ঢাকা, সোমবার,২০ নভেম্বর ২০১৭

উপমহাদেশ

ভূতুড়ে অ্যাকাউন্ট! জমা পড়েছে কোটি কোটি টাকা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৩:২২ | আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৩:২৮


প্রিন্ট
ভূতুড়ে অ্যাকাউন্ট

ভূতুড়ে অ্যাকাউন্ট

অ্যাকাউন্টটি বন্ধ অনেক দিন ধরেই। অথচ সেখানে জমা পড়তে শুরু করেছে কোটি কোটি টাকা। আর এই দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে অ্যাকাউন্ট মালিক পশ্চিমবঙ্গের মহিম হালদারের।

কয়েক দফায় মহিমের ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০ কোটি রুপি জমা হয়েছে! অথচ সেই টাকা খরচ করা তো দূরের কথা‌, আতঙ্কেই শিরদাঁড়া বেয়ে হিমেল স্রোত নামছে তার। পরিস্থিতি এমনই যে দিনরাত থানা ও ব্যাঙ্কের চক্কর কাটছেন তিনি।

ব্যাপারটা কী?

পুলিশ সূত্রের খবর, পেশায় ইন্টেরিয়র ডেকরেটর মহিম একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। কিন্তু পরিচয়পত্রের ত্রুটি থাকায় অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় ব্যাঙ্ক। দিন কয়েক আগে মহিম টের পান, দফায় দফায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা জমা পড়েছে ‘বন্ধ হয়ে যাওয়া’ ওই অ্যাকাউন্টেই।

কে রেখেছে সেই টাকা? তার কোনো হদিস নেই। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকেও সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ। অগত্যা হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দাদের সন্দেহ, টাকা পাচারের জন্য কোনো অপরাধী চক্র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত ঘটনায় গ্রেফতারের খবর নেই।

মহিম জানান, সম্প্রতি তিনি অ্যাকাউন্ট খুলতে চেয়ে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে আবেদন করেন। ২৬ আগস্ট সখেরবাজার শাখা থেকে এক ব্যাঙ্ককর্মী তার বাড়িতে এসে নথিপত্র, ছবি, সই নিয়ে যান। আবেদনকারী হিসেবে নতুন অ্যাকাউন্টে জমা করার জন্য তার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ৩৫ হাজার টাকার চেকও জমা দেন মহিম। ২৯ আগস্ট নতুন অ্যাকাউন্টে সেই টাকা জমাও পড়ে। তিনি একটি এটিএম কার্ড ও ‘পিন’ পান।

তিনি জানান, কয়েক দিন পরে ওই ব্যাঙ্ক থেকেই ফোন করে জানানো হয়, নথিপত্রে কিছু ত্রুটি রয়েছে। তাই ব্যাঙ্কের নিয়মানুযায়ী অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে লিখিত ভাবে কিছু জানানো হয়নি। চেকটি যে অ্যাকাউন্ট থেকে কাটা হয়েছিল, সেখানেই চেকে উল্লেখ করা টাকার অঙ্ক ফিরিয়ে দেয়ার কথা জানানো হয়। বুধবার ৩৫ হাজার টাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হয়। প্রশ্ন উঠেছে, অ্যাকাউন্ট না খোলা গেলে চেক কেন ভাঙানো হবে? সে ক্ষেত্রে চেক গ্রাহকের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার কথা।

মহিমবাবুর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সাতসকালে তার মোবাইলে একটি মেসেজ ঢোকে। তাতে বলা হয় বেসরকারি ব্যাঙ্কে খোলা নতুন অ্যাকাউন্টে কিছু টাকা জমা পড়েছে। কিছু ক্ষণের মধ্যেই একের পর এক মেসেজ ঢুকতে থাকে। প্রায় ৪০০টি মেসেজ ঢোকে। ‘‘সব মিলিয়ে জমা পড়া টাকার পরিমাণ ৮০ কোটি!’’ বলছেন মহিম।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা বাজতেই তড়িঘড়ি মহিম সখেরবাজারের ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে হাজির হন। কিন্তু দুপুর ২টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখলেও কেউ তার কথা শোনার জন্য ছিলেন না বলে অভিযোগ। পরে বিষয়টি শুনে এক ব্যাঙ্ককর্মী তার এটিএম কার্ড ও পিন নষ্ট করে দেন। এর পরেই হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ জানান মহিম।

ব্যাঙ্ক-জালিয়াতি দমনে বিশেষজ্ঞ গোয়েন্দা অফিসারেরা বলছেন, কালো টাকা পাচারের কৌশল হিসেবে এই ধরনের কায়দা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে মহিমবাবুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য ও সই দুষ্কৃতীদের কাছে পাচার হয়ে গিয়ে থাকতে পারে। এই ঘটনায় ব্যাঙ্ককর্মীদের একাংশ জড়িত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ। যদিও শুক্রবার ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কের সখেরবাজার শাখায় যোগাযোগ করা হলে বলা হয়, কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটির জন্যই এমন ঘটনা ঘটেছে। ব্যাঙ্কের হয়ে যে সংস্থা জনসংযোগ করে, তারা ই-মেল মারফত জানিয়েছে, গ্রাহকের তথ্য নিরাপদ রয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫