শেষ ভাষণে কী বললেন মার্কেল?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

নির্বাচনের আগে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা ম্যার্কেল তার চূড়ান্ত ‘স্টেট অফ দ্য নেশন' ভাষণ দিয়েছে। সেখানে মধ্যমপন্থা ও ঐকমত্যের ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশংসা করেছেন ‘বৃহৎ জোট' সরকারের।

মাত্র দুই দিন আগে মার্কেল তার একমাত্র টেলিভিশন বিতর্কে প্রতিপক্ষ মার্টিন শুলৎসকে পর্যুদস্ত করেছেন। জার্মান সংসদের শেষ অধিবেশনে ম্যার্কেল অর্থনীতি দিয়ে তার ভাষণ শুরু করেন। বলেন, বর্তমানে কর্মসংস্থান সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে; জার্মানি আজ সারা ইউরোপের ঈর্ষার পাত্র।

ডিজেলগেট কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কেল জানালেন, সরকার একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ বাড়াবেন, অপরদিকে তেমন বৈদ্যুতিক গাড়ির চল বাড়ানোর চেষ্টা করবেন – তবে ডিজেল মোটর নিষিদ্ধ করার কোনো প্রশ্ন উঠবে না।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রে জার্মানির আরো বেশি উদ্ভাবনপ্রয়াসী হয়ে ওঠা প্রয়োজন বলে জানালেন মার্কেল। ‘‘আমরা প্রযুক্তির সংগ্রহশালায় পড়ে থাকতে চাই না, আমরা পথিকৃৎ হতে চাই'', বললেন ম্যার্কেল।

আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ
উত্তর কোরিয়া সমস্যার শুধুমাত্র ‘‘শান্তিপূর্ণ, সংলাপভিত্তিক সমাধান'' সম্ভব, বলে মার্কেল মনে করেন। তবে তিনি বিশ্বের অপরাপর নেতৃবর্গের সঙ্গে উত্তরোত্তর অর্থনৈতিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে প্রস্তুত।

মার্কেল তুরস্কের বিরুদ্ধে তার সমালোচনার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, দেশটি ‘‘আইনের শাসন থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে৷'' তিনি পুনরায় আংকারার প্রতি অবৈধভাবে ধৃত জার্মান নাগরিকদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, তুরস্কের ইইউ-তে যোগদান সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা মুলতুবি রাখা অথবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া সম্বন্ধে তিনি তার ইইউ সতীর্থদের সাথে শলাপরামর্শ করবেন।

উদ্বাস্তু প্রসঙ্গে মার্কেল উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে সহযোগিতার প্রচেষ্টা করবেন বলে জানান, যদিও ‘‘আমাদের এখনও ওদের সোথে কথাবার্তা বলতে হবে।'' অপরদিকে ‘‘জার্মান সংসদে সিদ্ধান্ত নিয়েই যে আমরা দুনিয়া বদলে দিতে পারব, এমনটা ভাবার কোনো অর্থ হয় না।''

মার্কেলের তথাকথিত ‘গ্র্যান্ড কোয়েলিশন'-এর যে (এযাত্রা) অন্ত ঘটতে চলেছে, তার লক্ষণ স্পষ্ট। মার্কেলের ভাষণ চলাকালীন এসপিডি সংসদ সদস্যরা বারংবার সোচ্চার দাবি তোলেন যে, সরকারের কৃতিত্বের অনেকটাই সামাজিক গণতন্ত্রীদের প্রাপ্য।

মার্কেলের স্নেহময়ী মাতৃসুলভ প্রতিক্রিয়া, ‘‘আমি জানি না, আপনারা কেন এটা করছেন। আমরা দুইপক্ষ মিলে যা করতে পেরেছি, সেজন্য আপনাদের খুশি হওয়া উচিত। চলুন আমরা এই জোটের কৃতি উদযাপন করি, যা বহুক্ষেত্রেই সফল হতে পেরেছে।''

আক্রমণাত্মক এসিপিডি
সামাজিক গণতন্ত্রীদের সংদীয় গোষ্ঠীর নেতা টোমাস ওপ্যারমান একদিকে ন্যূনতম মজুরি, অন্যদিকে বড় বড় কোম্পানির পরিচালকমণ্ডলীতে মহিলাদের কোটা চালু করার কৃতিত্ব পুরোপুরি তার দলের জন্য দাবি করেন। সামাজিক গণতন্ত্রীরা পেনশনভোগী ও মহিলাদের জন্য আরো অনেক কিছু করবে, বলে ওপ্যারমান ঘোষণা করেন। ওপ্যারমান ম্যার্কেলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘দেশের এমন একজন চ্যান্সেলর দরকার, যিনি সামাজিক গণতন্ত্রী আদর্শে কাজ করবেন। আমি আপনার মধ্যে সে ধরণের সাহস দেখি না।''

ওপ্যারমান পররাষ্ট্রনীতির বিষয়টি বাদ রাখেন, কেননা গত চার বছর ধরে জোট সরকারের পররাষ্ট্র দফতর ছিল সামাজিক গণতন্ত্রীদের হাতে।

গাব্রিয়েল বনাম মার্কেল
জোট সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কেলের ডেপুটি চ্যান্সেলর সিগমার গাব্রিয়েল গোড়ায় মার্কেলকে তার ‘‘ন্যায্য'' সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানালেও, পরে দাবি করেন যে, এসপিডি-র সহযোগিতা ছাড়া ম্যার্কেল অনেক ক্ষেত্রে তার অবস্থান নিতে পারতেন না, কেননা তার নিজের রক্ষণশীল দলের একাংশ সেই অবস্থানের বিরুদ্ধে যেত।

গাব্রিয়েলের মতে বিদায়ী জোট সরকারের একটি বড় সাফল্য হলো, উদ্বাস্তু সঙ্কট, ব্রেক্সিট ও ট্রাম্পের নির্বাচনের মতো ঝড়ঝাপটা সত্ত্বেও জার্মানি ‘‘তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল'' থাকতে পেরেছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.