ঢাকা, মঙ্গলবার,২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আমেরিকা

এবার ইরমা আঘাত হানলো পুয়ের্তো রিকোয়

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ১০:৫৫ | আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ১১:১৭


প্রিন্ট

পুয়ের্তো রিকোয় হারিকেন ইরমার আঘাতে কমপক্ষে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার কর্মকর্তা কর্লোস আসিভেদো বলেন, ‘হারিকেন ইরমা পুয়ের্তোর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।’

তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু জানাননি।

এর আগে শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট কয়েকটি দ্বীপ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বুধবার বিকেল পর্যন্ত পাঁচ মাত্রার এই ঘূর্ণিঝড়ে কমপক্ষে নয়জন মারা গেছেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) স্কেলে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় হার্ভির চেয়েও এটি বেশি ধ্বংসলীলার সমতা রাখে। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ পেরিয়ে ইরমা শনিবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্টের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগে থেকেই ‘ভয়াবহ বিপর্যয়ের’ ইঙ্গিত দেয়া ইরমা বড় ধরনের ধ্বংসলীলা চালিয়েছে অ্যান্টিগা ও বারবুড়াতে। এক হাজার ৮০০ বাসিন্দার বারবুড়া দ্বীপের ৯০ শতাংশ ‘মাটির সাথে মিশে গেছে’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী গেস্টন ব্রাউন।

ঝড়ে একজনের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছেন ব্রাউন। ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণাধীন দুই দ্বীপ সেইন্ট মার্টিন ও সেইন্ট বার্থেলেমেতেও ধ্বংসলীলা চালিয়েছে ইরমা। এখানে কমপক্ষে ছয়জন মারা গেছে বলে ফরাসি সরকার জানিয়েছে। দুই দ্বীপের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়া ঝড়টি শনি বা রোববারের মধ্যে ফোরিডায় আঘাত হানতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার আশঙ্কা করছে।

ঝড়টির গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার সময় এটি কমপক্ষে ক্যাটাগরি-৪ শক্তি ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দ্বীপটির অন্তত অর্ধেক ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অন্ধকারে ডুবে আছে বলে বাসিন্দাদের জানানো হয়েছে। আকাশ থেকে তোলা ছবিতে বারবুড়াজুড়ে ভয়াবহ বন্যার লণ দেখা গেছে। স্থানে স্থানে পড়ে থাকা গাছ, ডালপালা, চূর্ণবিচূর্ণ গাড়ি এবং অন্যান্য ধ্বংসস্তূপের উপস্থিতিও ছিল। নেদারল্যান্ডসের নিয়ন্ত্রণে থাকা দ্বীপ সাবা ও সিন্ট ইউস্তেসাশও ইরমার তাণ্ডবের শিকার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৯০ মাইল দূরের দেশ কিউবার মধ্য এবং উত্তরাঞ্চলে হারিকেন ইরমার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজধানী হাভানার বাসিন্দাদের রেশনের দোকানের সামনে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে খাদ্য, পানীয় ও জ্বালানি নিতে দেখা গেছে। হার্ভির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই তার চেয়েও শক্তিশালী ঝড়কে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে মার্কিন নাগরিকেরাও।

ফোরিডার মায়ামি-ডেড কাউন্টির এক লাখ বাসিন্দাকে উঁচু এলাকার দিকে চলে যেতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পেট্রলপাম্পগুলোতে দেখা গেছে গাড়ির দীর্ঘ সারি। ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ফোরিডা ন্যাশনাল গার্ডের সাত হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে বলে গভর্নর রিক স্কট জানিয়েছেন। রাজ্যগুলোর মধ্যে নর্থ ও সাউথ ক্যারোলাইনা জরুরি অবস্থা জারি করেছে। জর্জিয়ার গভর্নর নাথান ডেলও ইরমার য়তি কমাতে ছয়টি উপকূলীয় শহরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার বুধবার মেক্সিকো উপকূল এবং আটলান্টিক মহাসাগরে আরো দুটি শক্তিশালী ঝড় সৃষ্টি হওয়ার খবর দিয়েছে। মেক্সিকো উপকূলে সৃষ্ট কাইতাকে নিয়ে ভয় না থাকলেও হারিকেন জোসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত চলে আসতে পারে বলে আবহাওয়াবিদেরা আশঙ্কা করছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫