও মেহনতি মানুষেরা, চলচ্চিত্রের নিয়মিত দর্শকরা, শাকিব খানের ভক্তরা এ ছবি দেখে বিনোদনই পাবেন। কারণ এ ছবিতে একটি গল্প আছে। ভারতীয় ছবির বাংলা করতে গিয়ে অবশ্য সংলাপ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খেই হারিয়েছে, তবে এ ছবির প্রাণ হলো শিল্পীদের অভিনয়। শাকিব খানের চরিত্রটি যদিও অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকেছে, যেমনটি অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে চড়া মেকআপে প্রতিদিন তমা মির্জার ফলের দোকানে বসে ফল বিক্রি করার বিষয়টি। তবে আমি বুঝে নিয়েছি, পরিচালকের হাত-পা বাঁধা। ভারতের মূল ছবিতেও যে পার্শ্ব-নায়িকা এভাবেই ফলের দোকানে বসেছিলেন!

তমা মির্জার এন্ট্রি গান ‘তুই যে আমার সুপার হিরো’ ভালো ছিল। বিশেষ করে তমার শিস আর দর্শকের শিস প্রেক্ষাগৃহে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। তমা মির্জার মেক-আপ অনেক ক্ষেত্রে খুব চোখে লেগেছে, তবে তিনি তার চরিত্রে যথেষ্ট সুঅভিনয় করার চেষ্টা করেছেন। যদিও তার চরিত্রটি দুর্বল হওয়ায় সব চেষ্টা বিফলে গিয়েছে। ছবি দেখা শেষ করে মনে হয়েছে, এ ছবিতে তমার চরিত্রটি না থাকলেও কাহিনিতে সমস্যা হতো না।

শাকিব খান অহংকার ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার চরিত্রে ছিলেন। ‘সুপারস্টার’ সুলভ বাহুল্যতা ছিলনা তার মধ্যে। এমনকি কিছু দৃশ্যে নন গ্ল্যামারাসও থেকেছেন। শুধু একটাই অভিযোগ-‘তুই যে আমার এই অন্তরে’ গানে দক্ষিণ ভারতের নায়কের মতো তিনি কানে সেইফটি পিন না পড়লেও পারতেন। ২০১৭ সালের স্টাইল নয় এটি। বেশ দৃষ্টিকটু লেগেছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫